Full premium theme for CMS
ঢাকা ঢাকা ডাক পাড়ি ।। ঢাকা গেছে কার বাড়ি [২]
Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..
চাটমোহর সমন্বয় থিয়েটার : খোয়া-যাওয়া কল্পনার এক দল- আজও দেখি বর্তমান
[স্বাধীন বাংলাদেশের ৩৫বছরের নাগরিক থিয়েটার নিয়ে কথা উঠলে তাবৎ পাতা জুড়ে থাকে ঢাকা কেন্দ্রীক নাট্যচর্চা। নিয়মিত নাট্যচর্চার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঢাকার বাইরে কতটুকু হয়েছে, তার কতটুকু খবরই-বা আমরা রাখি? থিয়েটারটাকে নিয়ে এখন যদি কিছু ভাবতে হয়, নতুন কিছু ভাবতে হয়, তাহলে প্রয়োজন দেশের যেখানে যেখানে থিয়েটার নিয়ে বিভিন্ন ভাবনা ইতোমধ্যেই এসেছে, তার সবগুলোর সাথে পরিচিত হওয়া। এ লক্ষ্যেই থিয়েটারওয়ালার পক্ষ থেকে বিপ্লব বালা এবং সম্পাদক হাসান শাহরিয়ার উপস্থিত হয়েছিলেন পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ‘সমন্বয় থিয়েটার’র কর্মকাণ্ড দেখতে। ছোট্ট পরিসরে বড় স্বপ্ন নিয়ে ১৬ বছর ধরে গ্রাম-বাংলার জনপদে, তাদেরই থিয়েটার করে যাচ্ছে ‘সমন্বয় থিয়েটার’। সেখান থেকে ফিরে এসে থিয়েটারওয়ালা’র পাঠকদের জন্য বক্ষমান প্রবন্ধটি লিখেছেন বিপ্লব বালা।- সম্পাদক]
চাটমোহর মুক্ত নাটক দলের কথা আরণ্যক নাট্যদলের অনেকের মুখে শুনতাম গত শতকের নব্বুয়ের (নাকি আশির) দশকে। অনেক জায়গায় মুক্ত নাটক হচ্ছে তখনও। আরণ্যকের কর্মীদল গ্রামে গিয়ে গড়ে তুলতো একেক দল। তাদের অনেকের মুখে মুখে ফিরতো চাটমোহরের কথা। সবজায়গায়তো একরকম হতো না। তার মধ্যে কোনো কোনো জায়গায় কোনো এক দলের নাম উঠে আসতো। যেমন গ্রাম থিয়েটার বলতে রাজশাহীর পুঠিয়ার কথা শোনা যেত বেশি। সেখানকার দুলালের কথা বলতে শুনতাম গ্রাম থিয়েটারের অনেকের মুখে। তেমনি শোনা যেতো চাটমোহরের কথা। সেখানে নিয়মিত চলতো মুক্তনাটক। মাঝে মাঝে বড় করে উৎসব করতো তারা। মামুন ভাই (মামুনুর রশীদ) যেতেন, সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন যেতেন। হাসান আজিজুল হকও গেছেন বোধহয় কোনো এক উৎসবে। শুনতাম সেখানকার দুলাল, আসাদুজ্জামান দুলাল, মূল সংগঠক- নাট্যকার- নির্দেশক, তার কথা। স্বদেশবন্ধু সরকারের কাছে আরো বেশি শুনি চাটমোহরের কথা। সেই দলে কাজ করতো সে। গ্রাম জুড়ে নানা জায়গায় অভিনয় হতো। বাড়ির উঠানে উঠানে। গ্রামের মানুষ নাকি মেতে উঠতো নাটক দেখতে। ছোট বুড়ো, বাড়ির বউ-ঝিরাও কাজ সেরে হাজির হত সেখানে। আর উৎসব হলে নাকি সাজ সাজ রব উঠতো গ্রামে। গ্রাম-সমাজে মুক্ত নাটকের একটা ভিত্তিই দাঁড়িয়ে গেছিল চাটমোহরে। নানা পেশার ছেলেমেয়েরা তাতে যুক্ত ছিল। ছাত্র-ক্ষেতমজুর-রিকশাওয়ালা-ছোট ব্যবসায়ী। ভাবতে অবাক লাগতো সত্যিই এমন হচ্ছে! স্বদেশবন্ধুর কথা হলো- এরা গ্রামে থেকেই কাজটা করতে চায়- দুদিনের সখে কেবল নয়। শহরে যাওয়ার ফিকির বেশিরভাগজনের নেই। আরণ্যকের মুক্ত নাটক দলের কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল নয় তারা। নিজেদের গরজেই করছে তারা নাটক। নাটকের একটা নেশা তো অনেকের থাকে সত্যি। গ্রামেও কতরকম সব আচার-অনুষ্ঠান-উৎসব, যাত্রা গানবাজনা অভিনয়ের নানা রীতি চিরকালই আছে। তার সাথে মঞ্চনাটকেরও চর্চা অনেকদিনের। এর মধ্যে মুক্তনাটকও খাপ খাওয়ানো গেছিল চাটমোহরে। গ্রামের আর-পাঁচটা রীতির সাথে নতুন এই নাটক ভালোই মিশ খেয়েছিল। যারা করছিল তারা তা মনের আনন্দে, নিজেদের গরজেই করছিল। হঠাৎ কোনো হুজুগে মেতে নয়। -শহরের আমাদের এসব বিশ্বাস করা কঠিন। আমরা জানি ভারতের হাবির তানভীরের কথা। তার খুব নাম হবার পর। এন.এস.ডি.র কেউ কেউ দেশে ফিরে তাদের এলাকায় কিছু করার কথা ভেবেছেনও। তা সে ভাবাই সার হয়েছে। সত্যিই তো আমাদের কোনো শেকড় নেই কোথাও। তাই এসব ভাবনা সৌখিন কল্পবিলাস মাত্র হয়ে থাকে। আমাদের কাছে তাই মিথ হয়ে থাকেন কেবল একজন হাবিব তানভীর, রতন থিয়াম কি কানাইলাল। স্বদেশে যেমন কিংবদন্তী ছিলেন আরজ আলী মাতুববর, এস. এম. সুলতান। পালাকার কুদ্দুস বয়াতী কিছুদিন ছিলেন এমন প্রায় মিথ- তারপর তো তিনি আজ বাজারের স্থূল ভাঁড় এক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে কমলারাণীর সাগরদীঘি করে ও করিয়ে ইসলাম উদ্দিন ঢাকার নাট্যজনের কাছে সম্মান পেয়েছেন। তাকে নিয়েও এখন লোকনাট্য কর্তাদের মধ্যে দখলদারির খেলা চলছে। তার আত্মজীবনী এক উঠতি সত্বাধিকারী লিখিয়ে, তার নামে করিয়ে মাত করতে চাইছে নাট্যবাজার। আমাদের হাতে পড়লে কারো আর রক্ষা বুঝি নেই- তাকে কব্জা করে ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে যাবো। লালনকে নিয়ে, জসিম উদ্দিনকে নিয়ে যেমন চলছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি নির্মাণ-কলার ক্ষমতা-যোগানদারি। আধিপত্য আগ্রাসনের এই তো চিরকালের লীলা। যাক সে কথা।
সিরাজগঞ্জ কলেজে গত বছর এক নাট্য কর্মশালা করা হয়। সেখানে ঐ এলাকার নানা নাট্যরীতির পরিচয়ের কথা ভাবি। তখন মনে পড়ে কাছাকাছি পাবনার চাটমোহরের নাট্যদলের কথা। বন্ধুবর কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে। স্বদেশবন্ধু সরকারও তো এখন চাটমোহরের পাশের গ্রামে বছর কয়েক ধরে ছোটদের স্কুল করেছে ‘শিশুতীর্থ’। সেও তো নিয়মিত প্রায় যুক্ত চাটমোহরে দুলালদের নাট্যদলের সঙ্গে, যেমন গল্পকার মামুন হুসাইনও যুক্ত। চাটমোহর মুক্তনাটক দল গঠিত হয়েছিল উনআশিতে। নানা পেশার মানুষ নিয়ে আরো ৬টি মুক্তনাটক দল গড়া হয়েছিল। মুক্তনাটক দল এখনতো আশেপাশে সেভাবে আর নেই। চাটমোহরেও তারা মুক্তনাট্য দলের নামে কাজ করে না। এখন তারা নাম নিয়েছে ‘সমন্বয় থিয়েটার’। দু’ধরনের নাটক তারা করে- কমবাইন ফর্ম আর লিটল ফর্ম। তাদের আদর্শ চল্লিশের দশকের সেই গণনাট্য আন্দোলন। সেই ভাবনায় তারা মুক্তনাট্যকর্ম করেছেন। রাজনীতি আর শিল্পের একটা মেলবন্ধন তাদের আদর্শ। কেবল রাজনীতি নয়, নয় কেবল শিল্প আঙ্গিকের নন্দন। এই ধারায় সমন্বয় থিয়েটারের সূচনাকালে তাদের বিবেচনা হলো-
* এই কাজটিকে বড় করে বাঁচানোর দায়বদ্ধতায় ভালোবাসা দিয়ে সততার মার্জিনে কেউ লেগে থাকে নি।
* কেউ কেউ কিছু দূর এগিয়ে হাল ছেড়েছেন হতাশায়। ব্যক্তিস্বার্থে ব্যক্তি নামের মোহে অথবা নিজেকে বিক্রি করে ভিন্নযুক্তিতে পেশাদারী হবার লক্ষ্যে।
* গণনাট্যনীতি পাশ কাটিয়ে ঢুকে গেছেন গ্রুপ থিয়েটার অথবা মিডিয়া রুমে।
* নাটক প্রয়োগনীতি, আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, শিল্পভাবনার কৌশলে নিচুমানের রাজনীতি ব্যবহার।
* নাটক প্রদর্শনীর স্থলে, কাল এবং প্রকৃত দর্শকদের ভাবনা নিয়ে গবেষণার অভাব। নিজেদের বৈষয়িক জীবনের সীমাবদ্ধতা।
তাদের মতে ‘গণনাটক এবং দর্শক হয়ে উঠছে স্থূল। পাণ্ডুর। দিনে দিনে শিল্পসত্তা খুইয়ে ভগ্ন স্বাস্থ্য নিয়ে চলছে অথবা অপমৃত্যু। আমরা চাটমোহরে দশ বছর মুক্তনাটক আঙ্গিকের সাথে কাজ করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছি আমাদের মত করে। কোনো আঙ্গিককে ছোট করে উড়িয়ে দিতে চাচ্ছি না। শুধুমাত্র উল্লেখিত দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে মুক্ত নাটকের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে গণনাটকেরই একটি আঙ্গিক দাঁড় করাচ্ছি। ১৯৯৬ সালে আলাদাভাবে সাংগঠনিক ভিত্তিতে এগিয়ে যাবার সূচনা ঘটে। ... দেশের তথা বিশ্বের প্রচলিত অপ্রচলিত নাট্য আঙ্গিক নাট্যরীতি ভেঙে হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে নিজস্ব স্থান, কাল জ্ঞানে নতুন একটি মাত্রা নির্ণয়ে সমন্বয় ঘটাবে এবং প্রয়োগ ঘটাবে। কাহিনী, সংলাপ, কসটিওম, অভিনয় কৌশল, সর্বোপরি প্রয়োগ ভাবনায় যুক্ত হবে বিচিত্রতা। যা অন্য পাঁচটি নাটক থেকে আলাদা।’ এছাড়া তাদের ঘোষিত নীতি হলো-
* মানুষের হাজার বছরের লোকজ কথা, চিন্তা, ধারণা, ব্যবহারবিধি, জীবন-যাপন আজ অথবা আগামী দিনের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ ঘটাবে যা মানুষের বোধের জগতে নতুন সেতু নির্মাণ হবে।
* সমন্বয় থিয়েটার কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্র-ছায়ায় থাকবে না। তবে গণমানুষের মুক্তি পথ গড়ে তোলার নির্দিষ্ট শিল্পসত্তার স্বতন্ত্র ধারা গড়ে তুলবে।
* প্রতি শো শেষে নিদেনপক্ষে পাঁচজন দর্শকের সঙ্গে বসে আত্মউপলদ্ধি বিনিময় করবে।
* প্রোডাকশন ছোট হোক বা যত বড় হোক লিখিত অথবা অলিখিত হোক সেটা শিল্প এবং রাজনীতি বিশ্লেষণে উত্তীর্ণ হতে হবে।
* নাটকের সেট মিউজিক-সহ আনুষঙ্গিক বিষয়ের উপর ক্ষুরধার দৃষ্টি থাকবে। কোনোক্রমেই নাটকের বিষয়বস্তুর চেয়ে যেন প্রাধান্য না পায়। সেই সাথে দর্শকের চাহিদা স্বরূপ যেন ভিন্নমুখী করে না তুলে।
* এক একটি প্রোডাকশন ভীষণ আলাদা সত্তা বয়ে আনবে। কসটিউম, মঞ্চ, ইমপ্রোভাইজেশন, ভাষা, সর্বোপরি কাহিনীতে থাকবে নতুনতর চমক।
* ইলেকট্রনিক মিডিয়া বর্জন করে সীমিত খরচে একটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। শো শেষে হাত পেতে দর্শকের কাছে তা পূরণের চেষ্টা থাকবে।
সমন্বয় থিয়েটার কেবলমাত্র পিপলস থিয়েটারের নতুন পরীক্ষামূলক একটি আঙ্গিক মাত্র। ... মানুষের ভাবনার অবকাশে খোলা নাটকের যে স্থূলতা ঘুরপাক খাচ্ছে কিছু হলেও সমন্বয় থিয়েটার নতুন মাত্রা ভাবনা জ্ঞানে বিশুদ্ধতা আনবে’।
তবে তাদের এসব নীতি-ঘোষণা আগে শুনি নি। সিরাজগঞ্জ কলেজের বড় এক ঘরেই তাদের নাটক প্রথম দেখি। পর পর গোটা তিনেক ছোট আর একটি বড় নাটক দেখি। নানা পেশার কুশীলব হাতে করে অল্প কিছু প্রপ্স আর মঞ্চ সামগ্রী নিয়ে এসেছে। সঙ্গে কটি বাদ্যযন্ত্রও। চমকেই উঠি বলতে গেলে। দু-তিনজন করে অভিনয় করে ছোট একেকটি নাটকে। চরিত্রানুযায়ী পোশাকও পরে-যা ঠিক বাস্তবানুগ নয়। নাট্য আখ্যানও নয় গণনাট্যসুলভ আপাত বাস্তব বা চেনা প্রথাগত ধরনের। রূপক প্রতীকের পরোক্ষ কাহিনী বাচন। অভিনয় না বাস্তবানুগ না আরোপিত ভঙ্গীসর্বস্ব। অথচ আশ্চর্য এক সহজ জীবন্ত বিশিষ্ট নাট্যমুদ্রায়, ইডিয়মে। সৃজননবীন একেক আখ্যান আর তার নাট্যরূপায়ণ। নান্দনিক কৌতূহল শেষ পর্যন্ত অটুট থাকে। আগে থেকে আন্দাজ করা ঠিক যায় না কী ঘটতে যাচ্ছে। সংলাপ সচ্ছন্দ অথচ বহু অর্থদ্যোতক। নাট্যনন্দনের সকল শর্তই ধারণ করে ছোট একেকটি নাটক। গণনাট্য বা এমনকি প্রচলিত মঞ্চনাটকের প্রথাগত পরিচিত আদলের বাইরে অন্যতর বিচিত্র এক নাট্য-অভিজ্ঞতা তাতে ঘটে। নিরক্ষর, স্বল্পশিক্ষিত কুশীলবের অভিনয় নানা জড়তায় আড়ষ্ট শিক্ষিত কলেজ-নাট্যশিক্ষার্থীদের, তাদের শিক্ষকদের অভিভূতই করে। শিক্ষকগণ পরে নানাভাবে ব্যাখ্যান করেন আখ্যান, প্রয়োগ বিষয়ে। সবশেষে বড় নাটক দি খানকাবাসী তো আজকের গ্রাম সমাজের জনমানস আর ক্ষমতা সম্পর্কের বহুস্তর বাস্তবতা প্রায় মহাকাব্যিক চরিত্রে ধারণ করে। তার আখ্যান, প্রয়োগ, অভিনয় পরিপূর্ণ এক নবীন নাট্যের আস্বাদ দেয়। আমরা আপ্লুুত হই নাট্যকার-নির্দেশক-কুশীলবের সৃজনসামর্থ্য। দিনের বেলা বড় একটি ঘরে মুখোমুখি বা তিনপাশে বসা দর্শক, মঞ্চ মায়ায় অনারম্ভর প্রয়োগে এমন শিল্পসিদ্ধি এত অনায়াসে সম্ভব হতে পারে নাট্যের কী নন্দনযাদুতে ভেবে তাজ্জব হতে হয়। মনে পড়ে ঢাকার মঞ্চের বিচিত্র কারিগরী আতিশয্য আস্ফালনের প্রায়শ অশ্বডিম্ব প্রসবের কথা। কত কত সব ‘তেল দিয়ে নুন দিয়ে তবু ছ্যাঁৎ না করা’ গোড়ায় গলদ হম্বিতম্বি বাহানার নাটুকেপনা, সৌখিন নন্দন-বিলাসের রঙ্গ-ক্যরিকেচার চলে নাগরিক মঞ্চে মঞ্চে।
তারপর শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যাই তাদের মূল উৎসভূমে। যেখানে তাদের শেকড় প্রোথিত- যেখান থেকে উৎসারিত, দর্শক-সমাজমানস সংলগ্ন নন্দন-সংঘটনা। আগে থেকে জানিয়ে সন্ধ্যায় গিয়ে পৌঁছই চাটমোহরে, থিয়েটারওয়ালা সম্পাদক অনুজপ্রতীম হাসান শাহরিয়ার-সহ। চা-নাস্তা সেরে নির্দেশক-কুশীলব সমভিব্যাহারে যাত্রা করি অন্ধকার পথ ধরে। বড় টর্চ হাতে পথ দেখায় দলের একজন। পাশের গ্রামের এক বাড়িতে উঠান শো-র ব্যবস্থা করা হয়েছে-প্রায় নিয়মিতই যেমন করা হয় একেক উঠানে, খেয়াঘাটে, হাটের বটতলায়। সাইকেল বা নৌকায় মিছিল করে নাটুয়ার দল যায় যেখানে অপেক্ষায় তাদের দর্শককুল।- মিনিট দশেক পরে পৌছি আমরা রঙ্গস্থলে। হ্যাজাকের আলো জ্বলছে। ছেলে বুড়োগুড়ো আর বাড়ির বৌঝিরা আমোদে আহলাদে কিচির মিচির করছে। স্বদেশবন্ধু সরকার মঞ্চে দাঁড়ায় প্রারম্ভিক বাজনা বাদ্যি থামলে পরে। তিনদিকের চেনা যত মানুষজনেরে, বিশেষ করে ছোটদের রঙ্গ করে থামতে বলে- এখনই শুরু হবে নাটক। আজকের নাটক জলতরঙ্গ। মনে হলো তাদের চেনা এ পর্ব। সবাই গ্রামের মানুষের মতোই চুপ করে সব শোনে উৎকর্ণ হয়ে। পিছন থেকে আবার বাজনা বাজে। শুরু হয় নাটক। গ্রীষ্মকালে জলকষ্ট নিবারণে পুরাতন কূপ খনন করা নিয়ে নাট্য আখ্যান।- জলতরঙ্গ-
‘জলের আরেক নাম জীবন
জলদানে জীবনের পুন্নি
তাইতো জল হরেক নাম ধরে
কোথা হতে আসে জল
কোথা যায় চলে
এই দেশে এই বেসে
কেউ কি তা জানে?
জলের জন্ম মালিক প্রকৃতি। নিয়ম তার অনাবিল। তরঙ্গের দোলাচলে সে খেলা করতে চায় সর্বত্র সমান। হয় না, রাষ্টের পোষ্যভোগী মানুষ জলের ধাবমান ধারায় চুমুক দিয়ে বন্টনের মালিক সাজে নিজে। সত্বাহরণ জল তখন অর্থ, বৃত্তি, ধর্ম, বর্ণ, রূপ নিয়ে মালিকের বাজার দরে হাঁকায়। তিন ভাগ এই জলের দেশে, তেষ্টায় কারো বুক ফাটে, কেউবা জলে ডুবে অকালে প্রাণ হারায়।
জল আর জীবন
একি মহা সংঘাত
বন্টনের মালিক কেবল
দুহাতে বগল বাজায়
জলতরঙ্গ নাটকটি ধিতাং নেচে সেই বার্তা জানায়’
উত্তরবঙ্গের খরা-বাস্তবতায় জলদেবী গঙ্গা-আবাহনকৃত্য, অন্ত্যেবাসী এক পরিবারের দারিদ্র, সংস্কার-বিশ্বাস, পুরাতন কূপ খনন- জলের মালিকানা দিয়ে স্থানীয় ক্ষমতার হিন্দু-মুসলমান, ছোটজাত-বড়জাতের বিভেদক্রিয়া- আস্ত এক গ্রামসমাজ ভুক্ত হয় নাট্যক্রিয়ায়। নানা বয়েসী, নানা শ্রেণীর মানুষজনের অন্তরঙ্গ বাস্তবানুগ-বাস্তবোত্তর চরিত্রায়ণ, নৃত্য-বাদ্য-সঙ্গীত-কোরিওগ্রাফি। চরিত্রাবলীর পারস্পরিক ক্ষমতা বিন্যাস-বিনিময় বিচিত্র কম্পোজিশনে, মঞ্চ ব্যবহারের গতিচ্ছন্দে বিবিধ দৃশ্যরূপায়ণে নাট্যমুহূর্তাবলী নানা দৃশ্য-ছবি-চিত্র নাট্যইডিয়মে বাক্সময় হয়ে চলে। তাতে আখ্যানের ক্রমোন্মচন, দ্বন্দ্বখর নাট্য সংঘটিত হতে থাকে। আলোরও বিচিত্র বিন্যাস-মায়া কোন যাদুতে যেন ফুটে ফুটে ওঠে। সেটি বুঝি সমগ্র নাট্য সৃজনের নন্দন-বিভায়?- কে জানে! মঞ্চসজ্জা কী আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদির যোগান আসে কোথা থেকে যে অল্প স্বল্প সামগ্রীর অনায়াস চৌকশ প্রয়োগে। পাড়ায় আগুন লাগানোও ধ্বনিতে-বাদ্যে-সুরে-কুশীলবের গতি নাট্যেনৃত্যে মশালের আলোয় বাস্তবের অধিক বাস্তব দৃশ্যকাব্য রচনা করে। আর এসব কেবলি কি কুশীলবের শিল্প পারঙ্গমতায় সম্পন্ন হয়, হতে পারে? মানবের, সমাজের এক যূথ সমবায়ের মিলিত রূপায়ণে তা ঘটমান হয়ে চলে। চারদিকের কয়েকশত দর্শক-কুশীলব পারস্পরিক ক্রিয়ায়-প্রতিক্রিয়ায়, মিথষ্ক্রিয়ায় যৌথ যুগপৎ সৃজনকলায় বিভোর নান্দনিক আত্মস্থ রসোত্তীর্ণ লীলায় এমত এক কাণ্ড ঘটায়। থিয়েটার যে কেবল কুশীলবের পারস্পরিকতায় গঠিত হয় না- তার জন্য দর্শকের চাই সমান মিশ্র কুশলী অঙ্গাঙ্গী অংশগ্রহণ- এর শুষ্ক তত্ত্বসূত্র এমন শারীরবাস্তবে বাক্সময় হতে দেখলাম- তার পরিমাপ করি সাধ্য কি?- ‘তুমি তো শুধু শুকনো ছুটির খবর দিলে- মধু কোথায় পাবো’ রক্তকরবী-র রাজ-আর্তনাদ এতদিনে সত্য চেহারায় হাজির হলো! -‘তুমি শুধু তার ভারবাহী হয়ে রবে/ শিখিবে, শিখাইবে পারিবে না করিতে প্রয়োগ’। যে- বিদ্যার তরে অবহেলা করেছিল দেবযানীকে কচ- তাই এহেন অভিশাপ- আমরা তবে কি পৌরাণিক কচেরই সাক্ষাৎ উত্তরসূরী? যত যা কিছু জ্ঞান-বিজ্ঞান-নন্দন কেবলি তার ভারবাহী হয়ে পাপক্ষয় করি দিনগত, ইতিহাস উপনিবেশগত?
এই নাটকের সমর্থ এক সুদর্শন কুশীলবের বাড়িতে হয় রাত্রিযাপন। অমিয়ভূষণ কি অভিজিৎ সেন নিয়ে করি তাত্ত্বিক বাতচিত খানিক। পরদিন শুনতে পাই পেশায় ছেলেটি নরসুন্দর- সেলুনে কাজ করে বিকাল পর্যন্ত- রাতে যেহেতু মহড়া বা শো থাকে। এভাবেই কি সৃজিত হয় মিথ? বাস্তব অবাস্তবের সীমা ভেঙেচুরে বেকিয়ে?
পরদিন মাইলকয়েক পরের গ্রামে, ভাঙ্গুড়ায় দেখা হয় তাদের নবীনতর নাটক- লং মার্চ।- ‘কানসাট, জয়পুরহাট, ফুলবাড়ির দীপ্ত দহনে দূরায়িত কৃষক, দল বেঁধে ছোটে রাজপথে- স্লোগানে স্লোগানে, গানে ও সংলাপে। ... সমকালীন আন্দোলন সংগ্রামের সুস্পষ্ট রেখাপাত ও প্রতিচ্ছবি লংমার্চ। গড়ন-গঠন শিল্প আর স্লোগানের- সংমিশ্রণ ও সংযোগে মিথোলজির মৌলিক কর্ষণে আর ঐকতানে।’ আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি- কী জানি কী দেখবো! গতকালের মুগ্ধঘোর পথনাটকের প্রত্যক্ষতায় না তছনছ হয়! নাট্যকার-নির্দেশক মুচকি হাসে যেন- ঢাকাই নান্দনিক নাট্যবোদ্ধারা না ভড়কে যায় রাজনীতির দারুণ অগ্নিবাণের তেজবীর্যে- যারা ভয়ে সর্বক্ষণ শিল্পাঞ্চলে মুখ ঢাকে, নাকি ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’? উপজেলার বাজারের ফাঁকা জায়গায় নাটক হবে- জরুরি অবস্থায় কেলেংকারি না হয়। স্বদেশবন্ধু দর্শকদের আগাম সাবধানী সবক দেয়- তত্ত্বাবধায়ক সরকার সব দুর্নীতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নেমেছেন- আমরা তাদের অনুসারী। বুভুক্ষু চাষী মজুর হাত করে রাজনীতির সাবকন্ট্রাক্টর নেতার দল মিছিল করে দাবী জানানোর ক্ষমতা নাট্যক্রীড়া নিয়ে গঠিত আখ্যান। নানা বয়েসী মানুষের কার্টুন-ব্যঙ্গচিত্র সদৃশজন মরিয়া পথে নামে- সার আর বিদুৎতের দাবীতে। সঙ্গে এক ছোকরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমায় আর স্বপ্ন দেখে আর থেকে থেকে মুখদিয়ে আওয়াজ করে গুলি ছোঁড়ে। তাতে সবাই রঙ্গ-মজায় আরও একটু শ্বাস টানে বুকে, মনে। তাকে বলে সবাই স্বপন-মানুষ। নানা স্বভাব বয়সের একেক জনের পাশে কেমন যেন মানিয়ে যায় সে। এই নাটকে চলার, থামার, বসার, কথা বলার অদ্ভূত এক নাট্যমুদ্রা তৈরি হয়- সেটা ঠিক বানানো থিয়েটারি কোরিওগ্রাফি লাগে না- বিশিষ্ট পরিস্থিতির জীবনছন্দই যেন সৃজিত হয় মঞ্চে। ক্ষমতার দালাল-বাটপার-চামচাদের সঙ্গে নাঙ্গা ভুখা গ্রামবাসী যত মানুষজনের পাল্লাপাল্লিা রগড় চলে- কে কাকে হারাতে পারে তারই এক রণ-রঙ্গ যেন। মুখে কথার ফুলঝুরি, সেটা বড় স্বচ্ছন্দ কাব্যিক অর্থবহ অথচ দৈনন্দিনের ভাষায়ই যেন। যাকে বলে লাগসই এক নাট্যভাষায় পথনাটক-গণনাটক বা মঞ্চনাটকের প্রথাগত কোনো ভাষায় ঠিক নয়। পরিস্থিতির এক দেশজ শিল্পভাষাই বলতে হয় একে। ক্ষমতার কূট-কৌশলের ব্যূহে পড়েছে অদম্য মানব ক্রিয়াকলাপ। স্বপন-মানুষ গুলি খেয়ে মরে, তবু চলে তার স্বপ্ন বুকে করে মানুষের চির-যাত্রা। কানসাট-ফুলবাড়ির কোনোই আঁচ যখন লাগে না নাগরিক শিল্প-সংস্কৃতি নাট্যজনের, তেমনি সর্বনাশা কালঘুম পর্বে একটি দল সৃজনের আয়ুধে এমন টংকার জ্যা উঁচায় মঞ্চে কোন যাদুবলে? দেশের, মানুষের ভেতরে তাদের বাস বলে? নাট্যকর্ম কোনো সৌখিন বিলাসী রঙ্গকলা নয় বলে? তাই কি বাঁচবারই এমন স্বাভাবিক সৃজন-মাহাত্ম্য?- ঠিক এতটা জীবন্ত, অঙ্গাঙ্গী তাদের নাট্য এষণা। আমাদের অভিজ্ঞতায় তার হদিস মেলে না। তবুও কোথাও বেঁচেই থাকে তাহলে মানবের অফুরান অদম্য জিয়ন-নাট্য: বাঁচিতে হবে রে!
বড়ই কৃতজ্ঞ লাগে এহেন অভিজ্ঞতায়। এবং যেহেতু মানুষ মানুষই! ফেরার সময় নানা নাটকের লিফলেট দেয় সমন্বয় থিয়েটার।
* ‘মানুষের ভিতরে আরেকটি মানুষ সারাক্ষণ একটি স্বপ্ন ঘিরে বাস করে। দিন যায় মাস আসে বছর যায় অপেক্ষায় শেষ হয় না কেবল স্বপ্নের তার বাঁধা।’
* ‘দেশি বিদেশি আঙ্গিক থেকে ছোঁয়া নিয়ে প্রচলিত মঞ্চ নাটক এবং খোলা নাটকের মধ্যবর্তী একটি ধারার সন্ধানী। তথাকথিত মঞ্চকৌশল, অভিনয়রীতি নাট্যবিন্যাস এমনকি সাংগঠনিক পুরাতন সং চেঁচে মানুষের হাজার বছর গভীর লালিত শিকড়ে সোজা হয়ে ঢুকে যাওয়া।’
উঠান শো, ভ্রাম্যমাণ নৌকা শো- বোঁথোড় খেয়াঘাট চত্বরে, সাইকেল রিকশা শো- এমনি সব অভিনয়ের আয়োজন করে চলে তারা গ্রামজুড়ে। উৎসব অঙিনার গল্প বলে তারা এমন ভাষায়- ‘চাটমোহরে যে শিল্প সংস্কৃতি তার যোগফলের বীজদানা পোঁতা আছে বোঁথড় গ্রামের দো-আঁশ মাটির গভীরে সেখানেই মূল চাষকলা। .... সেই কবে কোন কালে চৈত্র সংক্রান্তির এক আঁধার রাতে চড়ক গাছে সওয়ার হয়ে চাঁদ সন্নাসী বোঁথোড় এসেছিলেন, পেতেছিলেন তার ভোবন সিদ্ধির আসন। সেই থেকে জেলেপাড়ার লক্ষ্মণ কুমার ধুপতির তাওয়া নাচে, ধূমায়িত চাঁদের থানে এখনো তের সন্ন্যসীকে ধ্যান করায়। যজ্ঞের মেলা বসে বোঁথোড় বটতলা। সত্যেন ঠাকুর আঙ্গুলের টিপদানে রাতারাতি গড়ে দেয় স্বর্গের সুচারু প্রতিমার কাননবালা। অমল সরকারের জয়ঢাক কাচার কর্ষণে মিস্ত্রিপাড়ার বলাই সূত্রধর শিবকালী মুখোশ পরে। আলতা রঙে হাত রাঙায়। ঘুঙুর পায়ে ঝুমঝুম হাটে। আবার দেখ, ভাটোপাড়ার ফণি হালদার রূপালী খাড়া হাতে দুর্গম আঁধার দু’ভাগ করে, বড়াল নদীর ঢেউয়ের নাচনে মাথার লম্বা জট ভাসায়, সিঙার মাতনে কাল বক্ষের খিরকি নাচায়। হাজারতলা শ্মশানঘাটে পোড়া কয়লা দিয়ে উৎসবের সন, তারিখ তের-ই বৈশাখ লিখে যায়। শংকর হালদার, ভক্ত মাধাই, মদন মিস্ত্রি সারাদিন হাড়-গুড়ো-গুড়ো ঘাম মুছে হাটে কীর্তনের চড়া সুর ধরে, ভাঙা গলায় দুহাত তুলে ডাকে- ‘কবে পাব তোমারে ও সখী মধুর বৃন্দাবন ধামে’। ... এতসব উৎসব এপাড়া দেখে ফকিরপাড়া কি বসে থাকে?- খোরশেদ ফকিরের চিৎ করা উঠোনে, ছামিয়ানায় আকাশ ঢাকে। টুংটাং দোতারা বাজে, জুড়ি বাজে রিনিঝিনি। ফকির বাছের উল্লাপুরা আসন জুড়ে দাঁড়ালে গোটা বোঁথোড় গাঁয়ে তিরতির রাত নামে ...। উৎসব ডেকে আনে। বিচার গানের মাদকতা যুক্তি-তক্কো, ইমাম বকস, রোস্তম ফকিরের মাথা ঘুরে ফকিরপাড়ার সীমানা ছেড়ে, খোলসেগাড়ী বিল ঝেপে দূর গ্রামগুলোতে লাফায়...। ঘুম জাগরণে পরেশ কাকা রাতভর এসব বৃত্তান্তের তদারকি করে। বিল-নদী- ডাঙার সবই তার নজরে থাকে। এতসব আয়োজন জানা বোঝার সময় কোথায়? বোঁথোড় মধ্যপাড়া যেন হাঁক দিয়েছে কারা- ‘কোন শহরে বাড়ি তোমার কোন শহরে ঘর। কি নাম তোমার মাতা পিতার, কি নাম তোমার ... রে...? ‘ঢোলের দ্রিম...দ্রিম... লাঠির বন-বন, ঢাল সড়কি, রক্ত মাখা তরবারি হাতে এত যে সরদার বসাই কালুর দল। হোসেনের মুন্ডু কাটার বদলা নিতে আগে আগে ধায়, পিছনে তার সড়কি খেলা যায়। রামনগর, কুমারপাড়া, জাবরকোল, সোনাহারপাড়া হয়ে আর সব গ্রামেও একথা ছড়ায়। ক্রুদ্ধ-ক্ষুব্ধ মানুষেরা ঢোলের ঝুমুর তালে এক হয়। যতীন সরকার, কাজল চৌধুরী, হ্যাজাক জ্বেলে নাটক ঘরে পথ দেখায়- ‘একটু পা চালিয়ে এসো ভাই’। গান, কীর্তন, নাটক, কবিতা, একঘরে বসে, একপাতে ভাত খায়। এবার বসস্ত কামারের পেটানো নিক্তি পাল্লায় দোল খেয়ে, গাঁ পাড়ি দিয়ে অশান্ত পৃথিবীর ছিন্ন শির চক্র এজিদের কালো থাবার নিচে ওরা রুখে দাঁড়ায়...
জান মাল হারানো বদলা নিতে মানুষের মহাউৎসবে মিশে যায় ... কেবলই মিশে যায়...।”
চিরকালের বাংলা শিল্প সংস্কৃতিকলার আসরে সমন্বয় থিয়েটার আসন করে নিয়েছে। নাটকের দলের এর চেয়ে বড় অর্জন, বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশে আর কোথায় কবে ঘটেছে জানি না। বছর কয়েকের নাগরিক সৌখিন হুজুগে তা যে হয় না- সেকি আমরা জানি না, দেখি নি কি কত বড় বড় নামওয়ালা আন্দোলনের পতন-পরিণতি? চাটমোহর সমন্বয় থিয়েটার আমাদের এইসব হাঁকডাকের আড়ালে সম্ভব করে চলেছে বছর দশেক ধরে এই অসাধ্য সাধন! বড় আশায় বুক বেঁধে বড় মুখ করে চেয়ে আছি তাদের দিকে- তবু কোথাও রয়ে গেছে মানব, তার অবিরাম জয়যাত্রা।
ড. বিপ্লব বালা: নাট্যশিক্ষক, নাট্য-সমালোচক