Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

নিজেকে কেবলই একা মনে হয়

Written by হাসান শাহরিয়ার.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

স  ম্পা  দ  কী  য়

আমরা আচানক দুঃসংবাদের মুখোমুখি হই এবং হয়তোবা ভাবি, দুঃসংবাদ এমন আচানকই আসে এবং এই আকালের কালে বেশ ঘন ঘনই আসে আর আসতে থাকবে।

আমরা ঘন ঘন দুঃসংবাদ শোনার মানসিক প্রস্তুতি নিতে থাকি এবং যদি, কখনো, এই দুঃসংবাদ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হয়, আমরা নিজেদের সৌভাগ্যবান ভাবতে থাকি। সুসংবাদের প্রত্যাশা আমরা আর করি না বা করার অভ্যস্ততা হারিয়ে ফেলি। উন্নয়ন বৃদ্ধি না, ক্ষতি কমানোতেই আমরা মনোনিবেশ করতে থাকি। এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের জাতিগত সংস্কৃতির অংশ হতে থাকে এবং ব্যর্থতা আর হতাশা আর চাটুকারিতা আর বেলাল্লাপনা আর কমিটমেন্টলেস হওয়াটাকে গৌরবের আর মর্যাদার ব্যাপার বলে ভাবতে থাকি। অথবা, হয়তোবা, আমাদের কারো কারো স্মরণে আসে বিষ্ণু দে’র কবিতার পঙতি- ... সেখানে মড়ক অবিরত/ সেখানে কান্নার সুর একঘেয়ে নির্জলা আকালে/ মরমে পশে না আর, সেখানে কান্নাই মৃত/ কারণ কারোই কোনো আশা নেই/ অথবা তা এত কম, যে কোনো নিরাশা নেই।/ চৈতন্যে মড়ক। ...

আমরা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে বড়াই করতে থাকি এবং আমরা বলতে থাকি যে- আমাদের আছে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আর আছে বিশাল বিশাল কীসের কীসের যেন ভাণ্ডার। আমরা এমন ভাব করি যেন, পৃথিবীতে আর কারো কোনো ঐতিহ্য নেই এবং পৃথিবীর তাবৎ জাতিই ঐতিহ্যহীন। আমরা গর্ব করি, কারণ, আমাদের গর্ব করতে ভালো লাগে, গর্ব করতে থাকলে বর্তমানের নৈরাশ্যজনক বাস্তবতাকে ভুলতে পারি। আমরা তখন শহরমুখি হই, বাসা বাড়িতে বা অফিসে বা যেকোনো জায়গায় কাজ নিই এবং মালিককে কোনো না কোনোভাবে জানাতে সচেষ্ট হই যে- আমি কিন্তু চৌধুরী বংশের পোলা। আমার বাপের আছিল কত কত জমি জমা। কিন্তু সব কিছু কাইড়া নিছে ঐ নদী বা ঐ মুক্তিযুদ্ধ বা ঐ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। আমরা অথবা আমাদের মধ্যে কেউ কেউ, যাদের বাপ কিংবা আপন কেউ জেনে বা না জেনে বা আগ্রহী হয়ে বা ঠেলায় পড়ে কিংবা এমনও হতে পারে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পেতেই হয়তোবা গিয়েছিল যুদ্ধে এবং বেঁচে বা না বেঁচে ফিরে আসে এবং অংশগ্রহণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পায়, তাদের সন্তানেরা বা আপনজনেরা নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধার বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পোলাপাইন বা আত্মীয় বলে দু’হাত পেতে ভিক্ষা নিতে আগ্রহী হয়ে পড়ি। এবং আমরা, হয়তোবা সবাই না, কেউ কেউ, একাত্তরের প্রসঙ্গ আসলেই মুখটা শুকনা করে ফেলি, ফলে সামনে থাকা লোকজন একটু যেন দয়াশীলই হয়ে পড়ে আমাদের জন্য এবং চেষ্টা করে আমাদের জন্য কিছু একটা করা যায় কিনা তার ব্যবস্থা করতে। আমরা গর্ব করে ফলাও করে প্রচার করি যে, আমরা ভালো নেই, আমাদের সাহায্য করুন।

আমরা একটা বিষয়ে একমত হই যে, আমাদের জাতিগত সবচেয়ে বড় অর্জন হয় ঐ মুক্তিযুদ্ধ এবং যখন বুঝে ফেলি, সাধারণ জনগণ এটা মেনে নিয়েছে, তখন এটাকে, এই মুক্তিযুদ্ধের ইমোশনকে আমরা এবিউজ করতে থাকি, এবং তখন আমরা একদল রাজনীতিবিদের সাক্ষাৎ পাই, যারা আমাদের সমস্ত ইমোশনের বারোটা বাজাতে উদ্যোগ নিতে থাকে। এবং সম্ভবত এই প্রথম, একটি দেশ এমন একদল রাজনীতিবিদের আন্ডারে যায়, যাদের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আসে এবং তাদের হাতেই স্বাধীনতার বলাৎকারের উদ্বোধন ঘটে। আমরা তখনও আচানক এক দুঃসংবাদের মুখোমুখি হই, এবং আমরা জানতে পারি যে, আমাদের জাতির পিতা ছিলেন একজন ফেরাউন এবং তাকে আর তার ১৪ গোষ্ঠীকে, এই নাফরমানদেরকে, হত্যা করা ছিল জায়েজ কাজ। এবং এই প্রথমই হয়তোবা আমরা আবারো কিছু কিছু আরবী শব্দের প্রয়োগ শুনতে থাকি এবং শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ বলতে থাকি। আমরা এবার শুনতে পাই যে, মহান স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাটা আমাদের জাতিগত দায়িত্ব না হয়ে ধর্মীয় দায়িত্ব হয়েছে এবং এই দায়িত্ব পালন করার জন্য আমরা বিসমিল্লাহ বলে নেমে পড়ি এবং ধর্মের ব্যাপারে আমরা আর নিরপেক্ষ থাকি না। সাধারণ ক্ষমাকে আমরা অসাধারণ পর্যায়ে তুলে আনি এবং রাষ্ট্রের যেকোনো পদ যেকোনো মানুষ বা অমানুষের উপযোগী করে তুলি এবং এই প্রথম আমরা নিজেদের আত্মমর্যাদা হারাতে থাকি এবং যার-তার কাছে মাথা নত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে থাকি। আমরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করতে থাকি যে, আমরা আর স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছা করি না বরং ঐতিহ্য নিয়ে বড়াই করতে বেশ স্বাচ্ছ্বন্দ বোধ করতে থাকি। আমরা এ-ও প্রত্যক্ষ করতে থাকি যে, মানুষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নীতিজ্ঞানশূন্য হওয়া। কেবল রাজনীতিতেই না, সব সেক্টরেই নীতিজ্ঞানশূন্য হওয়ার একটা প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল এবং শিক্ষা আর শিল্প-সংস্কৃতি আর ব্যবসা-বানিজ্য সব জায়গায় এই প্রতিযোগিতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেল।

এর ফলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আমরা ’৭১ এর চেতনার আর ধারে কাছে থাকলাম না কিন্তু যারা এই চেতনার ফল থেকে, মানে স্বাধীনতা থেকে, কিছু পাবে বলে ধরে নিয়েছিল, তাদের কানের কাছে এসে জোরে জোরে বলা শুরু হলো- একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। কিন্তু যতই গর্জে ওঠার জন্য বলা হোক আর জনগণ যতই গর্জে ওঠার জন্য প্রস্তুতি নিক না কেন, যারা গর্জে উঠতে বলছে, তারা মোটেই তর্জন-গর্জনের ধারে কাছেও যেতে চাইলো না। যেহেতু রাষ্ট্রীয় পদগুলো স্বাধীন-পরাধীন, সবার জন্যই উন্মুক্ত, তাই, ’৪৭ এর চেতনা আর ’৭১ এর চেতনা সব একাকার হয়ে গেল। আমরা তখন প্রত্যক্ষ করতে থাকি যে, যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো সময়ে যেকোনো দল বা আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার মতো এক অসাধারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেশটাতে পেল। এবং এই গণতান্ত্রিক পরিবেশে গা ভাসানোর জন্য শিল্পী-সাহিত্যিকরাও মোটেই পিছিয়ে থাকতে চাইলো না এবং ফলে, আমরা, তখন, বিংশ শতাব্দীর শেষে এসেও রাজকবি, রাজকন্ঠশিল্পী আর রাজনট-নটীদের সাক্ষাৎ পাই, যাদের কাজই হলো রাজার আদর্শের কথা শিল্পের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া। আর শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমের কথা রেখে যদি থিয়েটারের কথা ভাবি, দেখি, তখন স্পষ্ট হই যে- আমাদের মধ্যেও ঘটে গেছে এক অদ্ভুত পরিবর্তন। দেশ-সমাজ-সংস্কৃতি প্রভৃতির আদলে বা আদর্শে শুরু হওয়া নাট্যকর্ম ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছে ব্যক্তিগত আদর্শ আর দর্শনের দিকে। সেখানে প্রতিফলিত হতে থাকলো প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া নিজস্ব আদর্শের ছায়া। আয়ের সংস্থানের জন্য উঠেপড়ে লাগা নাট্যজনদের আয়ের উৎসই নির্ধারণ করতে শুরু করলো নাটকের মূল থিম কী হবে।

বর্তমান বিশ্ববাজারের বাজার দখলের মূল সূত্রই হলো ইমোশনকে কাজে লাগানো। আমাদের স্বাধীনতা বলি আর ধর্মই বলি আর নারী স্বাধীনতাই বলি, সব কিছুকেই মারাত্মকভাবে সম্মান করে এই বিশ্ববাজার। কারণ, তার প্রধান ক্লায়েন্টের, ভোক্তার, ইমোশনকে সম্মান না করে তাকে বাজারে ইনভলব করা সম্ভব না। আর সেই ইনভলবমেন্টকে সহযোগিতার খেলায় মেতে উঠলো আমাদের নাট্যজনেরাও। গ্রুপ থিয়েটার বা গোষ্ঠীগত শিল্পচর্চার যে উত্থান হয়েছিল স্বাধীনতার পর, আমরা লক্ষ্য করতে থাকি, এবং অবশেষে দেখতে পেতে থাকি যে, এই গোষ্ঠী ক্রমশ ভেঙে ভেঙে এককে পরিণত হলো। কেউ আর সবাইকে নিয়ে ভাববার চর্চায় রইলো না, নিজের ভাবনায় আচ্ছন্ন হয়ে রইলো, একক শক্তি নিয়ে, এবং, ফলে, থিয়েটারওয়ালাদের একটা বড় অংশ দেখতে পেল যে, তারা নিঃসঙ্গ, তারা এক মরীচিকার পেছনে ঘুর ঘুর করছিল স্বাধীনতার পর থেকেই। দেশ-সমাজ-স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ-শিল্প-সংস্কৃতি প্রভৃতি হৃদয় নিঙড়ানো বোধগুলোকে আলতু-ফালতু শব্দ ছাড়া আর কিছুই তাদের কাছে মনে হওয়ার অবকাশ থাকলো না। আমরা প্রত্যক্ষ করতে থাকলাম, মঞ্চে যে ভাষা ব্যবহৃত হতে থাকলো, তা আসলে বাজারি ভাষা, থিয়েটারের ভাষা না। আয়ের উৎসমুখকে খুশি করার জন্য বাজারি ভাষার বিকল্প কিছু করার শক্তি ফুরিয়ে গেল থিয়েটারওয়ালাদের। তাদেরও মূল ক্লায়েন্ট হয়ে গেল বিজ্ঞাপন দাতা এবং তাদের বাজার। ফলে থিয়েটারের যে মূল ক্লায়েন্ট, দর্শক, সেই দর্শককে এই বাজারি ভাষায় চমকিত করা গেল না। এবং আমরা ক্রমশই প্রত্যক্ষ করতে থাকি যে, দর্শক তার নিজের ভাষা মঞ্চে না পাওয়ার দরুণ মঞ্চবিমুখ হয়ে পড়লো। এবং আমরা আচানক স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতি আর থিয়েটার চর্চার মধ্যে এক অভূতপূর্ব সামঞ্জস্য প্রত্যক্ষ করতে পারলাম। রাজনীতির যে মূল ক্লায়েন্ট, জনগণ, সেই জনগণকে কখনো (এমনকি নির্বাচনের সময়েও) প্রয়োজন হয় না রাজনীতিবিদদের এবং, পাশাপাশি, আমরা দেখতে পাই, থিয়েটারের যে মূল ক্লায়েন্ট, দর্শক, সেই দর্শকদেরকেও থিয়েটারওয়ালাদের আর প্রয়োজন পড়ে না নাটক মঞ্চায়নের সময়। আমরা বলতে থাকি এবং শুনতে থাকি যে- পরাধীন জাতির নাটক হয় না এবং যেহেতু ‘নাটক’ এখন আর ‘হয়ে’ ওঠে না, ফলে বুঝতে পারি, আমরা স্বাধীন নই, মূলত পরাধীনই বটে।

এই পরাধীনতা অবশ্যই রাজনৈতিক আর সাংস্কৃতিক। রাজনৈতিকভাবে আমরা ’৭১ পূর্ববর্তী ভাবনা ভাবতে থাকি এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই ভাবতে থাকি, ফলে, নিশ্চিত হই যে, আমরা পরাধীন। আর সাংস্কৃতিকভাবে আমরা ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থানে নিরব থাকি, ’৭১ এর পরও ’৭১ পূর্ববর্তী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরির যে প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়, তাতে শঙ্কিত হই না বরং তাদের আর আমাদের ভাষা-ভাষ্য এক তারে বাঁধা পড়ে, ফলে, আমরা বুঝতে পারি যে, আমাদের চেতনার মুক্তি ঘটে নি। আমরা দুর্বল হতে থাকি এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলার অভ্যাস গড়তে থাকি। আমাদের নাট্যভাষা মঞ্চে ক্রমশ কম-জোরী হয়ে পড়ে, ফলে, মঞ্চের মুক্তিযুদ্ধ আজ আর প্রতিবাদ করে না, সে কেবল কাঁদে। প্রতিটি দৃশ্যে আমরা রাজাকারের উত্থান দেখি আর মুক্তিযোদ্ধা সেই উত্থানে কেবলই কাঁদে- বাপ-মা-১৪ গোষ্ঠীরে জড়ায়া খালি কান্দে, কান্দে আর চিৎকার করে বলে- ক্যান করছিলাম মুক্তিযুদ্ধ, ক্যান, ক্যান? এবং আমরা আবারো বুঝতে পারি, নাট্যজনদের ক্রমশই বাজারি হয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতাই এই কান্নার মূল উৎস। আমরা আচানক দেখতে পাই, রাজনীতিবিদ ভুলতে চায় সব ভেদাভেদ, পক্ষ-বিপক্ষ ভেদাভেদে তারা আর বিশ্বাসী হয় না এবং, অন্যদিকে থিয়েটারওয়ালারাও ভেদাভেদ ভুলতে চায়, বসতে চায় তাদের পাশাপাশি কাতারে। এবং আমরা শুনতে পাই, থিয়েটারকে বাঁচাতে থিয়েটারওয়ালারা মৌলবাদীদের সাথে ‘ডায়লগে’ বসতে চায় এবং অদ্ভুতভাবে প্রত্যক্ষ করি, শায়খ আবদুর রহমানও সবার সাথে ‘ডায়লগে’ বসতে চায়। এবং আমরা বুঝতে পারি, লক্ষ করি, মৌলবাদের ভাষ্য আর আমাদের থিয়েটারের ভাষ্য একই রঙ ধারণ করে। দর্শক এই একই রঙ হওয়াটা বড়ই না-পছন্দ করলো এবং মঞ্চ দর্শক শূন্য হলো।

আমরা এখন অনেকটাই শান্তি প্রিয় হয়ে পড়ি। কোনো বিষয়েই আমরা আর তর্কে যেতে যেন রাজি হই না। আমরা বলতে থাকি- তুমিও ভালো, সে-ও ভালো। এটাও ভালো- সেটাও ভালো। কালোও ভালো- সাদাও ভালো। নিজের আদর্শ আর চেতনা আর উদ্দেশ্য, সব কিছুই সমর্পিত আজ বাজারের কাছে। আমি এক টেবিলে বলে যাই গ্লোবালাইজেশনের কথা, অন্য টেবিলে বলতে থাকি ইন্টারন্যাশনালাইজেশনের কথা। আমাদের সবারই কথার নেশায় পেয়ে গেছে। আর এই নেশা ধরিয়েছে ‘বাজার’। মন চাইলে বলবো- থিয়েটার হলো নান্দনিক ফর্ম আবার মন চাইলেই বলবো নন্দন-টন্দন বুঝি না, রাজনীতি ছাড়া থিয়েটার হয় নাকি? এবং আমরা লক্ষ্য করি, যদি কেউ, হয়তো কেউ করে না, তবুও যদি কেউ এসবের প্রতি-উত্তর করে এবং ব্যাখ্যা দিতে উদ্যত হয়, হাসি মুখেই তাকে বলা হয়- হ্যাঁ, তুমিও ঠিক। সংবিধানও ঠিক আর ফতোয়াবাজিও ঠিক, শস্যও ঠিক আর টুপিও ঠিক, মুক্তিযুদ্ধও ঠিক আর রাজাকারও ঠিক।

সব ‘ঠিক’-এর এই দেশে নিজেকে কেবলই দুর্বল মনে হতে থাকে। কেবলই একা মনে হতে থাকে। ‘বাজার’ আচানক আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে ‘একা’ করে দিল।

ইতি
হাসান শাহরিয়ার
২৬ মার্চ, ২০০৬
সোবহানবাগ, ঢাকা।