Full premium theme for CMS
পথিকৃৎ আকবর হোসেন
Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..
আমার নাট্যচর্চার গুরু, বরিশালে গ্রুপ থিয়েটার চর্চার পথিকৃৎ, বরিশালে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনীর প্রবক্তা- খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা আকবর হোসেন।
বরিশালে আমরা যারা থিয়েটার নিয়ে কাজ করি, তারা সবাই এ মানুষটির কাছে ঋণী। ষাটের দশকের মধ্যভাগে আমি শিশুশিল্পী হিসেবে পাড়ার নাটকে নির্দেশক পেলাম আকবর হোসেনকে। ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থানকালে তাঁর হাত ধরেই সন্ধান পেলাম শহরকেন্দ্রীক নাট্যচর্চার। গঠন করলেন খেয়ালী নাট্য ও সংস্কৃতি সংস্থা। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন শুরু হল। খেয়ালী’র প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম সম্মেলনে বিষয় নির্বাচনী কমিটির সদস্য ও প্রথম নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন তিনি।
দর্শনীর বিনিময়ে প্রথম নাট্য প্রদর্শনী- দিনের বেলায় হোগলা দিয়ে অশ্বিনী কুমার হলকে অন্ধকার করার কঠিন পরিশ্রম অথবা ’৭১ -এ বরিশাল অঞ্চলে সবচেয়ে বড় গণহত্যার স্থান, বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীর পুনর্গঠনে একটানা ১২ দিন খেয়ালী’র দর্শনীর বিনিময়ে নাট্য প্রদর্শনী- এ সবই হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে। চিরকুমার এ মানুষটি সারাজীবন নাটক নিয়ে থেকেছেন। একরোখা ও ব্যক্তিজীবনে অভিমানী এ মানুষটিকে ছেড়ে ১৯৭৭ সনে প্রথম কিছু কর্মী ‘বরিশাল নাটক’ নামের সংগঠনটি দাঁড় করালো। ১৯৭৮ সনের সেপ্টেম্বর মাসে আবার নতুন দল গঠিত হলো ‘শব্দাবলী’। চলে আসলাম এ দলে। বর্তমানে বরিশাল শহরের তিনটি প্রধান নাট্যদল খেয়ালী, বরিশাল নাটক, শব্দাবলী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আকবর হোসেন’র ভাবাদর্শে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পরে ১৯৮২ সনে তাঁর সংসার-সন্তানসম ‘খেয়ালী’ থেকে বিদায় নিতে হল অভিমানী এ নাট্যগুরুকে। তারপরও দু’টি নাটকের দল তিনি তৈরি করেছেন উদ্যমী তরুণদের দিয়ে। এরপর অমানবিক সমাজ ব্যবস্থার যাতাকলে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি। লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়ে বিগত কয়েক বছর নীরবে নিভৃতে একা একটি বিধ্বস্ত ঘরে দিন কাটাতেন ছোট ভাইদের দয়া-দাক্ষিণ্যে। মৃত্যুর পর তাঁর বাড়িতে গিয়ে সবাই দেখতে পেল, একটি ছাপড়া ঘরে তার বাস ছিল। লজ্জায় মাথা নত হয়ে গেল। মনে প্রশ্ন জাগে, মৃত্যুর পর কেন এই লজ্জা? এই লজ্জায় কার কী লাভ!
আকবর হোসেন তোমার কাজের প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।
সৈয়দ দুলাল: প্রধান, শব্দাবলী, বরিশাল