Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

মূকাভিনয় : মৌনভাষায় মুখরতার শিল্পরীতি

Written by জাহিদ রিপন.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

বিভিন্নতর অভিনয়-আঙ্গিকের মধ্যে মূকাভিনয় নিঃসন্দেহে অন্যতম এবং আদিতম। সঙ্গত কারণে, মূকাভিনয় সর্ম্পকিত আলোচনার পুরোভাগে অভিনয় বিষয়ক সংক্ষিপ্ত অগ্রজ্ঞান অত্যাবশ্যকীয় ও প্রাসঙ্গিক।
‘অভিনয়’ সর্ম্পকে সাধারণভাবে বলা যায়- যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক ব্যক্তি নিজ ব্যতীত অন্য কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র বা চরিত্রসমূহের আবেগ-অনুভূতি স্বীয় অন্তরে ধারণপূর্বক শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক ব্যবহার এবং নানা সংলাপের সুষ্ঠু সমন্বয়ে মনের আবেগ-অনুভূতি সার্থকভাবে প্রকাশের মাধ্যমে দর্শকসম্মুখে উক্ত চরিত্র বা চরিত্রসমূহকে জীবন্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে, তাকে এককথায় অভিনয় বলা যেতে পারে। পূর্বোক্ত সংজ্ঞায় বর্ণিত ‘শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক ব্যবহার’ বলতে বোঝায়- অভিনেয় চরিত্রানুযায়ী প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত সঞ্চালন; ‘নানা সংলাপের সুষ্ঠু সমন্বয়’ অর্থ- অভিনেয় চরিত্র-বৈশিষ্ট্যানুযায়ী উক্তি-প্রত্যুক্তিসমূহ সঠিক ও যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রক্ষেপণ; ‘মনের আবেগ-অনুভূতি সার্থকভাবে প্রকাশ’ করা মানে- অভিনেয় চরিত্রের মানসিক গঠন ও অবস্থাকে স্বীয় মানসিক গঠন ও অবস্থা জ্ঞানে অন্তঃকরণে ধারণ ও সঠিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে উপস্থাপন এবং ‘দর্শকসম্মুখে উক্ত চরিত্র বা চরিত্রসমূহকে জীবন্তভাবে প্রতিষ্ঠিতকরণ’ বলতে অভিনেয় চরিত্রটিকে দর্শক-প্রত্যক্ষে সার্থকভাবে দৃশ্যমান তথা বিশ্বাসযোগ্য ও শৈল্পিক-সুষ্ঠুতায় উপস্থাপনকে বোঝায়।

সূচনায়ই উল্লিখিত হয়েছে যে, অভিনয়-এর বহুবিধ আঙ্গিকের মধ্যে মূকাভিনয় প্রাচীনতম। স্মরণাতীত কাল অর্থাৎ মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে সভ্যতা ও সমাজব্যবস্থার ক্রমবিবর্তনের সমতলে মূকাভিনয় চর্চাও মর্যাদাপূর্ণ শিল্পরীতির গুরুত্বে লালিত। উপর্যুক্ত মন্তব্যের স্বাক্ষী আদিম নাট্য তথা মিশর, গ্রিস, রোম, চিন, তিব্বত, জাপান, বার্মা, ভারত, বাঙলা প্রভৃতি অঞ্চলের নাট্যচর্চার উদ্ভব ও ধারাবাহিকতার ইতিহাস।

মূক+অভিনয় = মূকাভিনয়, অর্থাৎ ‘মূক’ এবং ‘অভিনয়’ শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে ‘মূকাভিনয়’ শব্দটি উদ্ভূত। ‘মূক’ এর আভিধানিক অর্থ- বাকশক্তি রহিত; বোবা; কথা বলতে পারে না এমন।১ অর্থাৎ যিনি সংলাপ বা প্রচলিত উচ্চারণযোগ্য ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে স্বীয় আবেগ-অনুভূতি তথা বক্তব্য প্রকাশে অক্ষম। সুতরাং মূকাভিনয় প্রাথমিকভাবে এমন অভিনয়রীতির প্রতি ইঙ্গিত করে, যে শৈলীতে এক বা একাধিক অভিনেতা কর্তৃক কোনো ঘটনা বা বক্তব্য-বিষয় কোনোরূপ উক্তি বা সংলাপবিহীনভাবে অথচ বোধগম্যরূপে দর্শক-সম্মুখে উপস্থাপিত হয়।

মূকাভিনয়-এর আধুনিক ইংরেজি প্রতিশব্দ Pantomime (প্যান্টোমাইম)। Pantomime কথাটি এসেছে Pantomimus (প্যান্টোমিমাস) অর্থাৎ ‘মূকাভিনেতা’ থেকে- যে শিল্পী কেবল ছন্দোময় অঙ্গভঙ্গি দ্বারাই কোনো বক্তব্য ও ঘটনা প্রকাশ করেন (মূল অর্থ Pantomime dancer, ইংরেজী Pantomimist)২ Pantomime শব্দটি গ্রিক শব্দ, এর বিশুদ্ধ অনুকৃতি (All mimic)৩.Pantos ও Mimeomai শব্দদ্বৈতের মিলনসম্ভূত শব্দরূপ Pantomime.৪  

মূকাভিনয় শিল্পটিকে বিশেষজ্ঞগণ নানাবিধ দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যায় ব্রতী হয়েছেন। এতদ্বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞানিচয় উদ্ধৃতকরণের মাধ্যমে মূকাভিনয় সম্পর্কে সাধারণ ধারণায় উপনীত হওয়ার প্রয়াস পাওয়া যেতে পারে। ভারতের প্রথম আধুনিক মূকাভিনয় শিল্পী শ্রী যোগেশ দত্তের বিবেচনায়- মৌন অভিব্যক্তির দ্বারা মানুষের অন্তরের আবেগ ও উৎকন্ঠা সুখ, দুঃখ, উল্লাস ও আতঙ্ককে জীবন্ত করে তোলার এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিঃশব্দ সঞ্চালনের দ্বারা গতিশীল জীবনের কোনো রূপ ও আকার ফুটিয়ে তোলার যে শিল্প কৌশল তাকেই বলে গরসব বা মূকাভিনয় ৫। মূকাভিনয়-তাত্ত্বিক অধ্যাপক শ্যামমোহন চক্রবর্তীর মতে- মূকাভিনয় অর্থ সংলাপ উচ্চারণ না করিয়া শুধুমাত্র অঙ্গের অভিব্যক্তি দ্বারা আপন মনোভাব ব্যক্ত করা ৬। সঞ্জীব সেন বলেন, (মূকাভিনয় হচ্ছে) সংলাপ না বলে শুধুমাত্র অভিব্যক্তি এবং আঙ্গিক অভিনয়ের দ্বারা নাট্যবস্তুকে মঞ্চে প্রকাশ করা৭। অধ্যাপক জিয়া হায়দারে সিদ্ধান্ত, (মূকাভিনয়) এমন এক ধরনের নাট্যকলা যাতে অভিনেতা কোনোরূপ সংলাপ ছাড়াই কেবল অভিব্যক্তি ও এ্যাকশন দ্বারা কোনো ঘটনা, কাহিনী ও বক্তব্য প্রকাশ করে থাকে৮। The New Encyclopedia Americana-য় মূকাভিনয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, ... is communication by gesture, a stylized form of acting in which the performer does not speak. The actor portrays characters and depicts events using only his body, face and hands in universally understandable actions, Generally the only props he uses are imaginary 9. The Macmillan Encyclopedia-য় উক্ত হয়েছে, Acting without words by physical gestures alone10. Grolier International Encyclopedia-এর মতে, Mime and pantomime, popular theatrical forms since antiquity, are dramatic performances in which a story is told or a theme developed through expressive bodily or facial movement11. New Standard Encyclopedia-অনুযায়ী, Pantomime,… a kind of theatrical performance. The most common use of the term is for a performance in which gestures and facial expressions are used instead of speech. Pantomime is sometimes an independent show, but it is also part of all drama and ballet 12.The New Encyclopedia Britannica-য় দৃষ্ট হয়, the mime and pantomime has come to be in Modern times the art of creating and portraying a character or of narration solely by body movement ( as by realistic and symbolic gestures) and refers to both the performance and the performer 13.

উপর্যুক্ত সংজ্ঞা-সমূহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহজ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে, প্রকৃত প্রস্তাবে মূকাভিনয় হচ্ছে, এক বা একাধিক অভিনেতা কর্তৃক কোনো ঘটনা বা বিষয়বস্তুর আবেগ-অনুভূতি স্বীয় অন্তঃকরণে ধারণপূর্বক কোনোরূপ সংলাপ ব্যতিরেকে শুধুমাত্র শারীরিক আবেগ, অনুভূতি, অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উক্ত ঘটনা বা বিষয়বস্তুকে দর্শকসম্মুখে শিল্পসম্মতভাবে উপস্থাপন।

সাধারণ্যে এ ধারণাটি বর্তমান যে, মূক বা বাকশক্তিহীন তথা বোবা ব্যক্তির অঙ্গভঙ্গি বা অভিব্যক্তি-আঙ্গিকই মূকাভিনয়। বলাবাহুল্য, পূর্বোক্ত বিবেচনাটি ভ্রান্তি উদ্ভূত। কেননা, মূকাভিনয়ের অন্যতম শর্ত উপস্থাপিতব্য বিষয়ের সর্বজনসংযোগ স্থাপন যোগ্যতা বা বোধগম্যতা এবং শৈল্পিকতা। এতদ্ক্ষেত্রে, প্রাকৃতিকভাবে বা জন্মসূত্রে মূকমাত্রের অঙ্গভঙ্গি বা অভিব্যক্তি সর্বলোকবোধগম্য এবং শিল্পসমোন্নতির মাত্রাস্পর্শী না হওয়াই স্বাভাবিক। উপরন্তু, একথা জ্ঞাত যে, অন্যান্য শিল্পের ন্যায় বাস্তব জগৎ থেকে অভিনয়ের রসদ আহরিত হলেও অভিনয় ও বাস্তব জীবন ভিন্নতর। অভিনয় নিশ্চিতই ব্যবহারিক জীবন-অভিজ্ঞতার প্রকাশ, যেখানে অভিনেতা পূর্বনির্ধারিত বিষয়-পরিস্থিতির আবর্তে দর্শকসম্মুখে অভিনেয় বিষয় বা চরিত্র উপস্থাপনে এমনতর বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বতঃস্ফূর্ততার প্রকাশ ঘটান, যা তাৎক্ষণিকতার বিভ্রম সৃষ্টি করে। কিন্তু, মূকব্যক্তির বাস্তব জীবনের আচরণসমূহ সম্পূর্ণরূপেই স্বাভাবিক কর্ম বা স্বভাবজ (Behaviour)। আর দ্বিমতের অবকাশ নেই যে, ‘অভিনয়’ ও ‘স্বভাবজ আচরণ’ অর্থাৎ ActingBehaviour কোনো বিবেচনাতেই অদ্বৈত নয়। সুতরাং মূক বা বাকশক্তিহীনমাত্রের আচার-আচরণই মূকাভিনয় পদবাচ্য নয় বরং বলাবাহুল্য অনুপম শিল্প মূকাভিনয় শিল্পশর্ত পূরণের মাধ্যমেই নিশ্চিতভাবে বাস্তব হতে ভিন্নতর এবং অধিকতর।

সর্ববিধ শিল্পানুরূপ মূকাভিনয়-এরও রয়েছে স্বকীয়-বৈশিষ্ট্য এবং কতিপয় আবশ্যকীয় স্বতন্ত্র কিন্তু অলিখিত সাধারণ নিয়ম। মূকাভিনয়ে অভিনেয় বিষয়ের সম্পূর্ণটাই মূকাভিনেতার শরীর অর্থাৎ অঙ্গভঙ্গি ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং সাধারণত মূকাভিনয় উপস্থাপনায় বাস্তবসম্মত সামগ্রীর সর্বোচ্চ ন্যূনতম ব্যবহারই প্রত্যাশিত। মূকাভিনয়ের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে সমকালীন স্বনামখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পী মার্সেল মার্সো (Marcel Marcea, ১৯২৩-) বলেন, In identifying ourselves with the elements that surround us, the art of mime makes visible the invisible, makes concrete the abstract ১৪. সুতরাং মূকাভিনেতাকে অবশ্যম্ভাবীভাবে স্বীয় শরীর সহযোগে কাঙ্ক্ষিত বস্তু, পরিবেশ তথা অনুভুতির মায়া (Illusion) সর্বেচ্চ সার্থকভাবে সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শক কল্পনাকেও স্ব-কল্পনার সমান্তরালে প্রবাহিতকরণে সক্ষম হতে হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, মূকাভিনেতা যখন একটি কাল্পনিক-অস্তিত্বহীন-অবাস্তব ‘ভারী বস্তু’ উত্তোলনের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করেন, সেক্ষণে দর্শকও অভিনেতার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি-অভিব্যক্তি প্রভৃতির মাধ্যমে বর্ণিত বস্তুটির আকার-আয়তন-ওজন ইত্যাদি প্রত্যক্ষ করবেন। কিংবা, রৌদ্রজ্জ্বলকালের ঘটনা উপস্থাপিত হলে দর্শক মূকাভিনেতার অবয়বের মাধ্যমেই রৌদ্রের তীব্রতা, সময়, স্থান প্রভৃতি অনুধাবনে সক্ষম হবেন। এতদ্সঙ্গে অভিনেয় চরিত্রের মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াও (যেমন: দুঃখ, ক্রোধ, ভাললাগা, ঘৃণা প্রভৃতি) মূকাভিনেতার অভিব্যক্তির মাধ্যমেই দর্শকান্তরে স্পষ্টরূপে প্রকাশিত হবে। উল্লিখিত শৈল্পিক-উদ্দেশ্যপূরণের স্বার্থে মূকাভিনেতাকে মঞ্চে, সাধারণভাবে, সর্বপ্রকার অঙ্গভঙ্গি ও অভিব্যক্তি স্বাভাবিক বাস্তবতার সাপেক্ষে ইষৎ উচ্চকিত ও আর্কষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে হয়। ভাষার অনুপস্থিতি হেতু অঙ্গভঙ্গি-অভিব্যক্তি মূকাভিনয়ে দর্শকসংযোগ স্থাপনের একমাত্র নির্ভরতা,  সঙ্গত কারণেই উপস্থাপনার প্রতিটি ভঙ্গিতে মূকাভিনেতা কর্তৃক দর্শক-অনুধাবনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ন্যূনতম কালক্ষেপণ একান্তভাবেই জরুরি। তবে স্মর্তব্য যে, এক্ষেত্রে মাত্রাজ্ঞানহীনতা এবং তৎ কারণে উদ্ভূত অন্তর্ছন্দহীনতা মূকাভিনয়কে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করতে পারে। উপরন্তু, মূকাভিনয়ে অভিনেতার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি ও অভিব্যক্তি অবশ্যই অর্থপূর্ণ হওয়া আবশ্যক, অন্যথায় অভিনেয় বিষয় সম্পর্কে দর্শকান্তরে বিভ্রান্তি উপজাত হবে। সাধারণভাবে মূকাভিনয় উপস্থাপনকালে, নির্বাক-অভিনয় সদৃশ অভিনেতার ওষ্ঠাধরের অযাচিত সঞ্চালন বা Lipping এবং কোনোরূপ সংলাপ বা শারীরিক শব্দ প্রত্যাশিত নয় (অবশ্য অধুনা কোনো কোনো ক্ষেত্রে উক্ত বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে, তবে তা পরীক্ষামূলক)। মূকাভিনয় শিল্পীর অনুক্ষণ সগুরুত্বে স্মরণ রাখা আবশ্যক যে, শাশ্বত ও অনুপম শিল্প মূকাভিনয় ভূগোল ও ভাষার দুরূহ প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমণের মাধ্যমে সর্বজন সংযোগ স্থাপনের যোগ্যতাধারী, সুতরাং ভাঁড়ামি বা অশ্লীলতা তথা অনায়াসলব্ধ সাফলের মোহে মূকাভিনয়-এর শৈল্পিক-সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করা অনুচিত।

অভিনয়-ইতিহাস প্রাসঙ্গিক আলোচনায় ড. সেলিম আল দীন অভিমত প্রকাশ করেন যে, নৃত্য ও নাট্যের আদি ইতিহাস মানব শরীরের ক্রম বির্বতনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিনয় মানব শরীরের সুনির্দিষ্ট ক্রিয়ার ঊর্ধে মানব সৃষ্ট এক বিস্ময়কর সৃজনশীলতা। জীব জগতেও ভঙ্গী আছে, বানর থেকে বাঘ, শালিখ অথবা ময়ূর- কিন্তু সে সব স্বকৃত নয় স্বভাবজ। শিল্পকলার অন্যান্য শাখার সঙ্গে অভিনয়ের উপাদানগত যে পার্থক্য তা নির্ণয় পূর্বক বলা যায় যে- অভিনয় সম্পূর্ণত মানব-দেহকে অবলম্বন করেই গড়ে উঠেছে১৫। নাট্যতাত্ত্বিকের পূর্বোদ্ধৃত মতামতের সঙ্গে ঐকমত্যপোষণ করে আরো বলা যায় যে, অভিনয়-এর বিশেষ শ্রেণী মূকাভিনয়-এর ন্যায় নৃত্যশিল্পও আপাদশীর্ষ মানবদেহকে অবলম্বন করেই বিকশিত। শিল্পীর শরীর তথা আঙ্গিক ও অভিব্যক্তি উল্লিখিত শিল্পদ্বৈতের সাধারণ প্রকাশমাধ্যম সত্ত্বেও এদের অভ্যন্তরে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান এবং বা মূলত প্রয়োগকৌশলগত। নৃত্যকলায় উপস্থাপিত বিষয় উচ্চকিত তাল-লয় ছন্দানুযায়ী প্রকাশিত; অন্যপক্ষে, মূকাভিনয়ের ক্ষেত্রে শিল্প-সুষমার নিমিত্ত আবশ্যকীয় তাল-লয়-ছন্দ মূকাভিনয়ের অন্তর্প্রদেশে সতত বর্তমান সত্ত্বেও তা নৃত্যানুরূপ উচ্চকিত বা প্রকাশ্য নয় এবং মূকাভিনয়ের প্রবণতা প্রকৃত প্রস্তাবে অভিনয়াভিমুখী। উপরন্তু, নৃত্যে প্রয়োগের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় মুদ্রা (হস্তভঙ্গি) এবং বলাবাহুল্য মুদ্রাসমূহের পূর্ব-নির্ধারিত অর্থ সম্যকভাবে জ্ঞাত নন এমন দর্শকের নিকটে উপস্থাপিত নৃত্য-বিষয়ের প্রকৃত তাৎপর্য প্রাঞ্জলভাবে অননুধাবনের সম্ভাবনাই অধিক, ফলে অভীষ্ট মাত্রায় রসাস্বাদনও অসম্ভব। পক্ষান্তরে, মূকাভিনয় শিল্পের ক্ষেত্রে ঈদৃশ শাস্ত্র-নিয়ন্ত্রিত অলঙ্ঘনীয় কোনো মুদ্রার অস্তিত্ব নেই বরং মূকাভিনয় শিল্পী বা নির্দেশক বাস্তব  জীবনের স্বীয় অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ এবং তৎসঙ্গে কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ইপ্সিত প্রকাশের আবশ্যকীয় ‘মুদ্রা’ ও ‘চারী’ (পদ, জঙ্ঘা, উরু ও কটিদেশের যুগপৎ সঞ্চালন ১৬) উদ্ভাবন করেন, যা অবশ্যম্ভাবীভাবেই সর্বসাধারণের নিকটে গ্রহণযোগ্য, বোধগম্য তথা সংযোগ স্থাপন ক্ষমতার সাধারণ গুণসম্পন্ন হতে হয়। কেননা, মূকাভিনয় দর্শনকালে মূকাভিনেতার শারীরিক সঞ্চালন, অঙ্গভঙ্গি, মানসিক ক্রিয়া ও অভিব্যক্তির সমন্বয়ে সৃষ্ট মোহানুযায়ী (Illusion) দর্শকও মঞ্চে উপস্থাপিত অদৃশ্য বা বাস্তব অবয়বহীন সকল কিছুই অবিরল চিত্রকল্প সৃজনের মাধ্যমে নিজস্ব মানস চক্ষে প্রত্যক্ষণরত থাকেন। সুতরাং ‘প্রায় অসম্ভব’ বর্ণিত কর্মটির সাফল্যের জন্যে অত্যাবশ্যক হচ্ছে উপস্থাপিতব্য বিষয়বস্তুর সঙ্গে মূকাভিনেতার প্রকৃত একাত্মতা এবং অভিনেয় পরিস্থিতিকে নিজস্ব সত্যিকার বাস্তব পরিস্থিতি জ্ঞানে স্বীয় অন্তরে অনুধাবন ও ধারণ। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, মূকাভিনয় উপস্থাপনকালীন অদৃশ্য বিষয়বস্তুর চিত্রকল্প সৃষ্টির ক্ষেত্রে মূকাভিনয় শিল্পী ও দর্শকের কল্পনাকে অবশ্যম্ভাবীভাবে একই সূত্রে গ্রন্থিতকরণ আবশ্যক এবং বলাবাহুল্য উল্লিখিত বিষয়ের সাফল্যের ওপরই মূকাভিনয়ের সার্থকতা  নির্ভরশীল। যা হোক, মূকাভিনয় এবং নৃত্যশিল্পের মধ্যে কতিপয় উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য সত্ত্বেও সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম বিদ্যমান এবং  অনুরূপ সুসাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও বিদিত অভিনয়রীতির সাপেক্ষে মূকাভিনয় ভিন্নতর বৈশিষ্ট্যধারী। সুতরাং সর্বিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত প্রকাশ অবান্তর নয় যে, মূকাভিনয় যথার্থই অভিনয় ও নৃত্যের প্রতিবেশী, অর্থাৎ সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায়, শিল্প হিসেবে মূকাভিনয়ের অবস্থান ‘নৃত্য’ শিল্প ও ‘অভিনয়’ শিল্পের মধ্যবর্তী অঞ্চলে।

ভরত নাট্যশাস্ত্র অনুযায়ী সমগ্র অভিনয়কলা চতুর্বিধ শ্রেণীতে বিন্যস্ত, যথা ক. আঙ্গিক অভিনয় (শরীর, মুখজ এবং শাখা, অঙ্গ-উপাঙ্গ কর্তৃক চেষ্টাকৃত অভিনয়); খ. বাচিক অভিনয় (বচন বা কথা অর্থাৎ উক্তি-প্রত্যুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত অভিনয়); গ. আহার্য অভিনয় (পোশাক-পরিচ্ছদ, অঙ্গরচনা ও আবশ্যকীয় দ্রব্য-সামগ্রীর মাধ্যমে প্রকাশিত অভিনয়-ব্যঞ্জনা); ঘ. সাত্ত্বিক অভিনয় (আন্তরিক ভাব সমষ্টির দ্বারা প্রাণের আবেগ পরিস্ফুটনের মাধ্যমে প্রকাশিত অভিনয়) ১৭। বর্তমান আলোচ্য মূকাভিনয়কে উপর্যুক্ত অভিনয় চতুষ্টয়ের কোন বিশেষ বিভাগবৃত্তে স্থাপন করা যৌক্তিক, এক্ষণে তা আলোচনার প্রয়াস পাওয়া যেতে পারে।

মূকাভিনয়-এ অঙ্গ-প্রতঙ্গের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার প্রত্যক্ষণপূর্বক অনেকে উক্ত রীতির অভিনয়কে সম্পূর্ণরূপে ‘আঙ্গিক অভিনয়’ অভিধায় শ্রেণীকরণে প্রবৃত্ত হন।

বলাবাহুল্য, ব্যাপকভাবে প্রচলিত উল্লিখিত বিশ্বাসটি ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত। কেননা, উচ্চাঙ্গের মূকাভিনয়ে মূকাভিনয় শিল্পীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ-উপাঙ্গের ব্যবহার মাত্রই যথেষ্ট নয় বরং তৎসঙ্গে সঠিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে ভাব-রস প্রভৃতির বহিঃপ্রকাশও অত্যাবশ্যকীয় (কেননা, ভাব-রস প্রভৃতির যৌক্তিক প্রকাশ ব্যতিরেকে মূকাভিনয়-প্রচেষ্টা নিছক শরীর সঞ্চালন মাত্র এবং তা শৈল্পিক মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার অযোগ্য)। আর এতদ্বিষয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই যে, ভাব-রস ইত্যাদি বহিঃপ্রকাশের নেপথ্যে মানসিক ক্রিয়া একটি একান্ত জরুরি অনুষঙ্গ। অর্থাৎ মূকাভিনয়ে আঙ্গিক অভিনয়ের সঙ্গে সাত্ত্বিক অভিনয়ও সমমাত্রায় প্রয়োজনীয়। সাধারণ বিবেচনায় বলা যায় যে, মূকাভিনেতার শরীরই যেহেতু মূকাভিনয়ে প্রধান নির্ভরতা, সুতরাং উপস্থাপনকালে পরিধেয় পোশাক-পরিচ্ছদ শারীরিক-মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনে সুসহায়করূপে পরিকল্পিত হওয়া আবশ্যক (যেমন: বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত অধিক ঢিলা পোশাক-পরিচ্ছদ বর্জনীয়)। উপরন্তু, পোশাকের বর্ণ যেন কোনোক্রমেই মূকাভিনয় শিল্পীর অভিব্যক্তি প্রকাশে তথা উপস্থাপিতব্য বক্তব্য-বিষয় হৃদয়ঙ্গমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে এবং মঞ্চের পশ্চাদ্পটের রঙের সঙ্গে একীভূত না হয়- এ সকল বিষয়েও সচেতনতা জরুরি। মূকাভিনয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে, সাধারণত, মূকাভিনেতার মুখাভিব্যক্তি উচ্চকিতকরণের লক্ষ্যে বিশেষ ‘সাদা-মুখ অঙ্গরচনা’ (White-face Make-up) প্রযুক্ত হয় (সম্প্রতি অবশ্য উক্ত প্রকৃতির অঙ্গরচনা বর্জনের প্রবণতা লক্ষণীয়, তথাপি সেসব ক্ষেত্রেও সাধারণ অঙ্গরচনা গৃহীত হয়)। যা হোক, সার্বিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা অমূলক হবে না যে, মূকাভিনয় প্রকৃতপক্ষে আঙ্গিক, আহার্য ও সাত্ত্বিক অভিনয়ের বিশেষ মাত্রার সুসমন্বয়, শুধুমাত্র প্রচলিত ধারণার বাচিক অভিনয়ের বিপরীতে তদ্স্থলে মূকাভিনয় শিল্পীকে স্বীয় সমগ্র মূক-মৌনী শরীরকে মুখরকরণ অর্থাৎ ভাষাপ্রকাশে সমকরণের মাধ্যমেই উপস্থাপিত বিষয় সর্বজনবোধগম্যরূপে প্রকাশে পারদর্শী হতে হয়। তাই, মূকাভিনয় বিষয়ক আলোচনা প্রসঙ্গে মূকাভিনয় শিল্পী জিল্লুর রহমান জন প্রদত্ত বিবেচনা- যে  রীতিতে এক বা একাধিক অভিনেতা/অভিনেত্রী নির্দিষ্ট মঞ্চে দর্শকের সামনে বাচিক ব্যতিরেকে আঙ্গিক, আহার্য ও সাত্ত্বিক কলা ব্যবহার করে মোহ সৃষ্টির মাধ্যমে গতিশীল জীবনের কোনো চিত্র শিল্পসম্মতরূপে অর্থপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন, তাকে মূকাভিনয় বলা যেতে পারে ১৮। প্রসঙ্গত গধংঃবৎ ড়ভ গরসব ফরাসি মূকাভিনয়-গুরু এতিয়েন দুক্রু (Etienne Decroux) এর বক্তব্য উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, Mime is a bodily expressive form which relies on reshaping the whole body rather than just making gestural adjustments and that the group is all important not the individual ১৯.

উপর্যুক্ত আলোচনার অভ্যন্তর দিয়ে সম্ভবত অনুধাবনকরণ সম্ভবপর হয়েছে যে, মূকাভিনয় শিল্পের প্রধান অবলম্বন মূকাভিনয় শিল্পীর শরীর এবং এর মাধ্যমেই উক্ত অভিনয় আঙ্গিকে সংযোগসাধন এবং ভাব ও ক্রিয়ার শৈল্পিক প্রকাশের অন্তহীন যাত্রা। প্রশ্ন উত্থিত হওয়া স্বাভাবিক যে, সংলাপ ব্যতিরেকে শুধুমাত্র আপাতমৌন শরীর-নির্ভরতায় বিশ্ব-জগতের ভাব ও ক্রিয়া প্রকাশের সীমা কোন মাত্রায়? আধুনিককালের নাট্যবিশেষজ্ঞ ড. সেলিম আল দীন-এর বক্তব্য এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। তাঁর সুচিন্তিত অভিমত, সপ্তস্বরের ষড়জ বা ঋষভ অথবা গান্ধার কিংবা অন্য স্বরের মধ্যে যেমন, অনন্তকালের অজস্র সুর বাঁধা আছে- তেমনি অঙ্গ উপাঙ্গও দ্বাদশ দেহ-স্বরে বাঁধা। সংগীতের সপ্তস্বরে যেমন পৃথিবীর সব ভাব সুর হয়ে উঠে তেমনি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যদিয়েও নিখিলের সব ভাব ও ক্রিয়া প্রকাশ করা যায় ২০।

অতএব, আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত প্রকাশ অবান্তর হবে না যে, কথার অনুপস্থিতির অর্থাৎ মৌনব্রতী শিল্প মূকাভিনয়-এর মাধ্যমে বিশ্বের সর্ববিধ অব্যক্ত ভাব ও ক্রিয়াকে শিল্পসুষমায় মুখরিতকরণ সম্ভব এবং তা নিশ্চিতই মৌখিক ভাষার সংকীর্ণতার সীমা বিলুপ্তির সমুন্নত মতাধারী। এতিয়েন দুক্রু মূকাভিনয় শিল্পীর অভীপ্সিত যোগ্যতা সর্ম্পকে তাই যর্থাথই মন্তব্য করেন- The Mime Actor must have in his head the material of a Novelist , and in his body the muscles of a Gymnast , and above all an ideal in his heart ২১.

তথ্যসুত্র:
১.    আহমদ শরীফ, সম্পাদিত, সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান (ঢাকা: বংলা একাডেমী, পরিমার্জিত ও পরিবর্তিত দ্বিতীয় সংস্করণ, কার্তিক ১৪০৬/ অক্টোবর ১৯৯৯), পৃ: ৪৭৩।
২.    জিয়া হায়দার, থিয়েটারের কথা, প্রথম খণ্ড, (ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ১৯৮৫ খ্রি:), পৃ: ৫২।    
৩.    অধ্যাপক শ্যামমোহন চক্রবর্তী, প্যান্টোমাইম তত্ত্ব ও প্রয়োগবিধি, (কলকাতা: নবগ্রন্থ কুটির, ৫৪/৫ এ কলেজ স্ট্রীট, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৯৯০ খ্রি:), পৃ: ১১।
৪.  The terms "mime" and "pantomime" are equivalent, but personal preferences exist among performers . Some feel that mime denotes the presence of technique and the stylization of movement achieved by an intense study of body control . To them pantomime implies the absence of technique, as in the performance of many comedians who handle imaginary objects but without body stylization . Etienne Decroux, who is considered the father of modern mime, labeled his personal expression of the technique, as mime and all else pantomime . Other believe the difference is based on emotional contact : mime is serious and dramatic, where as pantomime is light and frivolous . The Encyclopedia Americana, Volume-19, (Danbury: Americana Corporation, International Edition, 1978), P.134.
৫.    যোগেষ দত্ত, মূকাভিনয়ম্ (কলকাতা: নাথ ব্রাদার্স, ৯ শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, জানুয়ারি ১৯৯৩/মাঘ ১৩৯৯ ), পৃ: খ(‘লেখকের কথা’ অংশ)।
৬.    প্যান্টোমাইম তত্ত্ব ও প্রয়োগবিধি, প্রাগুক্ত, পৃ:১১।
৭.    সঞ্জীব সেন, থিয়েটারের চালচিত্র (কলকাতা: লিপিকা, ৩০/১ এ কলেজ রোড ), পৃ: ৫২।
৮.    থিয়েটারের কথা, প্রথম খণ্ড, প্রগুক্ত, পৃ: ৫২।
৯.    The Encyclopedia Americana, Volume-19, Ibid, P. 134.
১০.   The Macmillian Encyclopedia (London: Macmillian London Limited, 4 Little Essex Street, London WC2R 3LF 2nd ed. , 1986), P. 815
১১.   Grolier International Encyclopedia (Danbury: Grolier Incorporated, 1991), P. 434.
১২.   New Standard Encyclopedia, Volume-13, (Chicago: Standard Educational Corporation, 1995), P.72.
১৩.   The New Encyclopedia Britannica, VolumE-8, (Chicago: Encyclopedia Britannica, Inc, 15th edition, 1999 ), P.145.
১৪.   Samuel Atival, Mime Workbook (Colorado: LE CENTER DU SILENCE, 1975 ), P. 8.
১৫.   ড. সেলিম আল দীন, অনূদিত, অভিনয় দর্পন, মূল: নন্দিকেশ্বর। (ঢাকা: কথা প্রকাশন, ৪ পুরানা পল্টন লাইন, ১৯৮৯ খ্রি: ), পৃ: ১০ (ভূমিকা অংশ)।
১৬.   ড. সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদিত, ভরত নাট্যশাস্ত্র, দ্বিতীয় খণ্ড (কলকাতা: নবপত্র প্রকাশন, ৬ বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রীট, নভেম্বও ১৯৯০ খ্রি: ), পৃ: ৪৪।
১৭.   বিস্তারিত বিবরণের জন্যে দ্রষ্টব্য : ড. সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদিত, ভরত নাট্যশাস্ত্র, প্রথম খণ্ড (কলকাতা: নবপত্র প্রকাশন, ৬ বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রীট, জানুয়ারি ১৯৯৭ খ্রি: ), পৃ: ১৯৫।
১৮.   মূকাভিনয়ের ইতিকথা, প্রাগুক্ত, পৃ: ৩।
১৯.    Michael Billington, Performing ARTS, An Illustratel Guide, P. 105 . DׄZ: g~Kvwfb‡qi BwZK_v, cÖv¸³, c„: 140|
২০.    অভিনয় দর্পন, প্রাগুক্ত, পৃ: ৩৪-৩৫ (ভূমিকা অংশ)।
২১.    Mime Workbook, Ibid, P. 137.

জাহিদ রিপন : নির্দেশক, নাট্য ও মূকাভিনয় প্রশিক্ষক। আহবায়ক- স্বপ্নদল, ঢাকা।