Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

নাজমা আনোয়ার এবং অতঃপর ভাঙনের শব্দ শুনি

Written by হাসান শাহরিয়ার.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

স ম্পা দ কী য়

এ যেন রঙ্গ শেষের কাল। এবার একে একে বিদায় নেবার পালা। যার যার সময় বুঝে, অন্যদের বুঝতে না দিয়ে, এপারের পাট চুকাচ্ছেন একে একে সবাই। সর্বশেষ পাট চুকালেন নাজমা আনোয়ার- এক দাপুটে নটী। অ্যাতো অকস্মাৎ, কেবল তিনি ছাড়া- কাছের মানুষজনও টের পেলেন না যে, তিনি নেই। এই হুট করে চলে যাওয়াটা নিজের জন্য ভালো, নিকটজনদের জন্যও ভালো। ভালো এই জন্য, সবার আপন থাকতে থাকতেই বিদায়টা নেয়া যায়। রোগ-শোকে ভুগতে থাকলে আপনজনরা শেষদেখা করবার সুযোগ পায় বটে, কিন্তু এতে একটা ঝুঁকি থেকে যায়। ঝুঁকি এ জায়গায় যে, রুগ্নাবস্থা যত দীর্ঘ হয় নিকটজনদের আগ্রহ তত কমতে থাকে, বিপরীতে বিরক্তি আর অবহেলা বাড়তে থাকে । এই বিরক্তি আর অবহেলার অপমান থেকে সরিয়ে নেবার ‘ভাগ্য’ ক’জনার জোটে? আমাদের মঞ্চনাট্যের সবচেয়ে অবহেলিত নটী বড়ই ‘ভাগ্যবতী’!

মঞ্চে অবহেলিত ছিলেন কিন্তু মঞ্চ তাঁকে অবহেলা করেনি।

স্বীকার করে নিয়েছেন সবাই, বাংলাদেশের আধুনিক গ্রুপথিয়েটারের প্রথম দল ‘ড্রামা সার্কেল’। আর তার নির্মাতা বজলুল করিম তো সুশিক্ষিত নাট্যপণ্ডিত বলে খ্যাত। সেই খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের হাত ধরে মঞ্চে যাঁর অভিষেক, তাঁকে অবহেলার শক্তি কই বাংলার মঞ্চের? ধারণ করবার শক্তি থাকলে তো অবহেলার প্রশ্ন!

ভাগ্যান্বেষণের পথ ধরে বহুকাল ধরেইতো বৈদেশি হয়েছে মানুষ। যাওয়ার সময় প্রেয়সীকে বলে যেত- তোমার ভালোবাসার অশ্রু মুছে যাওয়ার আগেই ফিরে আসবো। অশ্রুসিক্তা প্রেয়সী, প্রাণেশ্বরের লাল গামছা নিজের কাছে রেখে বিদায় দিত। সেই দুর্ভাগাদের কেউ কেউ ফিরে এসেছে, কেউবা শেকড় গেড়েছে বিদেশেই। এই বিদেশ প্রথম ছিলো গ্রামছাড়া হওয়া, এরপর হলো শহুরে হওয়া, এখনতো বিদেশ মানে সত্যিকার অর্থেই বাইরের দেশ। আমাদের মঞ্চনট-নটীরাও একসময় ভাগ্যান্বেষণে মিডিয়ামুখি হওয়া শুরু করলেন। তাদের অনেকেই শেকড় গেড়েছেন মিডিয়ায়, ভুলে গেছেন, পেছনে ফেলে আসা প্রেয়সীর অশ্রুর কথা; মজে গেছেন জৌলুসে। এই ভাগ্যতাড়িতদের মধ্যেও কেউ কেউ আবার শেকড় গেড়েছেন ঠিকই কিন্তু মজে যাননি, থেকে থেকেই ফুঁফিয়ে উঠেছেন ফেলে আসা অশ্রুসিক্তা প্রেয়সীর জন্য, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ও এককসত্তা বুঝিবা এই নাজমা আনোয়ার। তীর্থের কাকের মতোই তাকিয়ে থাকতেন মঞ্চের দিকে, কেউ বুঝি তাঁকে ডাকবেন, বলবেন, আপনাকে বিশেষ প্রয়োজন। উত্তরে তিনি বলবেন- কেন প্রয়োজন? আমার কি এমন যোগ্যতা যা দিয়ে চাহিদা তৈরি করি অপরের নিকট? প্রত্তুত্তরে আওয়াজ আসবে- যোগ্যতা তেমন কিছুই না, কেবল এটুকু বলে যাই তুমি ছাড়া কে ভার নিবে এই চরিত্রের, এই ভূমিকার? না, এমন কোনো ডাক আসেনি তাঁর কাছে। এটা কি তাঁর আক্ষেপ? আক্ষেপ হওয়ারইতো কথা। কারণ, এমত ডাকে তিনি প্রায় অভ্যস্তই হয়ে গিয়েছিলেন মিডিয়ায়। প্রাচীনরাতো বটেই, মিডিয়ার নতুন নাট্যকাররাও নাকি নাটক রচনায় চরিত্র নির্মাণ করতেন তাঁর কথা স্মরণে রেখে। বিপাশা হায়াত আর পিতা আবুল হায়াতের তো এমতই ভাষ্য। আর নবীণ নাট্য নির্দেশকরাও তো তাঁকে ছাড়া চলতে পারতেন না। তা না হলে ‘হারাধনের নাতজামাই’ কাকে দিয়ে করানো হতো শুনি? অথচ মঞ্চ, তাঁর প্রথম আবাস, তাঁকে কখনো ডাকেনি? চরিত্র নির্দিষ্টভাবে যেসব নটীর সন্ধান করে, নাজমা আনোয়ার তাঁদের মধ্যে একক নন, তবে অন্যতম। আমাদের ফেরদৌসী মজুমদার আর শিমূল ইউসুফও  আছেন এই দলে। কিন্তু শেষোক্ত দু’জন বড়ই ভাগ্যবতী। তাঁদের জন্য নিরলসভাবে চরিত্র রচনা করে চলেছেন দেশের দুই কৃতি নাট্যকার। কিন্তু দুর্ভাগ্য, নাজমা আনোয়ারের জন্য এমন কেউ ছিলেন না। যদিও আরেক কৃতিমান নাট্যকার মামুনুর রশীদ একসময় ধন্য ছিলেন তাঁর জন্য চরিত্র নির্মাণ করে, কিন্তু জানি না কেন, তা আর ধারাবাহিকতা পেল না। এ দুর্ভাগ্য নাজমা আনোয়ারের নিজের, মামুনুর রশীদের আর অতি অবশ্যই আমাদের রঙ্গমঞ্চের। তাই বহুদিন তাঁর আর সন্ধান মিললো না। অবশেষে একবার কেবল এসেছিলেন, তা-ও আবার মেয়ের হাত ধরে। ডাক পাওয়ার সাথে সাথে ঝাপ দিলেন মঞ্চে। এপ্রজন্মের নাট্যজনদের সুযোগ ঘটলো অভিনয়ের দাপট কাকে বলে তার একটা ঝলক দেখার। ‘দেশ নাটক’ আর লোহা-র নাট্যকার আর গর্বিত কন্যা ইসরাত নিশাতকে কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে উপায় কি!

ক’জনার খবর আমরা জানতে চাই? পাছে কোনো দায়ভার আবার চেপে বসে ঘাড়ে- এ দুর্ভাবনায়? তাই দূর থেকেই আপনজনদের কাছে শুনেছি, খুব একটা সচ্ছ্বল তিনি ছিলেন না। কিন্তু এমন বাজার মিডিয়ায় তার মতো ফুলটাইম মিডিয়াকর্মীর তো অসচ্ছ্বল হওয়ার কথা নয়। প্রায়ই তো কানে আসে তোতাপাখিরাও মিডিয়ায় ম্যালা টাকা কামাচ্ছে। তবে তাঁর কেন এই হাল? তবে কি শতবর্ষ পূর্বের রঙ্গকর্মী নটী বিনোদিনীর মতো তাঁরও উক্তি ছিলো- ‘টাকা আমি উপার্জন করিয়াছি বৈ, কিন্তু টাকা আমায় উপার্জন করে নাই’। মঞ্চে হোক আর মিডিয়ায়ই হোক, শতবর্ষ পূর্বে হোক আর বর্তমানেই হোক, বিনোদিনীদের অর্থকষ্ট বুঝি থেকেই যাবে। তাঁর মৃত্যুতে কি তবে ভাঙনের মুখে নিজের সংসার? কে টানবে এখন এই সংসার? এমত ভাবনা যখন করোটিতে ঠাঁই দেবার চেষ্টা করছি, তখনই জানতে পারলাম এসব অর্থকষ্টকে প্রায় থোরাই কেয়ার করতেন তিনি বা তাঁর পরিবার। কষ্ট যদি থেকেই থাকে তবে তা, মঞ্চ ছাড়ার কষ্ট, মঞ্চে ডাক না পাওয়ার কষ্ট! এই কষ্টে যখন বুক ভাঙার অবস্থা ঠিক তখনই আরও বড় ভাঙনের শব্দ টের পাই।

শিল্পীরা যখন বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করলো, পরস্পর পরস্পর থেকে, কী এক অন্ধ মোহে- তখন থেকেইতো ভাঙনের শুরু। নইলে মৃত্যুও কেন পারে না এক জায়গায় জড়ো করতে সবাইকে? মৃত্যু অকস্মাৎ হওয়ায় তেমন করে কেউ জমায়েত হতে পারেনি শহীদ মিনারে, শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। একমাস-দু’মাসের কম সময়ে শুটিং-এর সিডিউলইতো দেয়া যায় না,- আর এটাতো দু-চার ঘন্টার নোটিশ! বড় ব্যস্ত আমাদের নাট্যজনেরা! একদিন আগেও যিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, তিনি যে এমন করে চলে গিয়ে সিডিউলের ‘ঝামেলা’য় ফেলবেন তাঁরই প্রিয় সহকর্মীদের এটাতো তারা ভাবতেই পারছেন না। সারাজীবন যাঁর সহযোগিতার হাত ছিলো প্রসারিত, তিনি হুট করেই এমন অসহযোগিতা করবেন- এটাতো ভাবনার অতীত হওয়ারই কথা। কিন্তু ১৫ ডিসেম্বরের পর যখন গ্রুপথিয়েটার ফেডারেশান আর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যৌথভাবে শোকসভার তারিখ দিল ১৮ ডিসেম্বর, তখনও কারো সময় হলো না কেন? বিকেল চারটার মহিলা সমিতি মিলনায়তনতো বলতে গেলে ফাঁকা। ফেডারেশান আর জোট চালাতে যারা দায়বদ্ধ, তাদেরইবা ক’জন এসেছেন সেদিন? যারা এসেছেন, তাদের এই আসা কি শোকগাথা না দায়-ঠেকা এটাইবা বোঝবার উপায় কি? অগ্রজপ্রতিমরা একে একে যখন শোকবাক্য বলতে লাগলেন, তাদের চোখে মুখে যে ভয় আর শঙ্কা দেখা গেল তা সত্যিই ট্র্যাজেডির জন্ম না দিয়ে পারে না। সবাই যেন নাজমা আনোয়ারের জায়গায় নিজেকে দাঁড় করাচ্ছিলেন এবং এমত দুর্ভাবনায় জড়িয়ে পড়ছিলেন যে, নাজমা আনোয়ারের মতো প্রতিভাবানের মৃত্যুই যদি কাউকে স্পর্শ না করে, তবে নিজেদের পরিণতি কী হবে? তেত্রিশ বছরের মঞ্চসাধনা কি তবে একটিমাত্র জনহীন শোকসভাতেই নিঃশেষ হবে? আজকে যাদের সময় হয় না শোকের, ভবিষ্যতে তাদের সময় হবে কি অন্তত শোকসংবাদ পাঠের? সবার ভেতরেই এক আক্ষেপ, কী স্মারক উৎসর্গ করা যায় এই প্রয়াত শিল্পীর জন্য! তেত্রিশ বছরে মঞ্চের স্থায়ী এমন কী করেছি, যা আজ উৎসর্গ করি? অসহায়ের মতো চারিদিক হাতড়ে দেখেন সবাই- নেই, কিছুই নেই। তাহলে ট্র্যাজেডি দাঁড়ালো এই যে, আজই যদি দেবার মতো কিছু না থাকে তবে যে গুণীজনরা এখনো জীবিত, তাঁদের মৃত্যুতে কী উৎসর্গ করবে ভবিষ্যতের জীবিতরা? আজ আমাদের যদি মঞ্চ থাকতো, গ্যালারী থাকতো, নিজস্ব থিয়েটারভবন থাকতো- তবেই না কিছু একটা উৎসর্গ করা যেত প্রয়াতদের প্রতি। মহিলা সমিতি বা জাতীয় নাট্যশালা কিংবা পাবলিক লাইব্রেরী- যেখানে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়নের অনুমতি পেতেই ঘাম ঝরে, কী অধিকার আছে সেখানকার একটুকরো ইট-বালি উৎসর্গ করি মৃতের প্রতি?

আমাদের দেশের নাট্যচর্চার সাথে অন্য কোনো দেশের নাট্যচর্চার মিল বোধ করি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমাদের স্বাধীন দেশের নাট্যচর্চার সাথে একধরনের উৎসবের আমেজ কাজ করেছিলো। একে অপরকে সহযোগিতা করা, একদলের কর্মীদের সাথে অন্য দলের কর্মীদের সব বিষয়ে খোলাখুলি মতবিনিময় করা, এমন কি এই যে আমাদের দেশে একদল অন্য দলকে বা অন্য দলের গুণী নাট্যজনকে সম্মাননা দেয়া বা পদকে ভূষিত করার রেওয়াজ চালু রয়েছে- অ্যাতো আন্তরিকতা এবং সহমর্মিতা যতদূর জানা যায় অন্য দেশের নাট্যচর্চায় দুর্লভ। এটা বুঝিবা আমাদের মঞ্চনাটক প্রফেশনাল না হওয়ার কারণেই ঘটেছে। প্রফেশাল না হওয়ার কারণে আমরা কমার্শিয়ালও হইনি। সব প্রফেশনেরই কমার্শিয়াল হওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। কমার্শিয়াল হলে কেবল নিজের ভালোটাই দেখা যায়, অন্য সবকিছু তখন তুচ্ছ। নিজেকে বড় করে দেখাটাই মুখ্য, অন্য সবাই তখন ছোট। অ্যামেচারী কর্মকাণ্ডের সুবিধা হলো নিজে বড় হয় প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে অন্যকে পেছনে ফেলে, আর কমার্শিয়াল কর্মকাণ্ডের কাজ হলো উপরে ওঠার জন্য অন্যকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনা। আমাদের দেশের মঞ্চ নাটকে এমন অসুস্থ পরিবেশ অন্তত প্রথম দু’দশক ছিলো না। তখন একজনের বা একদলের ভালো কাজ অন্যকে বা অন্য দলকে উৎসাহিত করতো আরো ভালো কিছু করার জন্য। এখন করে না। তখন একজনের ভালো কাজ অন্যের ভেতর ঈর্ষা জাগাতো, এখন জাগায় হিংসা। এটা শুরু হয় নব্বুই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে। নব্বুইয়ের দশক থেকে যখন মঞ্চের লোকজনই মিডিয়ায় কাজ করে ‘প্রফেশনাল’ হতে লাগলেন, তাদের ভেতরের মঞ্চমানুষটির তখন মৃত্যু ঘটলো। তারা যতনা টাকা উপার্জন শুরু করলেন, তারচে’ টাকাই তাদেরকে বেশি উপার্জন করে ফেললো। তারা তখন সবার মধ্যে নিজেকে না খুঁজে নিজের মধ্যেই নিজেকে খুঁজতে লাগলেন। মঞ্চে তারা কেউ কেউ কাজ করছেন ঠিকই কিন্তু মঞ্চের ভবিষ্যত নিয়ে কেউ আর তেমনভাবে ভাবার সময় করে উঠতে পারেননি। উপার্জনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে কেবল শিল্প আর মননকে কতটুকুইবা সময় দেয়া যায়! কিন্তু তাদের সবার ভেতরেই একটি আদর্শ(?) কাজ করছে, তা হলো, জোর গলায় বলা যে- আমরা মূলত মঞ্চকর্মী, মঞ্চই আমাদের প্রথম ভালোবাসা। এ-সবই আমাদের ‘ধর্ম’ হয়ে উঠেছে। তাই আমরা ডাক্তারকে দেখি হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট চেম্বারে বেশি ‘প্রফেশনাল’ হতে, শিক্ষকরা ‘প্রফেশানাল’ বেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোচিং সেন্টারে আর প্রাইভেট টিউশনিতে। আর যারা যা-ই করুক আমাদের থিয়েটার কর্মকাণ্ডের প্রথম রূপটি ফিরে না পেলে অর্থোপার্জন কিন্তু নিঃঙ্গতা কাটাতে পারবে না, বিচ্ছিন্নতা কাটাতে পারবে না, কাটাতে পারবে না নিজের চোখে দেখা নিঃসঙ্গ এক মৃতশিল্পীর আর্তনাদের ঘোর। বেশ্যা বিনোদিনী মননশীলতা আর সৃজনশীলতা দিয়ে হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী বা নটী বিনোদিনী আর আমরা নটী বিনোদিনীরা ক্রমশই হয়ে যাচ্ছি না কি বেশ্যা বিনোদিনী? শতবর্ষ পূর্বে পুঁজিকে অপমান করে শিল্পী হলেন যেজনা, তাঁরই উত্তরসূরীরা আজ পুঁজিকেই করে কিনা পূজা! ভবিষ্যতে আমাদের লাশ কি পড়বে না আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে, যেমন করে কিনা মঞ্চাভিনেত্রী নাজমা আনোয়ারের এখন প্রধান আইডেন্টিটি মিডিয়া তারকা হিসেবে?

আমাদের নাট্যচর্চা শুরুর যে একটা ধরনের কথা বলা হলো আগে, তার উদ্ভবের অন্যতম কারণ হলো আমাদের নাটকের লোকগুলোর সমাজ সচেতনতা। সবকালের সবশিল্পীর কাছেই সমাজ সচেতনতা দাবী করা হয়, তবে তা মূলত কাগজে বা তুলিতে। কিন্তু আমাদের নাট্যজনেরা শিল্পী হয়েও রাজপথে বা বিদ্রোহে যে সমাজ সচেতনতার পরিচয় দিয়ে এসেছে বারবার, তার থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয় যে, বিচ্ছিন্ন হতে হতেও শেষ অব্দি বোধহয় আমাদের বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব হয় না। তাই দেখা যায় কেবল নাটকের বিষয় না, দেশের অন্যসব সামাজিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমরা সোচ্চার হই এবং এই সোচ্চারের মধ্য দিয়ে পুরোনো বিচ্ছিন্নতা ঝেড়ে ফেলে নতুন বন্ধনের সন্ধান করি। শিল্পী হয়েও আমরা ফেডারেশান গড়ি, তৈরি করি জোট। অন্য সবদেশের শিল্পীদের চেয়ে আমরা ঠিক এই জায়গাতেই স্বতন্ত্র। আমাদের নাট্য চর্চাটাও স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত। সেই স্বতন্ত্র ধারার ধারাবাহিকতাতেই আবারো আমাদের এক হবার সময় এসেছে। পরিবেশ পরিস্থিতি এক হবার আহ্বান করছে সবাইকে। নিঃসঙ্গ হয়ে চলতে চাইলেও আর বুঝিবা চলার উপায় নেই। দেশ-রাষ্ট্রের এমন অবস্থায় যদি ভাঙনের শব্দ শোনা  না যায় তবে ভেঙে পড়বে সমস্ত সভ্যতা। তা কি হয়েছে কখনো, নাকি হওয়া সম্ভব কখনো?

ইতি
হাসান শাহরিয়ার
১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫
মিরপুর, ঢাকা।