Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

দেশজ নাটক : প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ

Written by আলী যাকের.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

[গত ফেব্রুয়ারি ২০০১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিট্যুট, বাংলাদেশ কেন্দ্র আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব ও সেমিনার’। ‘শিকড়ের হোক ডানা’ এই স্লোগানের উৎসবের সেমিনারে দু’দিনে মোট তিনটি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিষয়গুলো ছিলো- ‘দেশজ নাটকের অস্তিত্বের সংকট’, ‘দেশজ নাটক: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ’ এবং ‘নতুন সহস্রাব্দে দেশজ নাটক’। ‘দেশজ নাটক: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ’ বিষয়ে আলী যাকেরের বক্তব্য প্রকাশ করা হলো থিয়েটারওয়ালা’র পাঠকদের জন্য]

আলোচনার বিষয় হচ্ছে Uses & Abuses of Indigenous Theatre. এর মধ্যে তিনটা কম্পোনেন্ট আছে। একটা ইউজ, আরেকটা এবিউজ এবং অন্যটি ইন্ডিজেনাস থিয়েটার। ইন্ডিজেনাস থিয়েটার-এর সংজ্ঞা বা অর্থ নিয়ে আমার আগের যে দু’জন বক্তা ছিলেন, তারা বেশ কনফিউজড। একজন ইন্ডিজেনাস থিয়েটারকে লোকজ নাটক হিসেবে বর্ণনা দিয়েছেন। আরেকজন দেশজ নাটক হিসেবে বর্ণনা দিয়েছেন। লোকজ এবং দেশজ’র মধ্যে একটা বিরাট পার্থক্য রয়েছে। দেশজ বলতে, দেশের সর্বত্র- সেটা নগর হোক, শহর হোক. জনপদ কিংবা গ্রাম, সবজায়গায় নাটক হয়, দেশজ নাটক বলতে তাই বোঝায়। আর লোকজ বলতে, দু’টো ব্যাপার আমাদের কাছে আসে। একটা হলো- কেবল গ্রামে যেটা অভিনীত হয়, সে হিসেবে লোকজ। আরেকটি হলো কনটেন্ট-এ লোকজ, কিন্তু ফর্ম-এ নাগরিক, কিংবা কনটেন্ট-এ নাগরিক কিন্তু ফর্ম-এ লোকজ। যেমন- আমরা যদি ইডিপাস নাটকের কথা ধরি, ইডিপাসের কনটেন্ট যদিও হাজার বছরের পুরোনো, এটি কিন্তু অত্যন্ত আধুনিক এবং এই কনটেন্ট যদিও নেমেসিস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এটিকে আমরা নাগরিক নাটক হিসেবে ধরতে পারি। আমরা একেবারেই একটা শহুরে প্রেজেন্টেশন করতে পারি, আবার এটিকে একেবারেই একটা লোকজ প্রেজেন্টেশনও করতে পারি। যদি আমরা আলবে কাম্যু’র একটা নাটক ধরি, ‘ক্রশ পারপাস’- প্রচণ্ডভাবে নাগরিক একটি কনটেন্ট। এটির যেমন নাগরিক প্রেজেন্টেশন করতে পারি আবার লোকজ প্রেজেন্টেশনও করতে পারি। সুতরাং সমস্ত ব্যাপারটা নিয়ে, লোকজ-দেশজ ব্যাপারটা নিয়ে, একটা কনফিউশন সৃষ্টি হয়েছে।
 
আমরা ধারণা, আমরা যদি ইন্ডিজেনাস থিয়েটারকে দেশজ বলি, তাহলে সামগ্রীক কর্মকাণ্ড, আমাদের দেশীয় নাটকের, এ আলোচনার ভেতরে চলে আসে। এখন মূল কথায় আসি- use এবং Abuse এর কথায় আসি। নাটককে যদি একটা শিল্পকর্ম হিসেবে ধরি, বিশেষত সৃজনশীল শিল্পকর্ম হিসেবে ধরি, তাহলে use বা ব্যবহার শব্দ ঠিক যায় না। কারণ আমরা যখন একটা ছবি আঁকি, এটি আমরা ব্যবহারিক দিক চিন্তা করে আঁকি না। এটির নন্দনতাত্বিক ব্যাপারটি প্রথমত কাজ করে, aesthetics যাকে বলি আমরা। আমরা যখন একটি গান সুর করি, বা আমরা যখন সেতার বাজাই, তখন লোকজনকে মাতানোর ব্যপারটা মুখ্য হয় না, মুখ্য হয় নন্দনতাত্বিক ব্যপারটা। এবং Abuse এর ব্যপারেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে হ্যাঁ, সৃজনশীল শিল্পকর্মকে বহন করে আজকাল নানা রকম কমিউনিকেশনের কাজ করা হয়। যেমন আমরা দেখছি, নাটককে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলবার জন্য, বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকে। এমনকি আমরা দেখেছি রাজনৈতিক কারণেও নাটককে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আমরা প্রচুর নাটক দেখেছি, বিশেষ করে পথনাটক, যার মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্রকে বিভিন্নভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা use বলতে পারি। নন্দনতাত্বিক যে প্রচেষ্টাটি আমরা করছি বা আমরা যে সৃজনশীল কর্মটি তৈরি করছি তার একটা সুদূর প্রসারী উদ্দেশ্য আছে। যেমন আমরা বলতে পারি, ‘শ্বেত কপোত’, পিকাসোর ‘শ্বেত কপোত’ The Peace, প্যারিস Civil Ware এর নেপথ্যে এটির একটি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই একটি ‘শ্বেত কপোত’-এর ছবি দিয়ে সারা বিশ্বকে শাস্তি সম্বন্ধে জাগ্রত করতে পেরেছিলেন তিনি। সারা বিশ্ব জানতে পেরেছিল যে, স্পেনে Civil Ware হচ্ছে। তো এই রকম আরো অনেক সৃজনশীল শিল্পকর্ম তৈরি হয়েছে বিশ্বের সর্বত্র, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন প্রয়োজনে। এই যে কর্ম এগুলোকে use বলা যেতে পারে। অর্থাৎ আমাদের সৃজনশীল মাধ্যমটিকে বাহন করে বিভিন্ন বক্তব্য বলি, বিভিন্ন সময়ে। ব্রেখট তার নাটকে ফর্মকে use করে সাম্যবাদের কথা বলে গেছেন। গোর্কি তার উপন্যাসকে বাহন করে সাম্যবাদের উপর কথা বলে গেছেন। আজকে আমরা বিভিন্ন কমিউনিকেশনের কাজে শিল্পকর্মকে ব্যবহার করে থাকি। সেখানে একটা use এর ব্যাপার চলে আসে। যদিও art by itself does not necessarily have to have use. কিন্তু বিশেষ উদ্দেশ্যে এটাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তো এটাকে যেমন ব্যবহার করা যেতে পারে, তেমনি এটাকে আবার অপব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন আমরা ধরতে পারি নৃত্য। নৃত্য যেমন ভরতনাট্য হয়, কত্থক হয়, ওডিসি হয়, তেমনি ক্যাবারেতে নৃত্য হয়, নাইট ক্লাবেও নৃত্য হয়। নাইট ক্লাব ও ক্যাবারের নৃত্য হলো সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে হয়। অর্থাৎ একটি ভোগ্যপণ্য হিসেবে নৃত্যকে পরিবেশন করা হয়। যার মাধ্যমে I can use it income generatioin. অর্থাৎ এটি একটি পণ্য। তো পণ্য ভার্সেস ফাইন আর্টস-এর মধ্যে পার্থক্যটাই use এবং Abuse. তো এ বিষয়ে জামিল আহমেদ সমালোচনা করেছিলেন যে, তাঁতীঁ কাপড় বোনে তা বিক্রি করবার জন্য, তেমনি আমরা যারা আর্ট সৃষ্টি করব- তা বিক্রি করবার জন্যই করবো। তো এখন আর্ট কতদূর গেলে use না হয়ে Abuse হয়ে যাবে তা আর্টিস্ট নির্ধারণ করবে এবং যারা তা ভোগ করবে তারা নির্ধারণ করবে। এ জিনিসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে আর্ট আর এবিউজ হবে না। আমি নিশ্চিত যে, জামিল এটা বলেছে Professional point of view থেকে। এটার একটা ভ্যালিডিটি আছে। আমি যদি নাটক করে খেতে পারতাম, তাহলে এটা আমার কাছে এখন সবচেয়ে সুখের খবর হতো। আমি সেটা করতে পারছি না। কিন্তু আমি কি ততদূর যাবো যেখানে আর্ট আর আর্ট থাকবে না? তাহলে এই আমি যা করি, অ্যাডভার্টাইজমেন্টের সাথে নাটকের কাজের সাথে তফাৎ কোথায়? তাই আমার শেষ কথা আর্টকে যতক্ষণ ভোগ্যপণ্য না করা হয় ততক্ষণ তা Abuse হয় না। যদি দর্শককে খাওয়ানোই কিংবা ভালোভাবে বললে দর্শকের রুচিকে যদি বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়, শিল্পীর নিজস্ব রুচির চেয়ে, তবেই তা Abuse হবে।

সবাই কে ধন্যবাদ।

[প্রবন্ধটি বক্তৃতা থেকে অনুলিখিত- সম্পাদক]

আলী যাকের: নাট্যব্যক্তিত্ব। সদস্য- নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়।