Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

প্রচলিত শিল্পরীতি পরিচয়

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

পুঁথি
পুঁথি বা পুঁথি পাঠ বাংলার চিরায়ত লোক-সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত। কোনো কাহিনী বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক কাহিনী নিয়ে বিশেষ ছন্দে রচিত পুঁথি সুর করে ঝোঁক দিয়ে পড়া হয়।

কোনো যন্ত্র ছাড়াই পুঁথি পাঠ পরিবেশিত হয। দর্শক-শ্রোতা পরিবৃত্ত হয়ে পুঁথি পাঠক পুঁথি পাঠ করেন আর দোহারীরা ধুয়া তোলেন। কাহিনীর বিশেষ বিশেষ ঘটনার বর্ণনার সময় দর্শকবৃন্দ বাহবা দিয়ে থাকেন। কখনও-বা কোনো করুণ কাহিনীর বর্ণনা শুনতে শুনতে শ্রোতা হৃদয় অশ্র“সিক্ত হয়ে ওঠে।

বরিশাল অঞ্চলে এই পুঁথি পাঠের প্রচলন সুদীর্ঘ কালের। সন্ধ্যার পর মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে আসর করে পুঁথি পাঠের দৃশ্য এক সময় বরিশালের গ্রামভিত্তিক সংস্কৃতির অন্যতম উপাদন ছিল। এ ছাড়া গয়নার নৌকার যাত্রীদের চলতি পথে মনোরঞ্জনের জন্য পুঁথি পাঠের প্রচলন ছিল।

আধুনিক কালে পুঁথি পাঠের তেমন প্রচলন নেই বললেই চলে। যাঁরা এই পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন তাঁদের মধ্যে আবদুর রশিদ খানের নাম উল্লেখযোগ্য। আবদুর রশিদের পুঁথি পাঠ দলের বয়স ৩০ বছর। তিনি বরিশাল ও বরিশালের বাইরে প্রায় ৫০০ আসরে পুঁথি পরিবেশন করেছেন। আবদুর রশিদের দলের সদস্য সংখ্যা আট। বরিশাল শহর সংলগ্ন উত্তর সাগরদীর এই পুঁথি পাঠক পুঁথি পাঠের দীক্ষা নেন তাঁর গুরু জালাল বয়াতির কাছে। যতদিন জীবিত আছেন পুঁথি পাঠ ছাড়বেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বয়াতী আবদুর রশিদ খান।

কীর্তন
বাংলা লোকজ সংস্কৃতির এক অতি প্রাচীনধারা কীর্তন। চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন অবলম্বনে পালাকীর্তন বা পালাগান পরিবেশিত হয়ে থাকে। সাধারণত ধর্মীয় সভায়ই কীর্তন পরিবেশন করা হয়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ছাড়াও মধ্যযুগের অন্যান্য কবিদের রচিত গীতি কবিতা অবলম্বনেও কীর্তন পরিবেশিত হয়। কীর্তন গায়ককে কীর্তনীয়া বলা হয়। কীর্তনীয়া সাধারণত কপালে চন্দন-তিলক এঁটে খালি গায়ে নাচের ভঙ্গিতে কীর্তন পরিবেশন করে থাকেন; আর তাঁর চার পাশে পরিবেষ্টিত থাকে ভক্ত শ্রোতৃবৃন্দ। কীর্তনীয়ার সাথে থাকেন বেশ কয়েকজন যন্ত্রী ও সঙ্গতদার। হারমোনিয়াম, মৃদংগ বা খোল, জুরি বা করতাল, দোতারা, বেহালা, বাঁশি ইত্যাদি যন্ত্রসহযোগে কীর্তন পরিবেশন করা হয়। কীর্তনের শ্রোতাদের মধ্যে মহিলাদের উপস্থিতিই বেশি।

বরিশালের কীর্তন গানের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এক সময়ে বরিশারের কীর্তনের দল বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বীরেশ্বর গুপ্ত নামে এক নায়েব-নাজির বরিশালে প্রথম কীর্তনের দল গঠন করেন। চারণসম্রাট মুকুন্দ দাশ জীবনের প্রথম দিকে এই বীরেশ্বর গুপ্তের কীর্তনের দলে নাম লেখান। পরে মুকুন্দ দাশ নিজেই কীর্তনের দল গঠন করেন। ক্রমে মুকুন্দ দাশের কীর্তনের দলে যোগ দেন রাজেন্দ্রনাথ সেন, যতীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী, নলিনীকান্ত সেন প্রমুখ। পরে এঁরা সকলে কীর্তনীয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

বরিশালের লাখুটিয়া, ঝালকাঠী, কাউখালী, কীর্তিপাশা, ভোলা প্রভৃতি স্থানে আশ্রম কেন্দ্রীক বহু কীর্তনের দল গড়ে ওঠে। আজও যারা বরিশাল অঞ্চল কীর্তনের ধারা অক্ষুণœ রেখেছেন তাদের মধ্যে গৌরাংগচরণ বালীর ‘গৌরাংগ কীর্তন সম্প্রদায়’ উল্লেখযোগ্য। ‘গৌরাংগচরণ কীর্তনের দল করেছেন ৩০ বছর। স্বর্ণকুমার বিশ্বাস গৌরাংগচরণের কীর্তন-গুরু। গৌরাংগচরণের দলের সদস্য সংখ্যা ১০। গৌরাংগচরণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বছরে অন্তত ৫০টি আসরে কীর্তন পরিবেশন করে থাকেন। কীর্তন ছাড়া তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রামায়ণ ও অন্যান্য গান পরিবেশন করেন।

যাত্রা
যাত্রা বাঙালি সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যময় ধারা। ঠিক কবে থেকে যাত্রার শুরু হয়েছে তা স্থির করে বলা কঠিন। তবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানই যে যাত্রার উৎস তাতে কোনো সন্দেহ নেই। গৌরীশংকর ভট্টচার্য তাঁর বাংলা লোকনাট্য সমীক্ষা গ্রন্থে মন্তব্য করেন “দেবদেবীর পূজা উপলক্ষে শোভাযাত্রার ব্যবস্থাও হইত। দোলযাত্রা, রথযাত্রা, মাঘী সপ্তমীর øানযাত্রা, দশহারা প্রভৃতি ইহার সাক্ষ্য বহন করিতেছে। এই শোভাযাত্রায় নৃত্যগীতযোগে দেবমাহাত্ম্য কীর্তিত হইত। প্রাচীনকালে এই জঙ্গম উৎসবকে বলিত যাত্রা।” যাত্রায় ক্রমশ কাহিনী এবং অভিনয় প্রাধান্য পেতে থাকে, এবং সে থেকে যাত্রা ‘গীতাভিনয়’ নামে পরিচিত হতে থাকে। পরে সামাজিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যাত্রার পালাবদল ঘটে। দেব দেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনার পরিবর্তে ক্রমশ যাত্রায় এসেছে মানব বন্দনা। এসেছে সমাজ, দেশ, দেশের, মানুষ, মানুষের সমস্যা, সে সমস্যা সমাধানের উপায়, করণীয় ইত্যাদি। এই পর্যায়ে যাত্রা নতুন নাম গ্রহণ করেছে- হয়েছে স্বদেশী যাত্রা। স্বদেশী যাত্রার প্রবর্তক ও প্রচারক চারণকবি মুকুন্দ দাশ।

কবিগান
খোলা মঞ্চে দুজন কবিয়াল গান গেয়ে একে অপরকে প্রশ্ন করে এবং উত্তর দেন। কবিগানের তিনটি পর্ব থাকে- প্রথম পর্বে বন্দনা বা ভূমিকা, দ্বিতীয় পর্বে প্রশ্ন উত্তর এবং তৃতীয় পর্বে পরস্পরের প্রশ্নের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাত্ম হয়ে মিলন পর্ব।

বাজনাওয়ালা এবং দোহারী আরো প্রাণবন্ত করে তোলে কবিগানকে।

লোক শিল্প সংস্কৃতির নানা রীতির চর্চার মাধ্যমে গ্রামদেশের মানুষজন তাদের জীবন যাপনের বহুমুখি শিক্ষা অর্জন করে থাকেন। কবি গানও সেই রকম একটি লোকরীতি।

জারীগান
জারীগান এদেশের মানুষের বিশ্বাস, সংস্কার। একজন কৃষক বা খেতমজুর সুর দিয়ে বেধে দলীয়ভাবে গাওয়া হয়। একজন মূলগায়ক হিসেবে গান ধরেন, সাথে থাকেন দোহারী যাঁরা গানের মাঝে মাঝে সমবেতভাবে সুর ধরেন। অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী এই সুর মানুষকে কাজে অনুপ্রাণিত করে থাকে, যেমন কোনো বাড়ির ছাদ নির্মাণের সময় মজুররা যখন ছাদ পেটায় আর সুর ধরে। এখানে একতারা, চোখ, চাকি প্রভৃতি বাদ্য যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

রয়ানী
মধ্যযুগের বরিশালের কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন বিজয়গুপ্ত (১৫শ-১৬শ শতাব্দী)। গৌড়ের নবাব হুসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৪-১৫২৫) মনসাদেবীর গুণমাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে বিজয়গুপ্ত তাঁর বিখ্যাত ‘পদ্মাপুরাণ’ গ্রন্থ রচনা করেন।

এই কাহিনী পদ্মাপুরাণ, মনসামঙ্গল বা বিজয় গুপ্তের পাঁচালী নামেও পরিচিত। শ্রাবণ মাসে অনেক পরিবারে নিয়মিত সুর করে পঠিত হত এই কল্পকাহিনী। অনেকে বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাবার জন্য, সন্তান লাভের আশায় কিংবা বণিকদের বাণিজ্যে প্রসারের জন্য রয়ানী গান এবং সেই সাথে মনসার পূজা মানত করত। বহু লোকের এসব মানত রক্ষা করতে সে সময়ে ফুল্লশ্রী এলাকায় বেশ কয়েকটি রয়ানী দল গড়ে ওঠে। তারা সম্মানীর বিনিময়ে রয়ানী গাইত। ক্রমশঃ এই গান বরিশাল জেলার উজিরপুর, নাজিরপুর, বানারীপাড়া ইত্যাদি অঞ্চল ছাড়িয়ে ফরিদপুর, খুলনা হয়ে প্রায় সমস্ত পূর্ববঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।

রয়ানী একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় গীত পালাগান। একজন হাত নেড়ে নেচে গান ধরেন, আর দোহারীরা তার সাথে ধুয়া তোলেন। দলপতির দু হাতে থাকে দুটি চামর। সাধারণত বিধবা মেয়েরাই রয়ানী গেয়ে থাকেন। রয়ানী গাইলে সধবা মহিলা এবং পুরুষদের ক্ষতি হতে পারে এমন ধারণা প্রচলিত থাকায় বোধকরি তারা রয়ানী গাওয়া থেকে বিরত থাকেন। রয়ানীর জন্য কোনো বিশেষ সজ্জার প্রয়োজন হয় না। সাধারণ পরিচ্ছদেই এই গান পরিবেশন করা হয়।

বরিশালের লোকঐতিহ্যের ধারক রয়ানী গান আজ বিলুপ্ত প্রায়। ত্রিশের দশক থেকে বরিশাল জেলার উজিরপুর এলাকায় যাঁরা রয়ানী গানের দলের সাথে জড়িত ছিলেন এঁদের মধ্যে লাবণ্য, আয়না, সুচিত্রা এবং পুস্প প্রমুখের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। আয়না সত্তর দশকে লোকান্তরিত হয়েছেন।

সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের লোকসংগীতের এই ধারাকে আজও যাঁরা বাঁচিয়ে রেছেন তাঁদের মধ্যে সুচিত্রা সর্বাগ্যের নাম এই এলাকায় প্রবাদতুল্য। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক ধরে রয়ানীর জগতে সুচিত্রার বিচরণ।

এই দলের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০। এর মধ্যে ছয়জন যন্ত্রী পুরুষ আর গায়িকা চারজনই মহিলা। গায়িকাদের মধ্যে আছেন সুচিত্রা সর্বাগ্য (দলপতি), বিল্লো, সুবাসিনী ও রাসমনি। যন্ত্রীরা হলেন অজিত (বাঁশী), ক্ষিরোদ (খোল), রাজেন (হারমোনিয়াম), নিমাই (বেহালা)।

অষ্টক গান
মধ্যযুগীয় সাহিত্য কিম্বা হিন্দুধর্মীয় উপাখ্যান নিয়ে গড়ে উঠেছে এর প্রতিপাদ্য। অনেকে অতীতে একনাগাড়ে অষ্টম রজনী গীত হওয়ার পর এই সঙ্গীতের অনুষ্ঠান শেষ হতো বলে মনে করেন। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা- অষ্টকগানের কাহিনী। কৃষ্ণের যে অষ্টসখী ছিল, তাঁদের সাথে কথোপকথন ও গান এর ওপর ভিত্তি করে প্রেম বিরহের বর্ণনা পরিবেশন হয়। খোলা মঞ্চে একজন করে পুরুষ চারজন করে মেয়ে ঘুরে নেচে অভিনয় করে, সাথে থাকে হারমোনিয়াম, জুরী, বাঁশী, ঢোল, তবলা প্রভৃতি বাদ্য যন্ত্র। কুষ্টিয়ার খোকসা ও ফরিদপুর অঞ্চলে কোনো কোনো পরিবার ধরে রেখেছে এই রীতিচর্চা।

বারসী
বার মাসের গান বারসী। জমিতে ফসল চাষ করা থেকে ফসল কাটা, মহাজনকে ফসলের ভাগ দেয়া, নিজের ভাগ নেয়া এবং তারপর বিয়ে করা পর্যন্ত একজন গরীব চাষীর হাসি-কান্না-দুঃখ-জ্বালা নিয়ে গড়ে উঠেছে বারসী। খোলা মঞ্চে গান গেয়ে অভিনয় করে নেচে নেচে বারসী উপস্থাপিত হয়ে থাকে। উত্তর অঞ্চলে এর প্রচলন রয়েছে। তবে কোথায় কীভাবে প্রথম শুরু হয়েছিল তা আজ আর কেউ বলতে পারে না।

গাজীর গীত
সুন্দরবন অঞ্চলের কাহিনী। মাইচম্পা, গাজী ও কালু এদের নিয়ে গীত হয় এই গান। এর সুর ও উপস্থাপনা অনেকটা বর্ণনাধর্মী। কাহিনীকে উপস্থাপন করা হয় গানের ভেতর দিয়ে। ঢোল, জুড়ি, দোতারা, হারমনিয়াম ব্যবহার হয় গানটির সাথে।

গাজী- ‘বিরাট’ নগরের রাজার সন্তান। তিনি আধ্যাত্মিক ও মানব প্রেমকে গ্রহণ করে গৃহত্যাগ ও বৈরাগ্য গ্রহণ করেন। তাঁর জীবন আলেখ্য নিয়ে গ্রাম বাংলার মানুষ গান বাঁধেন, কালুরগাজী ও মানিকপীর ইসলাম ধর্মের আচার রীতিতে প্রভাবিত। গানের মধ্যে দিয়ে খণ্ড খণ্ডভাবে কাহিনী যেভাবে এগিয়ে যায় সেইভাবে গায়করা নিজেরাই অভিনয় করে থাকে।

পদ্মাপুরাণ ও ভাসান
কালুর গাজী ও মানিকপীরের মতই পদ্মাপুরাণ ও ভাসান উপস্থাপিত হয়। কিন্তু এই কাহিনী গড়ে উঠেছে বেহুলা লখিন্দর নদের চাঁদ-এর জীবন আলেখ্য নিয়ে।
পাল্কী গান
পাল্কী কাঁধে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া, বর কনেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়-এ গানে ব্যবহৃত হয়। নুপুর আর চটা দিয়ে সঙ্গীত করা হয়। ৪/৫ জন পুরুষই সাধারণত এই গানের গায়ক। গোপাগঞ্জ, ফরিদপুর, তালা, সাতক্ষীরা প্রভৃতি অঞ্চলে এ গানের প্রচলন আছে।

বিয়ের গীত
বিয়ের অনুষ্ঠানে আদিকাল থেকেই এই গীতের প্রচলন। প্রবীণরাই এ গীত গেয়ে থাকেন। তবে নবীনরা প্রবীণদের সঙ্গে থেকে মুখস্ত করে এবং এভাবেই নবীন প্রবীণ সমন্বয়ে এ গান বিয়ের আসরে পরিবেশিত হয়। এক এক অঞ্চলের বিয়ের গীত সেই অঞ্চলে প্রচলিত লোক সুরেই গাওয়া হয়ে থাকে।

বিচার গান
বিচার গান কবির গানের মতন এক প্রকার বিতর্কমূলক লোকরীতি। কমপক্ষে ছয়জন দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে গান পরিবেশন করে থাকেন। সারিন্দা, ঢোল, আড়বাঁশী, মন্দিরা, চটা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র এই গানে ব্যবহৃত হয়।

বেদের গীত
ঢাকা, সাভার, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর এইসব নদীবহুল এলাকায় যাযাবরের মত বেদের বহর ঘোরে। সাধারণ সাপের খেলা দেখানোর সাথে সাথে এর নানা রকমের গীত নৃত্যাদি করে থাকে। এদেরই জীবনালেখ্য এই বেদের গীত। বাংলার লোক সমাজে বেদের গীত অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে বলা চলে।

লালন গীতি
মানব প্রেম, জাতিভেদ ও ইহজাগতিক বিষয়ে বিশ্বাসী লালনের অনন্য সংগীত ধারা- কথা ও সুরের গভীরতায় ছুঁয়েছে বাংলার মানুষের মন ও মনন। লালন বাঙালির এক শ্রেষ্ঠ সাধক লোককবি।

ব্রতচারী
জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দ- এই পাঁচ মাত্রা শুরু সদয় দত্তের ব্রতচারী গানের ভিত্তি। গানের সাথে সাথে বিভিন্ন নাচের মূদ্রার ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই গানে। মানব জীবনের পূর্ণতা, সফলতা, সার্থকতার লক্ষ্যে পাঁচ মাত্রার এ ব্রত পালন করেন ব্রতচারীগণ। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামীদের এক অংশ মনোযোগ সংযোগ, শরীর গঠন ও দেশপ্রেম একাগ্রতা শিক্ষাপেত এই ব্রতচারী জীবনাদর্শ অনুশীলনের মাধ্যমে।

রামায়ণ গান
পৌরণিক কাহিনীর সাথে আমাদের জীবনের যে কতখানি মিল রয়েছে রামায়ণ গান তার উদাহরণ। মূলত সনাতনী ধর্মের বিষয়বস্তু নিয়ে এই লোকজ শিল্পটি গড়ে উঠেছে। প্রধানত একজন গায়ক মুল গায়ক হিশেবে কীর্তন শুরু করে। গান গেয়ে গেয়ে কাহিনীর বর্ণনা দিয়ে যায় এবং একটা বিশেষ তালের সাথে নেচে নেচে উপস্থাপন করে। মূল সুরটাকে দোহারী বলে, উলু ও কাঁসা বাজিয়ে পরিবেশ ও হৃদয়কে আলোড়িত করে তোলে।

সাঁওতাল নৃত্য
সাঁওতালদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে এই নৃত্য পরিবেশিত হয। নারী-পুরুষ মিলে এই নৃত্য পরিবেশন করে থাকে।

গম্ভীরা
গম্ভ^ীরা বাঙলাদেশের উত্তর অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় লোকনাট্য রীতি। এর কাহিনী মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনা নিয়ে হলেও একজন নানা ও নাতি সরসভাবে তা উপস্থাপন করে থাকে। মঞ্চে নানা নাতি নেচে নেচে গম্ভীরা পরিবেশন করে থাকে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এই রীতির মাধ্যমে সহজেই যেকোনো বিষয় উপস্থাপন করা যায়।

বি.দ্র : লেখাটি বাঙালি সংস্কৃতি উৎসব ১৩৯৯ এর স্যুভেনির থেকে পুনর্মুদ্রণ করা হলো