Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

নাজমা আনোয়ার : ক্রমেই ম্লান হয়ে যায় যেসব মানুষেরা

Written by এম. এ. সবুর.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

নাট্যকর্মী এবং অভিনেত্রী নাজমা আনোয়ার আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। শুরুতেই তাঁর নামের আগে বিখ্যাত অথবা প্রখ্যাত জাতীয় কোনো বিশেষণ সংযোজন থেকে বিরত থাকছি। বিরত থাকছি দু’টি কারণে। প্রথমত- কোনো লেখায় অথবা কোনো স্মৃতিচারণে অথবা কোনো বক্তৃতায় গুণী কোনো ব্যক্তির নামের আগে পিছে আমরা এমনসব বিশেষণ জুড়ে দিয়ে তাঁদের গুণকীর্তন করতে থাকি যে, প্রকৃত অর্থে ব্যক্তিটি যা নন আমরা তা-ও বানিয়ে ফেলি এবং দ্বিতীয়ত- কোনো গুণী এবং সম্মানীয় মানুষের মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষদের একটু সতর্ক থাকতে হয় এই কারণে যে, কোন বিশেষণ কীভাবে এবং কতটুকু সংযোজন করলে প্রকৃত অর্থে একজন গুণী মানুষের সঠিক পরিচয় নির্ণয় করা সম্ভব অথবা তাঁর প্রতি সঠিক সম্মান প্রদর্শন সম্ভব অথবা তাঁর সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব- এই বিচারবোধটুকু যথাযথ না হলে গুণকীর্তনের নামে তাঁকে হত্যা করা হয়। তবে শুরুতেই বলে নেয়া ভালো যে- নাজমা আনোয়ারের মৃত্যুতে আমরা মঞ্চ এবং পর্দা থেকে এক মহামূল্যবান সম্পদ হারালাম। এ কথাটি খুবই গতানুগতিক এবং স্বাভাবিক যে, একজন নাজমা আনোয়ার চলে গেলে আর একজন নাজমা আনোয়ার কখনোই তৈরি হয় না। এটাই এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে স্বাতন্ত্র। মঞ্চে এবং পর্দায় নাজমা আনোয়ার যে কাজগুলো করতেন, এখন অন্য কেউ হয়তো সেই কাজগুলো করবেন। কিন্তু নাজমা আনোয়ারের মতো কিছু কেউ করতে পারবেন না। স্বাতন্ত্রের এই জায়গাটাতে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হলো।

নাজমা আনোয়ারের প্রয়াণের সংবাদটি আমাদের হতবাক করে দিয়েছিলো ক্ষণিকের জন্য। কারণ, হঠাৎ করে এই প্রস্থান। কোনো অসুস্থতার সংবাদ নয়, কোনো দুর্ঘটনা নয়- একেবারে হঠাৎ করেই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন তিনি। নাজমা আনোয়ারের এই অপ্রত্যাশিত প্রয়াণের মধ্য দিয়ে কিছু মৃত্যু আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ভেসে ওঠে কতো উজ্জ্বল ছিলো তাঁদের বেঁচে থাকা, কতো কর্মময় ছিলো তাঁদের জীবন; তাঁরা আমাদের জন্য অবদানও কিছু কম রেখে যাননি। অথচ কালের গর্ভে কেমন করে ম্লান হয়ে গিয়েছে সেইসব মানুষের স্মৃতি, কর্ম এবং অবদানগুলো। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবিরের কথাই ধরা যাক। আজ আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছি এই চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনের পুরোধা পুরুষকে। এদেশে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনের তিনি জন্মই দেননি কেবল, এই আন্দোলন করতে করতেই এই মহান চলচ্চিত্র বিপ্লবীর মৃত্যু হয়েছে বলা যায়। উত্তর বঙ্গ থেকে একটি চলচ্চিত্র আন্দোলনের সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে ঢাকায় ফেরার পথে নগরবাড়ির ফেরিঘাটে ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায় গাড়িসহ যমুনার গর্ভে হারিয়ে যান মহান এই ব্যক্তিত্ব। এইতো ১৯৮৯ সালের কথা মাত্র। বলা যায়, আজ আমরা তাঁকে ভুলেই গিয়েছি। অথচ তিনিতো শুধু চলচ্চিত্র আন্দোলন করেননি, নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু শিল্পমানোত্তীর্ণ চলচ্চিত্র। এদেশের বিদগ্ধ সমাজ হয়তো আজো ভুলে যাননি আলমগীর কবিরের রূপালী সৈকতে, সীমানা পেরিয়ে, ধীরে বহে মেঘনা অথবা সূর্যকন্যা-র মতো চলচ্চিত্রের কথা। অথচ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যায়, এদেশে সপ্তাহব্যাপী স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানমালা হয়, মাসব্যাপী বিজয়মেলা হয় কিন্তু আলমগীর কবিরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ধীরে বহে মেঘনা কোথাও প্রদর্শিত হয় না। এদেশে বেশ কিছু চলচ্চিত্র আন্দোলনের ফোরম রয়েছে, এইসব ফোরাম প্রতি বছরই দু’একটি চলচ্চিত্র উৎসব করে থাকে অথচ এইসব উৎসবে আলমগীর কবিরের কোনো চলচ্চিত্রই প্রদর্শিত হয় না। এখানে একটি প্রশ্ন খুবই প্রাসঙ্গিক যে, আলমগীর কবিরের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে হবে এই কারণে নয় যে, তিনি এদেশে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন, বরং এই কারণে যে, আলমগীর কবিরের চলচ্চিত্রের গুণগত মান, তার নির্মাণশৈলী, তাঁর বিষয়বস্তু শিল্পমানোত্তীর্ণ। কিন্তু সত্য এখন এই যে, আলমগীর কবিরকে আমরা প্রায় ভুলতেই বসেছি। শঙ্কা জাগে, নাজমা আনোয়ারও কি মুছে যাবেন, আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পাতা থেকে?

নাজমা আনোয়ার আত্ম নিবেদিত মঞ্চকর্মী ছিলেন। এক সময়ে তিনি ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর সদস্য ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন যেন ছেদ পড়লো মঞ্চকর্মে। আমরাতো জানি নাজমা আনোয়ার একজন মঞ্চকর্মী, কিন্তু মঞ্চ অথবা পর্দার বাইরেও তো তাঁর একটি জীবন ছিলো, সংসার ছিলো, সন্তান-সন্ততি ছিলো- হতে পারে এসবের কোনো টানাপোড়েনে তিনি নিজেকে সংযুক্ত রাখতে পারেননি মঞ্চকর্মের সঙ্গে। কিন্তু যতদিন তিনি মঞ্চে কাজ করেছেন, মঞ্চকে জীবন্ত করে রেখেছিলেন। তাঁর অভিনয় সম্পর্কে তেমন কিছু বলবার যোগ্যতা না থাকলেও অন্তত এটুকু বুঝি- প্রকৃত অভিনয় বলতে যা বুঝায় নাজমা আনোয়ার সেটাই করতেন। মঞ্চের সমস্ত নাট্যকর্মের মধ্য দিয়ে দর্শককে একটি জিনিস উপহার দেয়া হয়, সেটা হচ্ছে make believe এই make believe করতে গিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বাস্তবতাকে অনুকৃতি বা imitate করতে হয়। মঞ্চে তাঁকে দেখে কখনোই মনে হয়নি বাস্তবতার অনুকৃতি করছেন তিনি। তাঁকে মঞ্চে যখন দেখেছি ইবলিশ নাটকে ‘আতশী’ চরিত্রে অভিনয় করছেন- কখনো মনে হয়নি বাস্তবতার অনুকৃতি করছেন; মনে হয়নি নাট্যক্রিয়াটি make believe করানো হচ্ছে দর্শককে। বরঞ্চ মনে হয়েছে ইবলিশ  আতশীদের একটি গ্রাম যেখানে তাঁরা যুদ্ধ করছে, দুঃখে-কষ্টে বেঁচে আছে; সংগ্রাম করছে একাব্বর মেম্বার, ফজল শিকদার, মুনসী, তালেবেলেম - এদের সঙ্গে। একইভাবে সমতট নাটকে ডাক্তারের স্ত্রী অথবা রঞ্জুর ‘মা’ কে মনে হয়নি মঞ্চে তিনি অনুকৃতি করছেন। অভিনয়শৈলীর এক ভিন্ন মাত্রা কাজ করতো নাজমা আনোয়ারের মধ্যে। যাকে সাধারণ থেকে পৃথক করা যেত এবং এখনও করা যায়। এই বিচারে তাঁর নামের আগে ‘অসাধারণ অভিনয়শিল্পী (Extra-ordinary actress)’ কথাটি যোগ করলে কি খুব বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যায়?

অতি উঁচু মাত্রার সৃজনশীল অভিনেত্রী ছিলেন নাজমা আনোয়ার। তিনি মঞ্চে কাজ করেছেন- অথচ মঞ্চের কাছে কিছু চাননি। তিনি মিডিয়াতে কাজ করেছেন- অথচ মিডিয়ার কাছে কিছু চাননি। এটা সম্ভবত তাঁর অভিমান নয়, ব্যক্তিত্ব। তাঁর সঙ্গে সামান্য কিছু কথাবার্তা বলে, তাঁর মঞ্চ এবং ছোট ও বড় পর্দার কাজগুলো দেখে মনে হয়েছে ভীষণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ ছিলেন তিনি। সম্ভবত এই ব্যক্তিত্বের কারণেই অযথা কোনো কিছু প্রাপ্তির পেছনে ছোটেননি তিনি। একেবারে কম বয়সে প্রয়াণ ঘটেনি নাজমা আনোয়ারের এবং একেবারে কম কাজ করেও চলে যাননি তিনি। মঞ্চে ইবলিশ, কোরিওলেনাস, সমতট, লোহা-র মতো নাটকে কাজ করেছেন, চলচ্চিত্রে শঙ্খনীল কারাগার, দুখাই, কাঁদে নদী কাঁদে মানুষ, টেলিভিশনে সময় অসময়, কোথাও কেউ নেই সহ অসংখ্য নাটকে কাজ করে গিয়েছেন তিনি। সম্ভবত, শেষ দেখেছি,  তাঁর মৃত্যুর পর হারাধনের নাতজামাই। কী অসাধারণ তাঁর অভিনয় ক্ষমতা! অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করছি অভিনয়ের জন্য ত্যাগী এই মানুষটিকে কোনো মঞ্চ সংগঠনও কোনো প্রকার স্বীকৃতি অথবা সম্মাননা প্রদান করেনি। আমরা জানি তাঁর চেয়ে অনেক কম অবদান রেখেও অনেকেই সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার পর্যন্ত পেয়েছেন; কিন্তু নাজমা আনোয়ার পাননি। আমাদের দেশে প্রচলন আছে মরনোত্তর পদক অথবা সম্মাননা প্রদানের। নাজমা আনোয়ারের ভাগ্যে সেই মরনোত্তর সম্মাননাও কোনোদিন জুটবে কিনা আমরা জানি না।

প্রয়াত নাজমা আনোয়ার মঞ্চে এবং মিডিয়াতে কাজ করে গিয়েছেন, কিন্তু কোনো বৈষয়িক প্রাপ্তির লোভ তাঁর ছিলো না, আবার ছিলো না কাজের প্রতি অবহেলাও। সম্ভবত সেজন্যই যে কাজটাই নাজমা আনোয়ার করেছেন- সেটা মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। আজ নাজমা আনোয়ার আমাদের মাঝে নেই; নাট্যাঙ্গন থেকে এমন একজন মানুষের প্রয়াণের পর তাঁর কাজের অবদানটুকু স্মরণ করবার জন্য আমরা কী করতে পারি, নাট্যপ্রেমিক মানুষ হিসেবে এই প্রশ্নটি আমাদের অন্তরে বাজে। নাজমা আনোয়ার একসময়ে আরণ্যক নাট্যদলে কাজ করেছেন। আরণ্যক এদেশের একটি প্রগতিশীল নাট্য সংগঠন। আরণ্যকের কাছে নাজমা আনোয়ারের জন্য চাইবার কিছু নেই। তবুও একটুখানি প্রত্যাশা করি বছরে অন্তত নাজমা আনোয়ারের মৃত্যু দিবসে দলগতভাবে একটু আলোচনা এবং তাঁকে স্মরণ করবার ব্যবস্থা আরণ্যক নাট্যদল করবে।

নাজমা আনোয়ারের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ‘আরণ্যক এবং নাজমা আনোয়ার’ কে নিয়ে আরো একটি কল্পনা মাথায় আসে। আরণ্যক নাট্যচর্চার ত্রিশ বছর পার করেছে। অনেক পূর্বে ‘যুদ্ধ ও নবান্নের উৎসব’ নামে একটি নাট্য উৎসব করেছিলো আরণ্যক। আমার দেখা এযাবৎকালের সবচেয়ে সুসংগঠিত এবং সুশৃঙ্খলিত নাট্য উৎসব ছিলো সেটি। এরপর অনেক বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু দলটি আর সেরকম কোনো নাট্য উৎসব করেনি। আমাদের প্রত্যাশা নাজমা আনোয়ারের স্মৃতির উদ্দেশে আরণ্যক নাট্যদল একটি নাট্য উৎসবের আয়োজন করে দলেরই একসময়কার কৃতি নাট্যাভিনেত্রীকে জাতির কাছে স্মরণ করিয়ে দিবে। আমরা জানি আরণ্যক একটি শক্তিশালী সংগঠন। এই দলের বহু গুণীকর্মী একেক সময় দল ছেড়ে চলে গিয়েও দাপটের সঙ্গে নতুন দল পরিচালনা করছেন। ঢাকার মঞ্চে ‘প্রাচ্যনাট’ একটি প্রথম সারির দল হিসেবে স্বীকৃত। এই দলের অধিকাংশ সদস্যই আরণ্যক নাট্যদলের প্রাক্তন সদস্য হওয়া সত্বেও এখনো তাদের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুসুলভ বলেই জানি। এই দল থেকে বেরিয়ে আসা আরেক নাট্যকর্মী বাবুল বিশ্বাস। শুনেছি বর্তমানে মামুনুর রশীদের নাট্যসমগ্র প্রকাশের কাজে ব্যস্ত। এভাবে যারাই আরণ্যক থেকে বেরিয়ে গেছে তারা কিন্তু আরণ্যকের বন্ধু হিসেবেই নাট্য জগতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই বিচারে, আরণ্যকের একসময়কার সর্বজন শ্রদ্ধেয় গুণীশিল্পী নাজমা আনোয়ারও দলের বন্ধু হিসেবেই পরিচিত হতে পারেন। আর তাই এই বন্ধুটির স্মরণে একটি নাট্য উৎসব উপহার দেয়া আরণ্যকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে মনে করি।

‘থিয়েটারওয়ালা’ বর্তমান সময়ে দেশে নাট্যমুখপাত্র হিসেবে প্রশংসনীয় কাজ করছে। ‘থিয়েটারওয়ালা’র কাছে প্রত্যাশা করি অন্তত তাঁর মৃত্যু দিবসে দু’চার কলম লিখে আমাদের নাট্যকর্মীদের মাঝে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবার চেষ্টা করবে। ভীষণ যান্ত্রিক জীবন যাপন করছি আমরা, বৈষয়িকতা আর দশজন মানুষের মতো নাট্যকর্মীদেরও ভীষণভাবে ব্যস্ত রেখেছে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। এমনই এক পরিবেশে নাজমা আনোয়ারের মতো নিভৃতচারী একজন নাট্যকর্মীর জন্য নাট্যকর্মীরা কী করতে পারে- বিষয়টি ভাবা মুশকিল। তারপরও নাজমা আনোয়ার মঞ্চে এবং মিডিয়াতে যেসব কাজ করেছেন সেসব কাজের কিছু ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করে ‘থিয়েটারওয়ালা’ পত্রিকায় ‘আলোক চিত্রে নাজমা আনোয়ার’ অথবা এই জাতীয় শিরোনামে কিছু একটা ছাপাবার ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেই বিষয়ে সম্পাদককে বিনীত অনুরোধ জানাই।

নাজমা আনোয়ারের জন্য টেলিভিশনের কাছে কী আর চাওয়া যেতে পারে! আলমগীর কবির মারা গেছেন- অথচ তাঁর মৃত্যু দিবসে তাঁর একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করতে পারেনি বিটিভি। এমনকি ঐ দিবসে তাঁর উপর একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও করতে পারেনি বিটিভি। টেলিভিশন আলমগীর কবির বা জহির রায়হানের কর্মকাণ্ডকে বাঁচিয়ে না রাখলেতো তাদের কোনো ক্ষতি নেই। নাজমা আনোয়ার বা আলমগীর কবিরের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করলেইতো চাকুরীওয়ালাদের দায়িত্ব শেষ। এর বেশি কিছু করতে গেলেইতো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জিজ্ঞেস করবেন- ‘ওরা যেন কারা? ওদের স্মরণ করে কি লাভ? স্মরণ না করলে ক্ষতিই বা কি?’ এভাবে লাভ ক্ষতির হিসাব কষতে কষতে আমরা আমাদের শেকড়কে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে ফেলেছি। একারণেই আলমগীর কবির, জহির রায়হান, গোলাম মোস্তফা, রওশন জামিল সহ অনেক কৃতি সন্তানের কর্ম এবং স্মৃতি ম্লান হয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। নাজমা আনোয়ারও কি বেঁচে থাকবেন আগামীতে, আমাদের মাঝে? কীভাবে?

নাজমা আনোয়ারের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে আবারও একটি নিবেদন রাখতে চাই- প্রচার পুনঃপ্রচারতো কতই হচ্ছে মিডিয়াতে, অথচ নাজমা আনোয়ার, গোলাম মোস্তফা, ইনাম আহমেদ, রওশন জামিল, সুমিতা দেবী, আলমগীর কবির, জহির রায়হানের মৃত্যুদিবসে তাঁদের নাটক কিংবা চলচ্চিত্র প্রচারের ব্যাস্থা করলে আমরা অন্তত তাঁদের স্মরণে রাখতে পারতাম। এছাড়া তাদের বাঁচিয়ে রাখারতো আর কোনো পথ নেই। এই শঙ্কা থেকেই মনে প্রশ্ন জাগে এক সময়ে যারা নাট্য অঙ্গনে বেঁচে থাকেন এবং নাট্য অঙ্গনকে বাঁচিয়ে রাখেন তাঁদের কাজ দিয়ে, মৃত্যুর মধ্যদিয়ে তাঁরা কেবলই বিলীন হয়ে যান অথবা ম্লান হয়ে যান প্রজন্ম এবং উত্তরপ্রজন্মের মাঝ থেকে। নাজমা আনোয়ারের ক্ষেত্রে বিষয়টি এ রকম হলে দুঃখ আমরা একটু বেশিই পাবো।

এম এ সবুর : নাট্য বিষয়ক প্রবন্ধ লেখক।