Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

বাউল আব্দুল করিম গায়

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

ভাটি বাংলার সুরে আর হৃদয়ের টানে এখনো যিনি গীতরসে আপ্লুত করে রেখেছেন বাঙালি, বাংলাভাষী মানুষকে- তিনি বাউল কবি শাহ্ আব্দুল করিম (জন্ম, ১৩২২)। স্বল্প কয়েকদিন কৈশোরে পাঠশালায় পাঠ নিয়ে পলাতক করিমের কলম থেকে কালি ঝরলো : ‘মাস্টার সাব মরবার লাগি দোয়া চাইতাম।’ প্রচলিত শিক্ষাধারায় নয়, প্রকৃতির বিশাল প্রেক্ষাপট হলো তাঁর পাঠশালা। ভাটি বাংলার বিস্তীর্ণ প্রান্তর, নদী-হাওর, বোরো ধানের ঘ্রাণে প্রাণে জোগায় প্রেরণা, গীতি আবেদন জাগায় মনে। গানের ওস্তাদ ছিলেন কমরউদ্দিন ও প্রখ্যাত সাধক রসিদউদ্দিন। গানের ভিতর দিয়ে প্রাণের কথা বলতে ব্যাকুল আব্দুল করিম। আর কিছু মন চায় না। তার কথায়-

আর কিছু চায়না মনে গান ছাড়া
গান গাই আমার মনকে বোঝাই
মন থাকে পাগল পারা ॥ (ভাটির চিঠি : পৃষ্ঠা - ৪৭)

গীতরসে করিমের মন মজেছে। কি সেই গান? বাউল করিম গাইছেন-

মন মজালে ওরে বাউলা গান
যা দিয়েছ তুমি আমায় কি দিব তার প্রতিদান ॥ (ভাটির চিঠি : পৃষ্ঠা - ৪৭)

ভৌগলিক দিক দিয়ে সিলেটের উত্তরে রয়েছে খাসিয়া-জয়ন্তিয়া পাহাড়। পূর্বদিকে কাছাড়, দক্ষিণে পার্বত্য ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ। অসংখ্য নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, অরণ্য-প্রান্তর, চা বাগান আর সবুজ-শ্যামলিমা সিলেটের নিসর্গ শোভা যেমন বাড়িয়েছে তেমনি প্রেরণা যুগিয়েছে গীতি সাহিত্যেরও। দীন ভবানন্দ, সৈয়দ শাহ্ নূর, আরকুম শাহ, শেখ ভানু, রাধারমণ, হাছন রাজা, একলিমুর রাজা, দূরবীন শাহ, শের আলী পীর, বাউল শাহ্ আব্দুল করিম প্রমুখ সেই প্রেরণারই উত্থিত সোনালি ফসল। প্রকৃতি, মাটি, মানুষের প্রতি কবি করিমের অকৃত্রিম যোগ। প্রকৃতি প্রেম, নিসর্গচিত্র, রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবন, ব্যক্তির চেয়ে সমষ্টি চেতনায় আস্থাবান কবি করিম। তার ব্যক্তি চেতনা সামগ্রিকভাবে রূপলাভ করেছে সমষ্টি চেতনায়। তাই তিনি গণমানুষের কবি, প্রতিবাদী এক চারণ বাউল- চষে বেড়িয়েছেন সমগ্র ভাটি বাংলা। তার রচিত পঙ্ক্তিমালায় ফুটে উঠেছে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ বঞ্চিত মানব জীবনের নির্যাস, শাসক-শোষণের নিপীড়ন, অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ উচ্চারণ আর সেই সঙ্গে তার জন্মভূমি, মাটি-মানুষের প্রতি মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটেছে তার গানের মালায়। গ্রন্থের নামকরণেও এর সার্থক পরিচয় মেলে। গ্রন্থের নাম - ‘কালনীর ঢেউ’ (১৯৮১), ‘কালনীর কূলে’ (২০০১), ‘ধলমেলা’ (১৯৯০) ও ‘ভাটির চিঠি’ (১৯৯৮)। অকৃত্রিমভাবে ভালোবেসেছেন মাটি ও মানুষকে। শুনি তাই শিল্পী করিমের কণ্ঠে-

মানুষ হয়ে জন্মেছি তো, বাঁচতে চাই মানুষের মতো
চাই মানুষের সমাজ বিধান, গাইরে বাংলার জয়গান ॥

কিংবা-

গানের ভিতর প্রাণের কথা বলতে মনে চায়
এই দেশের গরিব কাঙ্গাল হলো নিরুপায় ॥
----    ----
আব্দুল করিম বলে আমার মন যাহা চায় গাই
আমি অতি মূঢ়মতি বিদ্যাবুদ্ধি নাই
আমি বাংলা মায়ের সন্তান
দেশকে ভালোবাসি বলে গাই স্বদেশী গান
শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা আমার মনে চায় ॥
(ভাটির চিঠি : পৃষ্ঠা - ৬০)

প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতি বিক্ষুব্ধ করিমের অগ্নিঝরা মমত্ববোধ ঝরেছে তারই সহযাত্রী সমষ্টি মানুষ যারা মেহনতি কৃষক-শ্রমিক-সর্বহারা-শোষিত-লাঞ্ছিত-বঞ্চিত জনের প্রতিনিধিত্বশীল এক প্রতিবাদী চারণ একাত্ম হয়েছেন সহজ-সরলভাবে। এ দিক দিয়ে শাহ্ আব্দুল করিম ব্যতিক্রমী এক চারণ-বাউল। যিনি বাস্তব জীবন, শাসক-শোষণ সম্পর্কে সচেতন, অধিকার অর্জনে সরব, বঞ্চিত মানুষের পক্ষে প্রতিবাদী কণ্ঠ, ব্রিটিশ শাসন-শোষণ অবলোকন করেছেন, পাকিস্তানি শাসন-শোষণ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেণ। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তার গান হয়ে উঠেছে হাতিয়ার। এখানে আরেকটি গানের অংশবিশেষ উল্লেখ করি-

রক্ত দিয়ে স্বাধীন হলেম
দুর্দশা কেন যায় না?
শোষিতগণ বেঁচে থাকুক
শোষক তাহা চায় না ॥
.....................
বাউল আবদুল করিম বলে
স্বার্থপর শোষক দলে
ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে চলে
সমষ্টির গান গায় না ॥

ব্যক্তির চেয়ে তাই কবি করিমের সমষ্টির গানই গুরুত্ব লাভ করেছে- সেজন্য কৃষিজীবী জনমানসের আপনজন, সকলের কাছে তিনি ‘করিম ভাই’। বিক্ষিপ্তভাবে তার রচিত ‘ভাটির চিঠি’ থেকে দেশের গান মানুষের গানের কতিপয় পঙ্ক্তি উল্লেখ করলাম। একদিকে বাস্তবজীবনের কঠিন কঠোর পথপরিক্রমা অন্যদিকে জগত-জীবন সম্পর্কে গভীর পর্যবেক্ষণ, সৃষ্টির রহস্য নিয়ে কৌতূহল আব্দুল করিমকে করে তুলেছে বাউল মরমি। এর একটি ঐতিহ্যময় প্রেক্ষাপট আছে। বৃহত্তর সিলেটের লৌকিক ঐতিহ্যে মূলত দু’টি ধারা প্রবহমান। একটি বৈষ্ণব, অপরটি সুফী। ‘সুরের ছন্দ ও ভঙ্গিতে বৈষ্ণব ধারাটি হলো বিলম্বিত মীড় আশ্রয়ী এবং লীলায়িত, অনুগামী বাদ্যযন্ত্র একতারাযুক্ত লাউয়া বা লাউ। সুফী ধারাটির সুর প্রধানত গতিপ্রধান, কাটাকাটা ঝটকা দেওয়া ত্রিমাত্রিক ছন্দ, অনুগামী যন্ত্র দোতারা ও খমক। বৈষ্ণব ধারার লীলায়িত চলনের মধ্যে সুফী ধারাটি নিয়ে এলো এক গভীর আবেগ। এই দু’টি ধারারই প্রগতিশীল সামাজিক মুখ্য ভূমিকা ছিল হিন্দু-মুসলমানের এক মিলিত ভাবধারা, এক মিলিত সংস্কৃতি গড়ে তোলার। হিন্দুর গুরু, মুসলমানের মুর্শিদ, হিন্দুর রাধাকৃষ্ণ, মুসলমানের আশিক-মাশুক মিলেমিশে গেছে। এই যুগল ধারার যোগ্য উত্তরসূরি বাউল আব্দুল করিম যাঁর গানে তারই প্রতিধ্বনি শোনা যায়:

আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।
গ্রামের নওজোয়ান, হিন্দু-মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান, ঘাটু গান গাইতাম ॥

আব্দুল করিম রচিত পাঁচশতাধিক গানে যেমন সিলেটের ঐতিহ্য ও শিকড়ের সন্ধান মেলে তেমনি বৈষ্ণব-সুফী ধারার সাধন-ভজনের পরিচয় পাওয়া যায়। বৈষ্ণব ধারার অন্যতম কবি রাধারমণের (১৮৩৪-১৯১৫) ভাবাদর্শের অনুরণন আব্দুল করিমের গানে লক্ষ্য করা যায়। যেমন, রাধারমণের একটি ধামাইল গান আছে চতুর্মাত্রিক ছন্দে-

কুঞ্জ সাজাও গিয়া আসবে শ্যাম কালিয়া
কেন গো রাই কাঁদিতেছ পাগলিনী হইয়া।

করিম রচিত গানে একই ভাব ঝরেছে ভিন্নরূপে-

সখি কুঞ্জ সাজাও গো আইজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে।
মনে চায় প্রাণে চায় দিলে চায় যারে ॥

বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত, কানু ছাড়া গীত নাই, রাধা ছাড়া সাধা নাই।’ লোক কবিদের রচিত গানে রাধা আর কৃষ্ণ রূপকছলে বারবার ফিরে আসে নায়ক-নায়িকারূপে। মানবীয় প্রেমের মিলন বিরহ গাঁথা রাই-কালার মধ্য দিয়ে ব্যক্ত হয়। এর অন্যরূপও আছে। রূপক অর্থে রাই হলেন জীবাত্মা (Human Soul) এবং কালা হলেন পরমাত্মা (Supreme Soul)। বাউল মরমি গানে এই ভাবদর্শনের প্রভাব প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আব্দুল করিমও একই পথের পথিক। করিমের গানে বৈষ্ণব ধারার মীড়াশ্রয়ী লীলায়িত সুরের ঝংকারের সঙ্গে সুফী ধারার গতিপ্রধান, কাটাকাটা ঝটকা দেওয়া ছন্দের সম্মিলন ঘটেছে। যেমন- একটি গানের উল্লেখ করি : (চতুর্মাত্রিক ছন্দে রচিত)

আমি ফুল, বন্ধু ফুলের ভ্রমরা।
কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া ॥
না আসিলে কালো ভ্রমর, কে হবে যৌবনের দোসর।
সে বিনে মোর শূন্য বাসর, আমি জীয়ন্তে মরা ॥
(শাহ্ আব্দুল করিম সংবর্ধন গ্রন্থ : পৃষ্ঠা - ১৩৪)

ত্রিমাত্রিক ছন্দে রচিত আরেকটি গানের অংশবিশেষ এই রকম-

গাড়ি চলে না, চলে না চলে না রে
গাড়ি চলে না ॥
চড়িয়া মানব গাড়ি
যাইতেছিলাম বন্ধুর বাড়ি
মধ্যপথে ঠেকলো গাড়ি
উপায় বুদ্ধি মিলে না ॥
(শাহ্ আব্দুল করিম সংবর্ধন গ্রন্থ : পৃষ্ঠা - ১৪০)
সুফী ভাবদর্শন কবি করিমকে প্রভাবিত করেছে। মরমি হাছন রাজা (১৮৫৪-১৯২২) যেমন প্রেমের পথ ধরেছেন এবং জগত-জীবনকে মনে করেন-

প্রেমের বাজারে বিনে মানিক ও সোনারে
যেই জনে চিনিয়া কিনে লভ্য হয় তার দুনারে ॥

শাহ্ আব্দুল করিমও এই প্রেমের পথে পাড়ি জমাতে চান, তাই তাঁর আকুতি ঝরেছে:

খাজা তোমার প্রেমবাজারে আমি কাঙ্গাল যেতে চাই।
প্রেম লীলা প্রেম খেলা দেখে পুড়া প্রাণ জুড়াই ॥

মরমি কবি হাছন রাজার একটি বিখ্যাত গান, ‘মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে, কান্দে হাছন রাজার মন-মনিয়ায় রে’, গানটির ভাব সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় বাউল করিমের গানে যেমন- ‘মাটির পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে, তোমারে পুষিলাম কত আদরে।’

সুফী ও বৈষ্ণবধর্মের মূল উপজীব্য প্রেম। আশিক-মাশুকে মিলিত হওয়ার প্রধান মিলনসেতু প্রেম। এই প্রেমেরই জয়গান গেয়েছেন সিলেটের লোককবিরা। বাউল করিমও ‘প্রেম'কে প্রধান অবলম্বন করে জগৎ জীবনের রহস্যময়তাকে খুঁজে ফিরছেন।  অন্যান্য অঞ্চলের লোককবিদের চেয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের লোককবিদের অন্যতম ও স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এই যে, প্রেমের অনলে জ্বলছেন সবাই যেন প্রেমই পথ এবং পাথেয়। দু-একটি দৃষ্টান্ত দিই। প্রত্যেক কবির গানের ভনিতায় পরিচয় মেলে:

১. সৈয়দ শাহ নূরে বলে, প্রেমানলে অঙ্গ জ্বলে গো।
২. ভাইবে রাধারমণ বলে, প্রেমানলে অঙ্গ জ্বলে।
৩. আগুন লাগাইয়া দিল কোনে হাছন রাজার মনে, নিবে না দারুণ আগুন জ্বলে দিল জানে।
৪. মনে আগুন দিয়া বন্ধু লুকাইলো কোথায়, আমান বলে মরিয়া যাইতাম উড়িয়া তথায়।
৫. বাউল আব্দুল করিম বলে, প্রাণ জ্বলে বিচ্ছেদানলে।

প্রেম নদীতে ডুব দিয়ে অরূপরতনের সন্ধান করেছেন লোককবি। রূপসাগরে তরী ভাসিয়েছেন সৃষ্টি রহস্যের কূলকিনারায় পৌঁছুতে। কবির তাই জিজ্ঞাসা:

কোন মেস্তরি নাও বানাইল কেমন দেখা যায়-
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খি নায় ॥
বাউল আব্দুল করিম বলে বুঝে উঠা দায়।
কোথা হতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়-
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খি নায় ॥

সীমার মাঝে থেকে অসীমের সন্ধান, দেহ থেকে দেহাতীতে, রূপ থেকে অরূপে যাওয়ার সাধনায় নিমগ্ন বাউল কবি। সেখানে প্রেম তাঁর নিত্যসঙ্গী। প্রেমে মিলনের চেয়ে বিরহ-বেদনগাঁথা প্রেমকে মহিমান্বিত করে। বাউল করিম গাইছেন-

পিরীত ভালো না সখী তোমরা প্রেম করিও না
পিরীত করছে যে জন জানে সেজন পিরীতের কি বেদনা ॥

এই গানের পঙ্ক্তি মনে করিয়ে দেয় কবি শেলীর বিখ্যাত উক্তি : `Our sweetest songs are those that tell of saddest thoughts.`

বলাবাহুল্য শিল্পী করিমের বিচ্ছেদী গানে আন্তরিকভাবে ফুটে উঠেছে এই উক্তির মর্মকথা।

বাউল করিম রচিত পাঁচ শতাধিক গানে সুর বৈচিত্র্য ও বিষয়বৈচিত্র্যের সমন্বয় ঘটেছে। একদিকে আঞ্চলিক গাঁথা, সারি-ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, মারফতি, বিচ্ছেদী, বাউল-মরমিয়া, ধামাইল-গীত, ঘাটুগান আর জারি অন্যদিকে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শাসক-শোষকের বিরুদ্ধে দৃপ্ত উচ্চারণ অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। একদিকে ঐতিহ্যধারার সার্থক ধারক-বাহক কবি করিম অপরদিকে তিনি গণমানুষের, মেহনতি জনতার প্রতিনিধি চারণ শিল্পী। এই দুয়ের সমন্বয় আব্দুল করিমকে গড়ে তুলেছে এক ব্যতিক্রমী বাউল কবিরূপে।

কবি করিমের বিচ্ছেদী গান তথা প্রেমের বিরহ বেদনের সুরকথা দিয়ে এ লেখার উপসংহার টানি-

পিরীতি করিয়া বন্ধে ছাড়িয়া গেলো
আগে তো না জানি বন্ধের মনে কি ছিল ॥
বাউল আব্দুল করিম বলে, প্রাণ জ্বলে বিচ্ছেদানলে
প্রেমের যে দারুণ ব্যথা অন্তরে দিল ॥

বার্ধক্যজনিত কারণে বাউল কবি নিরব হয়ে রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন দীর্ঘদিন। ২৮ ভাদ্র মাসের (১৪১৬) (ইং ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৯) শাদা সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সিলেটের এক হাসপাতালে ৯৩ বছর বয়সে। বন্ধুর সনে মিলনের তরে কালনীর তীর ছেড়ে ভাবসাগরের মায়া কাটিয়ে পাড়ি জমালেন অনন্তলোকে। কালনীর ঢেউমাখানো সুর মনে ভেসে উঠে:

বন্ধুরে আমার বলতে আর কিছু নাই যা ছিল দিলাম তোমায়।
পাইলে চরণ সফল জীবন রে, বলে আব্দুল করিম পাগেলায়।।

ড. মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী : অধ্যাপক, সংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সংগীতজ্ঞ ও শিল্পী।