Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

দেশজ নাটক : প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ

Written by নাসির উদ্দিন ইউসুফ.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

[গত ফেব্রুয়ারি ২০০১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিট্যুট, বাংলাদেশ কেন্দ্র আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসব ও সেমিনার’। ‘শিকড়ের হোক ডানা’ এই স্লোগানের উৎসবের সেমিনারে দু’দিনে মোট তিনটি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিষয়গুলো ছিলো- ‘দেশজ নাটকের অস্তিত্বের সংকট’, ‘দেশজ নাটক: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ’ এবং ‘নতুন সহস্রাব্দে দেশজ নাটক’। ‘দেশজ নাটক: প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ’ বিষয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফের বক্তব্য প্রকাশ করা হলো থিয়েটারওয়ালা’র পাঠকদের জন্য]

আমার প্রথম প্রশ্নটা হচ্ছে, Indigenous Theatre আমরা কেনো বলছি। এই টার্মটা কেনো ব্যবহার করছি? আমিতো বলতে চাই এটা Complete Theatre. ফলে এই নামকরণটাকে আমার কাছে একটু ‘হেয় করা’ মনে হয়েছে। আমরা যখন বলেছি, ‘ইন্ডিজেনাস থিয়েটার’ তখন আমরা ধরে নিচ্ছি যে, এটার পাশাপাশি একটা বেটার আর্ট ফর্ম এক্সিস্ট করে, যেটা এটার চেয়ে ভালো। যেটাকে অনেকে মেইন স্ট্রিম আর্ট ফর্ম মনে করছে। যেমন, আমরা মহিলা সমিতিতে নাটক করছি এটাকে মেইন স্ট্রিম বলে ধরে নিচ্ছি। এটা বিশ্বাস করতেই আমার কষ্ট হচ্ছে। আজকের যে সেমিনার, যেখানে প্রশ্ন উঠেছে ইন্ডিজেনাস থিয়েটার সার্ভাইভ করবে কিনা, কিংবা এর ভবিষ্যৎ কী? মহিলা সমিতিতে দু’শ দর্শক হয় না এটা নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই, আর যেখানে যাত্রায় এখনো পাঁচ থেকে দশ হাজার লোক হয়, যেকোনো এলাকায়, তার অস্তিত্ব নিয়ে আমরা শংকিত হয়ে গেছি।

আমার মনে হয় আমরা কোনো একটা ভুল করছি। ওদের অস্তিত্বের জায়গাটা ওরাই খুঁজে নেয়। সব আর্টেরই একটা সংগ্রাম আছে, ঐ জায়গায় কোনো সমস্যা নেই। বরং আমরাই একটা সমস্যায় আছি। সেটা হচ্ছে ইন্ডিজেনাস থিয়েটারটাকে আমরা ‘নিচু’ ভাবছি এবং আমরা মহিলা সমিতিতে যা করছি সেটাকে উচ্চমার্গীয় আর্ট ভাবছি। এটা আমার মনে হয় কোথাও কোনো কলোনীয়াল... মানে... ইউরোপ আমাদের শিখিয়েছে যে, ওটা ন্যাটিভদের কালচার এবং প্রসেনিয়ামটা হচ্ছে ওদের কালচার। সেখান থেকে আামদের ধারণার পরিবর্তন হয়েছে যে, হাজার বছর ধরে যে মূল ধারাটা চলে এসেছে, সেটার চেয়ে এই সাহেবি ব্যাপারটা more aesthetic. একটা উদাহরণ দিই- একটা লোক যে মৃৎ শিল্পে জড়িত, গ্রামে, তার নামও আমরা জানি না অথচ ঢাকায় যে পেইন্টিং এক্সিবিশন করে তার নাম রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ে। তো আসলে কীভাবে দেখছি সেটার উপর নির্ভর করে। আসলে আমাদের মধ্যে একটা কলোনীয়াল মাইন্ড সেটআপ আছে। আমরা ঐভাবেই সবকিছু দেখতে শিখি। আজকের যে প্রসঙ্গ  use এবং abuse, কোনট use আর abuse এর মধ্যে একটা সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে। খুব মোটা দাগে না, সুক্ষ্ম। যদি আমি আমার নিজস্ব দেশজ যে ফর্মটা আছে, আঙ্গিকটা আছে, যে এলিমেন্টগুলো আছে, সেগুলো ব্যবহার করে একটা ক্রিয়েটিভ পারফরমেন্স করতে পারি তবেই সেটা use হলো। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যদি ঐ এলিমেন্টগুলো অন্যভাবে ব্যবহার করি, যেমন, বিদেশীরা কী দেখতে ভালোবাসে, দর্শক কী পেলে মজা পায় ইত্যাদি চিন্তা করে যদি ঐ আর্ট ব্যবহার করি, তবেই তা হয়ে যায় abuse.

আমার কাছে মনে হয় আমার চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি আমি দেখাবো দেশজ আঙ্গিক ব্যবহার করে এবং তবেই তা use- এর পর্যায়ে পড়বে। সকালের আলোচনায় ইন্ডিজেনাস থিয়েটার প্রসঙ্গে অনেকেই ঢাকা থিয়েটার, সেলিম আল দীন কিংবা আমার নাম উচ্চারণ করছিলেন, যেহেতু আমরা ঐ ফর্মে কাজ করি। তো আমি খানিকটা বিব্রত বোধ করেছি। আসলে আমরা ঐটাকেই মেইন স্ট্রিম ধরে কাজ করি। আমরা ধরেই নিই যে আমাদের বলার কথা, প্রকাশ করার কথা, সবকিছু ঐ ফর্মের মাধ্যমেই প্রকাশ করা সহজ ও উচিতও বটে। তো সেদিক থেকে ঐ ফর্মকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছায় আমরা তা use করছি না, আমরা নিজেদেরকে বাঁচাবার জন্যই ঐ ফর্মটা use করছি। অন্যদিকে ইন্ডিজেনাস থিয়েটারের কিছু এলিমেন্ট  বিক্ষিপ্তভাবে, অসংলগ্নভাবে বিভিন্ন থিয়েটারে, সিনেমায় ব্যবহার করা হচ্ছে, কমার্শিয়াল পারপাস এবং অন্যদের মজা লাগাবার তাগিদে, সেটাকেই আমি abuse বলতে চাচ্ছি। আমি এই মুহূর্তে একটি গল্পের কথা বলতে চাই। দুর্ভাগ্যবশত গল্পের এবং লেখকের নাম আমার মনে পড়ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার লেখক। গল্পটা হচ্ছে- এক কন্যা একটা ঘরে গ্যাং রেইপড হচ্ছে। বৃদ্ধ পিতা ঘরের বাইরে, কিন্তু সে কোনো সাহায্য করতে পারেছ না। তো সারা লেখায় বৃদ্ধ পিতার অক্ষমতাটা ফুটে উঠেছে কিন্তু কোনো ধর্ষণের কথা ফুটে ওঠে নি। তো আমি বলতে চাই আমাদের শিল্প সেই জায়গাটায় গেছে কিনা? যায়নি। বোম্বের ফিল্ম বলি আর আমাদের দেশীয় ছবি বলি কিংবা কিছু নাটকের কথাই বলি না কেনো, তারা তাদের কাজে দেশজ আঙ্গিকের যে নাচ গানের ব্যাপার আছে তা অত্যন্ত অশ্লীলভাবে সিনেমায় কিংবা নাটকে ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যেটাকে তারা দেশজ আঙ্গিক বলছে। আসলে সেটা abuse-এর পর্যায়ে পড়ছে।

সবাইকে ধন্যবাদ।

[প্রবন্ধটি বক্তৃতা থেকে অনুলিখিত- সম্পাদক]

নাসির উদ্দিন ইউসুফ: নাট্যব্যাক্তিত্ব। সদস্য, ঢাকা থিয়েটার।