Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

মিলিতে হবে দুইজনে [২]

Written by বিপ্লব বালা.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

‘একাকী গায়কের নহে তো গান, মিলিতে হবে দুইজনে;
গাহিবে একজন খুলিয়া গলা, আরেকজন গাবে মনে।’
সৈয়দ জামিল আহমেদ ঢাকা পদাতিকের বিষাদসিন্ধু নাটক নির্দেশনা-সূত্রে দর্শকের এক common sky এর কথা ভেবেছেন। যেমন কিনা রামায়ণ-মহাভারত ভারতীয় দর্শকের এক common sky. তবে একথায় হিন্দু ও মুসলমানের ভিন্ন দুই সাধারণ ভূমির কথাই ভাবছেন কিনা তা বলেননি। তবে ভারতে রামায়ণ-মহাভারত এখনো পর্যন্ত হিন্দু-মুসলমান উভয়েরই যৌথ অবচেতনে common sky হয়ে আছে। বাংলাদেশে বিষাদসিন্ধু যেমন দুই সম্প্রদায়ের মোটের উপর আজও একধরনের সাধারণ জমিন। যদিও উভয় দেশের জনমানস-গভীরে আপন ও পরের ভেদ-বিভেদের অন্তর্ঘাত ঘটে গেছে। ইতিহাস ও রাজনীতি এটি ঘটাতে পেরেছে ক্ষমতার অনিবার্য ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায়। তবে জামিল বিষাদসিন্ধু রূপায়ণকালে দর্শকের মনে বিষয়ের common sky-এর কথাই বেশি ভেবেছেন নিশ্চয়। প্রয়োগ রূপরীতির কথা তত নয়। এ নাট্যে আমরা দেশ-বিদেশের নানা উপাদানে গঠিত এক থিয়েটারের ‘আধুনিক’ ভাষার বিশিষ্ট প্রয়োগ দেখি। অন্তত নাগরিক দর্শকের গঠিত-রুচিতে তার অভিঘাত কতটা কেমন হয়েছে তেমন বুঝে দেখা হয়নি। জামিল বিষাদসিন্ধু’র পরিচিত-অভ্যস্ত কারুণ্য রূপান্তরিত করেছেন সময়ের পরিবর্তিত পরিপ্রেক্ষিত মনে রেখে। বিষয় ব্যাখ্যান-বর্ণনও তারই অনুগামী হয়। তবে দর্শক-মনের একটা সাধারণ ভূমির ভাবনা বাংলাদেশের থিয়েটারে ভিন্ন এক মাত্রা যোজনা করেছে নিশ্চয়ই। দর্শকের মনের খোঁজ নেয়াটা তেমন করে খুব বেশি করা হয়নি। বিষয়বস্তু ও প্রয়োগরীতির নানা রূপায়ণ বর্তমান সময়-রাজনীতির কথা মনে রেখেই হয়েছে। দর্শক মানসের ভাবনা-ধারণা-রুচির বিষয়টি তার ফলে অবহেলিতই বলা যায়। ঢাকা থিয়েটার তার দেশজ নাট্যরীতির সন্ধানসূত্রে নিজস্ব এক রূপায়ণ করে চলেছে। সেখানে নাগরিক দর্শক-মনের পরিবর্তিত বিভঙ্গ বিচ্ছিন্ন দশার সুলুক সন্ধানের কথাটা ওঠেনি। অথচ স্বদেশীয় প্রবহমান মানস এবং তার নানা রূপরীতির সঙ্গে নাগরিকজনের দীর্ঘ বিচ্ছেদ তো ঐতিহাসিক ঘটনাই। গত শতকের চল্লিশের দশকের গণনাট্য সংঘ যেমন এই বাস্তবতা উত্তরণের নানা উপায় সন্ধান করছিল। বিষয় ও রীতির উভয় ক্ষেত্রে গ্রাম-শহরের যোগাযোগ-বিনিময়ে ও তার পুনঃসম্বন্ধ স্থাপনের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিল। বাস্তব বিশ্বের পরিবর্তিত সময় ও রাজনীতির ভাবনাটা মনে রেখেই নানা নিরীক্ষা রূপায়ণ করছিল। গ্রাম ও নাগরিক শিল্পীদের মেলবন্ধনের বিবিধ আয়োজনের মাধ্যমে। যদিও সেই রাজনৈতিক-নান্দনিক রূপায়ণ পরিণতির ধারা অর্জন করেনি।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ‘মুক্ত নাট্য আন্দোলন’ ও ‘গ্রাম থিয়েটার’ প্রবর্তনায় একধরনের চেষ্টা হয়েছিল। যদিও উভয় ক্ষেত্রে কেবল গ্রামসমাজে অন্যধরনের এক থিয়েটার চর্চায় তা সীমাবদ্ধ ছিল, কেবল গ্রামে করার উপযোগী নাটক রচনা ও প্রয়োগ পদ্ধতির উদ্ভাবনায়। গ্রাম-শহরের কোনো যোগ-বিনিময় তাদের অন্বিষ্ট ছিল না। সময়োপযোগী এক থিয়েটার গ্রামসমাজে প্রচলিত হোক এমনই ছিল ভাবনা। তাতে জনসমাজে প্রচলিত কাহিনী-বিষয়রীতির সঙ্গে নাগরিক কিছু থিয়েটারি পদ্ধতি যুক্ত করা হতো। সেটাও কোনো পরিণতির ধারাসম্পাত ঘটাতে পারেনি। অর্থাৎ দেশ ও জনসমাজ সংস্কৃতিমানসের সঙ্গে নাগরিক শিক্ষা-দীক্ষা-রুচির সম্পর্কপাত বা যোগবিনিময়ের মেলবন্ধনসূত্র সন্ধানের প্রচেষ্টায় কোনো শক্ত ভিত্তি সেভাবে খুঁজে দেখা হয়নি। রাজনৈতিক গণনাট্য বা এন.জি.ও-রা ইস্যুভিত্তিক কিছু উপস্থাপনা করেছিল বা করে চলেছে, যা ঠিক সৃজনশীল নাট্যপদবাচ্য ঠিক নয়। তাদের অভিপ্রায় তো তা নয়ও। তাই তা নিয়ে বলার কিছু নেই। ফরমায়েসি প্রজেক্ট-প্রকল্পে যা হবার তাই হয়। কোনো নান্দনিক-সাংস্কৃতিক সৃজন-এষণা তাতে থাকে না। গ্রুপ থিয়েটারে নাগরিক দর্শকের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চয়ই নাট্যক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা। বিষয় রূপায়ণের নানা রীতি পদ্ধতির উদ্ভাবনা তো এই সূত্রেই সৃজ্যমান হয়ে উঠবে। দর্শক মানসের যৌথ অবচেতনের নানা স্মৃতি-সংকেত-চিহ্ন তার মৌল উপাদান, বিষয়ের কতক উপরস্তরের ভাবনা-বিশ্বাস কেবল নয়। জামিল আহমেদ কিছুদিন আগে ‘ঢাকার থিয়েটারে নাট্যকার-নির্দেশক: সরাসরি দর্শকের মুখোমুখি’- নাট্যপত্র থিয়েটারওয়ালা আয়োজিত সেমিনারে কথাটা তোলেন। মৌলবাদ আচ্ছন্ন-ত্রাসিত বর্তমান এই কালে থিয়েটারের দায় বা করণীয় সূত্রে কথাটি বলেন তিনি। সমাজমনে ধর্মীয় যেসব অভিঘাত চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে দিনে দিনে, সেখানে থিয়েটার দর্শকমানসে পাল্টা sign-signal কীভাবে articulate করতে পারবে তার উপর নির্ভর করবে তার কার্যকরতা। উদাহরণ দিয়ে বলেন- গত ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনার থেকে রাতে কিছু সুরা পাঠ যে হয়েছে এবার (২০০৫), তা ক্রমে মানুষের মনের signaling-এ গৃহীত হয়ে উঠতে পারে; যদি না ভিন্ন signal-ক্রিয়াদির আয়োজন করা যায়। বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা-রাজনীতিতে ইসলাম এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। জনমনে তার ফলে ধর্মীয় আবেগের এক অন্যতর sign-সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেবল মৌলবাদ বলে তাকে ঠেকানো বা খারিজ করা যাবে না। বরং ধর্মের নিহিত নীতি-আদর্শের সত্যস্বরূপ উদ্বোধিত করার দায় নিতে হবে। থিয়েটারকেও। নইলে জনমনের সঙ্গে যোগাযোগ-বিনিময় ঠিক ঘটবে না। কোনোরূপ ডায়লগ articulate করা যাবে না। এমনকি মৌলবাদের সঙ্গেও সংলাপ তৈরি করার ভাষা খুঁজে পেতে হবে। রবীন্দ্রনাথের অচলায়তন কিংবা ব্রেশট-এর গ্যালিলিও নাটক যেমন মোকাবিলা করে ভিন্ন নীতি-ভাবনা-বিশ্বাসের অভ্যস্ত sign-signal.

আসলে শিল্পকর্ম চিরকালই বলে, articulate করে মনের ভেতরেরই বিচিত্র নিহিত ভাষ-ভাষ্যের ইঙ্গিতে, ইশারায়- তাতে করে দর্শকের মধ্যে এক গভীর ব্যঞ্জনার অভিঘাত ঘটে। মানসলোকের অবচেতনায় এক সঞ্চারক্রিয়ার প্রকাশভাষা রূপায়ণই তো শিল্পের নান্দনিক রূপরীতি প্রয়োগের অন্বিষ্ট। অথচ শিল্পীমনের বিশিষ্ট চেতনরূপ লাভ করে সমাজ-মানসের প্রচলিত ভাবনা-চিন্তা-ধারণা থেকে এক ধরনের বিচ্ছেদ থেকে। একধরনের Negation করেই গঠিত হয়ে ওঠে তার সবিশেষ মানসটি। কিন্তু তাকে আবার তার নব-উদ্ভূত নন্দন এষণা প্রকাশ করতে হবে তাদেরই কাছে, যাদের থেকে পৃথক হয়েই কেবল নবজন্ম ঘটেছে তার। এবার তাকে নিজের মুখোমুখি হতে হবে নিজেরই বিচ্ছিন্নতা থেকে উত্তরণের জন্য, তার সচেতন Negation- কে Negation করার নান্দনিক-সৃজন দায়পালন করে; যাকে বলে Negation of the Negation. যোগাযোগের সেই ভাষাটি যে সমাজের যৌথ-অবচেতন ভাণ্ডার থেকেই পেতে হবে, রূপায়ণ করে নিতে হবে। জনমনে sign-signal দিয়েই articulate করতে হবে, রূপায়ণ করতে হবে ভিন্নতর sign-signal- এর সবিশেষ অভিঘাত।

বড় বেশি একঘেয়ে তাত্ত্বিক কচকচি হয়ে যাচ্ছে বুঝি। দর্শকের সঙ্গে সেই সম্পর্কবোধ নাট্যজন করে কি? তাকে এবং সেই সূত্রে নিজেকে, নিজের মনের অবচেতনকে নিয়ত জানা, চেনা, বোঝার- প্রকাশ করার সত্যকার কোনো তাগিদ বা গরজ বোধ কতটা করি না করি- সেটাই বোধহয় জরুরী প্রশ্ন। এমনিতে দৈনন্দিন জীবনে আমরা তো ক্রম-বিচ্ছিন্ন হচ্ছি একে অপরের থেকে। এটা তো বাজার-বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তব। এর থেকে একটা মুক্তি নাকি শিল্পকর্মেই মেলে। কিন্তু আমরা অন্য কারো সঙ্গেই যুক্ত হবার, সম্পর্কিত হবার সত্যকার কোনো গরজবোধ করি কি? অন্যের কাছে তেমন কিছু বলার, প্রকাশের ইচ্ছা আছে তো? তাহলেই না প্রশ্ন উঠবে কেমন করে সেসব বলা যায়, কোন ভাষায় বললে বলাটা সত্যি সত্যি বলা হয়ে ওঠে, ক্রিয়া করে অন্যের মনে।এই যে কারো মনে ক্রিয়া ঘটানো, তা কতটা কি চাই না চাই সেটাই কি নয় আসল কথা? তবেই না দর্শক-মনের হদিস নেবার কথা উঠবে। মনের সাধারণ জমিন খুঁজে পাবার প্রয়োজন হবে। মানসের গভীর অন্ধিসন্ধি, স্মৃতিসত্তা, সংস্কার-বিশ্বাস-দুর্বলতাসকল তাহলেই না জানতে হবে। এবং এটা কি নিজেরই মনের খোঁজ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো পথে সম্ভব? ‘আপনাকে জানলে পরে যায় অচেনারে চেনা’কি কেবল একটা কথার কথা? এই নিজেকে জানাটায় একটা ফাঁকি থেকে যায় না তো আমাদের?- প্রচলিত কতক ‘আধুনিক’, ‘প্রগতিশীল’ ধ্যান-ধারণার বুলি দিয়ে নিজের পরিচয় জাহির করে চলি। ভেতরে থাকে যে আরো কত কত লুকানো, গোপন সংস্কার, রক্তে মনে-মজ্জায় শিকড় গাড়া - তার খবর রাখি কি? স্বীকার করি কি? অন্তত শিল্পক্রিয়ায় উদ্ঘাটন করতে চাই কি যা কিছু আছে মনের কোণের তলে তলে? এখানেই বোধ করি আমাদের বড় সংকট-সূত্রটি। একেক সময় আমরা একেক বাজারচলতি নীতি আদর্শপন্থী হয়ে পড়ি, অথচ ভেতরে রয়ে যায় কত পিছুটার, কত লুপ্ত বিস্মৃত স্মৃতির অবশেষ। ধর্ম-সাম্প্রদায়িকতার শিকড়টি তো সবচেয়ে গভীরে প্রোথিত। কখনো তেমন সৎভাবে নিজের মনে মনেও তার খোঁজ নিয়ে দেখেছি কি? তাহলেই বুঝবো এত সহজ নয় তা থেকে মুক্ত হওয়া, মুখে মুখে কতগুলো বুলি কপচানো যতটা সহজ। এটা জানলে মানলে বরং তার থেকে বের হবার, তার মুখোমুখি হবার পন্থাসন্ধান শুরু করা যাবে। এতদিনে বেশ আরামেই দিন কাটছিল আমাদের। ভালোই চলছিল বড় বড় সব নীতি আদর্শ তত্ত্বের কথা বলে চলা। এতদিনে দেশ-বিশ্বের ক্ষমতা রাজনীতির বাস্তবতা সবকিছু ঘুঁচিয়ে তুলে ছেড়েছে। কিছু আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। মনের যত দুর্বলতাই কাজে লাগায় তো তারা। কাজেই চেপে থাকা সব তার উঠে পড়েছে। কোনো নীতিকথা দিয়ে আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না কিছু। সব খুঁচিয়ে বের করা হয়ে গেছে। এবার বোঝা যাবে কত ধানে কত চাল, শুধু কথায় আর চিড়া ভিজবে না। আসেন তবে, এবার রাখঢাক না করে খোলা মনে সব বুঝে দেখি, সব প্রশ্নের মুখোমুখি হই। মনেরও অগোচরে যা ছিল সব খুঁড়ে তুলি। এই বাস্তবতায় কিন্তু আমরা সবাই common sky-এর এক সাধারণ ভূমিতেই আছি। নিজেরটা আর না চেপে একটা বোঝাপড়া, পরস্পরের সুলুক-সন্ধান করি- একই সঙ্গে নিজের আর দর্শকের সঙ্গে একে অপরে মিলে। সমস্ত sign-signal-এর খোঁজ করি নিজের মনে, তা দিয়েই দর্শকের মনের সবকিছুও ধরতে, বুঝতে, articulate করতে পারবো। মহাত্মা ফরহাদ মজহার-সলিমুল্লাহ খানেরা যে মতলবেই হোক তাদের সব গোমর ফাঁস করে দিয়েছে, আমাদেরটা আর কতদিন চাপা দিয়ে রাখা যাবে? বানানো এক ছদ্ম আধুনিক-প্রগতিশীলতাই কিন্তু আমাদের পিছিয়ে রেখেছে এতদিন। জাতীয়তাবাদ-গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি সব তাই মাঠে মারা গেছে। সব sign-signal উল্টে দেয়া গেছে। ঐতিহ্য জাতীয়তা সংস্কৃতি বলতে এতদিন যা বলে মুখে ফেনা তুলেছি মঞ্চে মঞ্চে তার মানে আজ অন্য জনমনে। ঘাতক দালাল মৌলবাদ বলে হুংকার দিলেই কাজ চলবে ভেবেছিলাম, মনের তলের কোনো খোঁজ, কোনো হিসাব নিকাশ না করে, কোনো চর্চা-শিক্ষা- প্রয়োগ না করে।

এইবার এইবার কিবা করে নাটুয়া যত নিধিরাম সর্দারজন। ক্লীব যত ছদ্মসজ্জার আভরণ আবরণ খসে পড়েছে। বাস্তব আর মনের এই নগ্ন উলঙ্গতার মুখোমুখি হবার হিম্মত অর্জন তার সত্তার ঐতিহাসিক দায়। সৌখিন নান্দনিকতা বা আদর্শবিশ্বের বালিতে মুখ গুঁজে রেহাই মিলবে না- ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’ ডায়লগ শুরু করতে হবে নিজের আর দর্শকের মুখোমুখি। এ কেমন দেশ-বিশ্বে বাঁচছি আমরা- নাট্যজন আর দর্শকসাধারণকে বুঝে নিতে হবে তা- মিলিতে হবে দুইজনে। মনের যত প্রশ্ন-জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে হবে। দর্শকের আর নিজেদের যত ভেতর কথা, চাপা পড়া ভাষা articulate করতে হবে। এই সময়ের কোনো নীতি-আদর্শ যাতে গঠিত হতে পারে। মিলিত বাঁচার পন্থা যেন মিলতে পারে। মঞ্চ তার উপযুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠুক। নাট্যজনের বাস্তব জীবিকার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন থিয়েটারের এক কল্পস্বর্গ রচনায় সমাধান মিলবে না। চিরায়ত ধ্রুপদী নাটকেও খুঁজে পেতে হবে এই সময়েরই অভিঘাত। নাট্যজন ও দর্শকের জীবননাট্য হয়ে ওঠে যেন থিয়েটারের যেকোনো প্রযোজনা। যেন তা নিজেদের নাটক হতে পারে। দর্শককে কিছুতেই কোনো বিচ্ছিন্নতার দূরত্ব বোধ না করতে হয়। নাট্যজনের নান্দনিক অহং যেন তাতে বাদ না সাধে। তেমন নাটকই যেন নির্বাচন করি যাতে বর্তমানের সংকট-উদ্ভ্রান্তি রূপায়িত হতে পারে। দর্শকমনের বিবিধ sign-signal articulate করতে পারলে সে নাটক তারা না দেখে পারবে না। উপযুক্ত নাট্যভাষায় নির্মিত প্রযোজনা অসফল হয়েছে এমন নজির নেই। মিডিয়ার মজাদার নাটক দেখতে মঞ্চে আসে না দর্শক। এখানে তাআ অন্য কিছু, ভিন্ন কিছুই চায়।

মিলনের প্রাথমিক দায়টি নিশ্চয়ই নাট্যজনের। মাথা ঠাণ্ডা করে কেবল মতি ঠিক করতে হবে। নিয়ৎ যেন সৎ থাকে। বাজারে যেমন ক্রেতার মন বুঝে চললেই হয়। থিয়েটারের বাড়তি দায় থাকে দর্শকের মন-মতি গঠন করারও। দর্শক-তৈরির কথাটা বাংলাদেশের থিয়েটারে প্রথমদিকে খুবই বিবেচনার সঙ্গে নেয়া হয়েছিল। এখন নাট্যজনের মতি নিয়েই উদ্ভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তাতেই বরং সংকট-মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। যাদের ভূত ছাড়াবার কথা তাদেরই তো আজ ভূতে ধরেছে।

নাট্যজনের তাই দ্বিমুখী দায়পালনে সমর্থ হতে হবে- একই সঙ্গে নিজের সঙ্গে নিজে আর দর্শক সাধারণের সঙ্গে মিলে মিলনের উপযোগী নাট্যরূপায়ণে পারঙ্গমতা অর্জন করতে হবে।

অমৃত কোনোকালেই বলহীনের লভ্য নয় যে।

বিপ্লব বালা : নাট্যকার, নির্দেশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের শিক্ষক।