গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে

Written by হাসান শাহরিয়ার.

স ম্পা দ কী য়

এস এম সোলায়মান মাথা নিচু করে ঢুলুঢুলু বিড়বিড় করছে আর ভাবছে, নাট্যোৎসব করার পরিকল্পনা হাতে নেয়ার সাথে সাথে তা সফল করার জন্য সবাই কেমন ‘উন্মাদ’ হয়ে উঠেছে। সে যেন বলছে- থিয়েটার করতে এমন ক্ষ্যাপামীই তো চাই। আবার এ-ও ভাবছে, গত ২০ বছরে অনেকেই পৃথিবী ছাড়লো ঠিকই, কিন্তু থিয়েটার ছাড়তে পারলো কৈ? সত্যিই- ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।’

সে বসে আছে বজরা টাইপের একটা নৌকার সামনের গলুইয়ের একেবারে শীর্ষবিন্দুতে। এটা ইহজাগতিক বজরা নৌকার চেয়ে অনেক বড় সাইজের। তিন/চার না যেন পাঁচ/ছয় তলা। লম্বায়ও উচ্চতা-অনুপাতে দীর্ঘ। গত ২০ বছরে আমাদের যত নাট্যজন গত হয়েছে, সবাই গিয়ে উঠেছে এই বজরায়। যেন বোঝাতে চায়, থিয়েটারের মানুষকে একজোট হয়ে থাকতে হয়- কী একালে, কী সেকালে। বজরার ছাদে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে নাটক লিখছিল আবদুল্লাহ আল-মামুন। লেখার এক ফাঁকে, যখন পরের সংলাপটা কী হবে বা চরিত্রটা ঠিকঠাক আকার পাচ্ছে কিনা, এমন ভাবনা নিয়ে এদিক ওদিক আনমনে তাকাচ্ছিল, তখন দেখলো সোলায়মান গলুইতে বসে ঝিমাচ্ছে আর বিড়বিড় করছে। সে উচ্চস্বরে ডাকে-

ঐ সোলায়মান, গলুইয়ের অত উঁচুতে কেউ বসে নাকি? পড়ে যাবে তো।

পড়ে গেলে ক্ষতি কী? মরবো তো না। ঐ কাজ তো সেরেই এখানে এসেছি- হি হি।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : নাটকে দুই বাংলা- দুই দশক

Written by মোহিত বন্ধু অধিকারী.

যেকোনো বিষয়ে আলোচনা বা লেখার পূর্বে ইতিহাস, বর্তমান সময়, সমাজ, ভৌগলিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে লেখার আঁচরগুলো হয়ে পড়ে সূত্রহীন, বিচ্ছিন্ন কিছু মূল্যহীন পাণ্ডুলিপি। ইতিহাসের খুব পিছনে পদচারণা না করে নির্দিষ্ট একটা সময়কালকে বিবেচনায় আনা যেতে পারে। ১৯৪৭-এ দেশ ভাগ হলো। ধর্মের ভিত্তিতে। বাংলা জাতিসত্তার মধ্যে বিভাজনের কাঁটাতারের রেখা টানা হলো। সত্তা এক হলেও ভৌগলিক সীমারেখায় একে অপরের থেকে আলাদা হতেই হলো। কারণ, ‘দেশ’ নামক একটি শব্দ। অনাহার, উদ্বাস্তু সমস্যা, স্বজন ছেড়ে আসার যন্ত্রণা, কত স্মৃতি বুকে নিয়ে কাঁটাতারের এপার-ওপার হলো বিপুল মানুষ। শুধু মানুষ নয়, মানুষের মন, আশা-আকাঙ্ক্ষাও ভাগ হলো।  আমরা যারা ভারতীয় বলে চিহ্নিত হলাম, তারা ঝড়-ঝাপটা, দাঙ্গা সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথের সন্ধান কিছুটা পেলাম। সংবিধান রচনা হলো। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ভারতবর্ষের মূল চালিকাশক্তি। অন্যদিকে, অর্থাৎ পূর্বপাড়ে গণতন্ত্রহীন স্বৈরাচারী ধর্মীয়রাষ্ট্র। এদেশ যদি মানবশরীরের এক বাহু হয়, তবে অপর বাহু হলো পূর্ববঙ্গ, যেখানে বাংলার বদলে চাপানো হলো বলপূর্বক উর্দু ভাষা।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : বিষয় বৈচিত্র্যে

Written by বিপ্লব বালা.

‘আমাদের স্বপ্নে কোনো বাস্তব ছিল না
তাই বাস্তবে নেই আজ কোনো স্বপ্ন’
- শঙ্খ ঘোষ

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নিয়মিত নাট্যচর্চার শুরু। দল বা গ্রুপ গঠন করে তা হয়। তার আগে গত শতকের ৭২ সালে আন্তঃহল নাট্য-প্রতিযোগিতায় তার বীজতলা রোপিত হয়। ‘ব্যতিক্রমী’, ‘নিরীক্ষাধর্মী’ অভীধায় ভূষিত নাটক ও নাট্য রূপায়ণ হয়। তাকে বলা যায় তারুণ্যের এক বিস্ফার! নাটকের খোলনলচের বদল তাতে ঘটে। বিষয়, রূপ-রীতি, প্রয়োগ অভিনব হয়ে ওঠে। নতুন দেশ-সমাজের টাটকা স্বপ্ন, সজীব তাকদ যুদ্ধফেরত তরুণদের মনে। মঞ্চে তা বিবিধ-বিচিত্র রূপ নেয়। দল গঠন করে নাটক হতে থাকে নানা ধরনের- দৈনন্দিন বাস্তবতার নানা সংকট সামাজিক দায় হিসেবে মঞ্চে আসে; বাংলা ভালো নাটকের অভাব হেতু নানা ভাষার অনুবাদ-রূপান্তর করা হয়- সেখানে বর্তমান জীবনেরই প্রকাশ ঘটে; রঙ্গ-ব্যঙ্গ-কার্টুন চালেও দিনানুদৈনিক ধরা পড়ে। শ্রেণিসংগ্রামের ডাকও দেয়া হয় মঞ্চে।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : প্রবাসে নাট্যের দেশে

Written by আশিস গোস্বামী.

‘গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার’ নিয়ে আলোকপাত করার আগে সংগত কারণেই আমি একটু পেছন থেকে শুরু করতে চাচ্ছি। কারণটা এই যে, আমি অনেকটা প্রবাসীর চোখ দিয়ে বাংলাদেশের নাটককে দেখতে পেয়েছি। তাই, বাংলাদেশের নাটকের সাথে আমার পরিচয় হয়ে ওঠার পর্বটাও একটু পেছন-ফিরে দেখে নিতে চাই।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : নতুন থিয়েটারের চেষ্টা

Written by সাইফ সুমন.

হুজুগ এবং আবেগ, মানুষকে, বিশেষ করে এই বঙ্গের মানুষদের খুব বেশি প্রভাবিত করে। এই দু’টো ব্যাপারই যুক্তি এবং বাস্তবতা অনেকাংশেই মানে না। নেশা, তা যে প্রকারেরই হোক, তার ক্ষেত্রেও এই দুই ব্যাপার জড়িত। নেশা কেউ হুজুগে, কেউ আবেগে, কেউবা আবার এমনি এমনি ধরে বা করে। বলতে বা শুনতে খারাপ লাগলেও, বোধকরি এটা সত্যি, ‘থিয়েটার’ একটি নেশা, বিশেষত এই দেশে। সেই নেশাটাকে পেশা হিসেবে দাঁড় করাতে চাই আমরা। এখন কথা হলো, নেশাকে পেশা হিসেবে দাঁড় করানো যায় কি?

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : কিছু আলো কিছু অন্ধকার

Written by অপু শহীদ.

এই লেখা থেকে হয়তো উন্মোচিত হবে না চিন্তা রাজ্যের একটি ঘুলঘুলিও। তবু আমরা যারা ছোট গণ্ডির মধ্যে দাঁড়িয়ে নিজেদের মনোজগতের ব্যাসের মধ্যে চেনা মানুষ পার হয়ে দেশ সমাজ পৃথিবীর বয়ান নিয়ে উপস্থিতি জানাই- তাদের এক সবিনয় স্মৃতি-সম্মেলনের সম্ভাবনা থেকে যাবে। দেখার বিবিধ চশমা আবিষ্কারের পূর্বেই ঢুকে পড়েছিলাম থিয়েটারে। তাই খোলা চোখে কিছু আলো কিছু অন্ধকার দেখবার সুযোগ ঘটে যায়। থিয়েটার নিয়ে সেই মায়াঘোরবিভ্রমের দিনগুলোতে ফিরে তাকালে দেখতে পাই স্বৈরাচার নিপাত যাক, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সমাজবদলের হাতিয়ার, কবিতা পরিষদ, মিছিল, কারফিউ, জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : নানান রঙের থিয়েটার ও আমার কৈফিয়ত

Written by শামীম সাগর.

প্রায় ২৫ বছর ধরে গ্রুপ থিয়েটার চর্চার অবিরত চেষ্টা চলছে আমার। সেই শুরু থেকে এখন অবধি জেলা পর্যায়ের (রাজধানীর দৃষ্টিতে যাকে মফস্বল বলে থাকি, সেই গ্রাম, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়) নাট্যচর্চা এবং রাজধানীর নাট্যচর্চার সাথে বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকবার কম-বেশি অভিজ্ঞতা হয়েছে। একজন সাধারণ নাট্যকর্মী হিসেবে সাদা চোখে বেশ কিছু পরিবর্তন যেমন চোখে পড়েছে, তেমনি নানান সময়ে নানান প্রশ্নও মনে বাসা বেঁধেছে। পাশাপাশি অপর দুই বাংলা ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গের নাট্য উৎসবগুলোতে নাট্যপ্রদর্শনী করবার সৌভাগ্য যেমন ঘটেছে, তেমনি এসব স্থানের নাট্যপ্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করা এবং নাট্যজনদের সাথে নাট্যচর্চা বিষয়ে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কেরও সুযোগ ঘটেছে।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : খোলা চোখে দেখা নাট্যচর্চা

Written by অভিজিৎ সেনগুপ্ত.

রুশ সঙ্গীতজ্ঞ ও ভাষাবিদ গেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফের হাত ধরেই আধুনিক ইউরোপীয় ধাচের প্রসেনিয়াম থিয়েটারের প্রবর্তন হয় অবিভক্ত বাংলায় ১৭৯৫ সালে। সেই হিসেব অনুযায়ী বাংলা প্রসেনিয়াম থিয়েটারের পথচলা প্রায় দুইশত পঁচিশ বছরের কাছাকাছি। অন্যদিকে বাংলাদেশে গ্রুপ থিয়েটারের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সাল থেকে। তারও পথচলা প্রায় ৪৭ বছর। বাংলাদেশে গ্রুপ থিয়েটার চর্চার সময়টাকে আমরা যদি দুই ভাগে ভাগ করি তাহলে দাঁড়ায় ১৯৭২ থেকে নব্বই দশকের শেষদিক পর্যন্ত এবং নব্বইয়ের শেষ হতে আজ অবধি। বিগত এই ২০ বছরে বাংলাদেশের গ্রুপ থিয়েটারচর্চা নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে বিকশিত হয়েছে। এই ২০ বছরের নাট্যচর্চাকে বিশ্লেষণ করলে আমরা তার উত্থান-পতনের রূপরেখাগুলো দেখতে পাবো। খুঁজে নিতে পারবো উত্তরণের পথ। আবিষ্কার করতে পারবো নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে। 

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : কুড়ি বছরের নাট্যরঙ্গ- একটি চকিত পরিভ্রমণ

Written by শুভাশিস সিনহা.

Theatre is a weapon, for that reason it must be fought for.
-Auggusto Boal

হ্যাঁ, বাংলাদেশের নাট্যকর্মীদের কাছে থিয়েটার অগাস্টো বোয়াল কথিত রাজনৈতিক অর্থসূচক হাতিয়ার না হতে পারে, কিন্তু এক অর্থে তা হাতিয়ারই, যা তাদের শৈল্পিক মগ্নতার গুহার কপাট কিংবা ক্ষ্যাপাটেপনার আগল খুলে দৌড়ানোর সমস্ত দরোজা এখনো খুলে দিতে পারে।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : প্রেক্ষাগৃহ-নির্ভর লোকনাট্যচর্চা; অর্জন ও কিছু প্রশ্ন

Written by সাইদুর রহমান লিপন.

বাংলাদেশের নাটক ও থিয়েটারের জ্ঞান-তাত্ত্বিক চর্চা, বিকাশ ও বিস্তারের মহান ব্রত নিয়ে যে দু-একটি পত্রিকা মুদ্রণ, প্রকাশ ও প্রচারের দায়িত্বে রয়েছে অবিরাম, ‘থিয়েটারওয়ালা’ এদের অন্যতম। ‘থিয়েটারওয়ালা’ তার বর্তমান সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে অর্জন করছে দুই দশকের নিরবচ্ছিন্ন হার-না-মানা অভিজ্ঞতা। ‘থিয়েটারওয়ালা’কে অভিবাদন আর এই লেখাটি তার গর্বিত ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিবেদন করছি।- লেখক 

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : এবার কি নটেগাছটি মুড়োল?

Written by অংশুমান ভৌমিক.

[থিয়েটারওয়ালা’র ২০ বছর পূর্তিতে সম্পাদক হাসান শাহরিয়ার আমার কাছে একটা লেখা চাইলেন। বিষয় ধরিয়ে দিলেন ‘গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার’। আমার মনে হলো, গত ২০ বছরে বাংলাদেশ আর আমাদের পশ্চিমবঙ্গে যত নাটক হয়েছে, সেসব নিয়ে খণ্ডিত-মাঝারি-বিস্তারিত অনেকে অনেক কিছু লিখবেন। আমি আর সে-পথ মাড়ালাম না। বরং বেছে নিলাম ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মার্চ ভারতের মুম্বই শহরে হয়ে যাওয়া ৮ম থিয়েটার ওলিম্পিকসের একটা সেমিনারের অভিজ্ঞতাকে। এই অভিজ্ঞতার সাথে পাঠককে সঙ্গী করতে পারলেই তারা বুঝে যাবেন, গত দুই দশকে কেবল আমাদের না, বিশ্বের তাবৎ থিয়েটারেরই কেমন রূপবদল হয়েছে এবং ক্রমাগত হয়ে চলেছে।- লেখক।]

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : ঢাকার থিয়েটারের পালাবদল-পালা

Written by অনন্ত হিরা.

হাসান শাহরিয়ার সম্পাদিত ‘থিয়েটারওয়ালা’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি বের হয় ৪ নভেম্বর ১৯৯৮ সালে, প্রায় দুই দশক আগে। ঐ সময় পর্যন্ত মূলত আমাদের ঢাকার নাট্যচর্চা ছিল বেইলি রোডকেন্দ্রিক এবং তার চালকের আসনে ছিলেন আমাদের অগ্রজ পথিকৃৎ ৮/১০ নাট্যজন আর তাঁদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ৪/৫টি নাট্যদল। তাঁরাই বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে মেঠো আলপথ থেকে রাজপথে পরিণত করেছেন এবং এ কথাও স্বীকার করতে হবে, আমরা তাঁদের তৈরি পথেই পথ চলছি। কিন্তু লক্ষ করলে দেখা যাবে তাঁরা এখন আর চালকের আসনে নেই। গত শতকের নব্বই দশক এবং তার পরে আসা নাট্যজন এবং তাদের সৃষ্ট নাট্যদলগুলোই এখন চালক। কীভাবে, কেমন করে, কোন প্রক্রিয়ায় বিগত ২/৩ দশকের ব্যবধানে চালকের আসন বদলে গেল, সে প্রত্রিয়াটির অনুসন্ধানই এই লেখার অভিপ্রায়।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : কিছু কথা কিছু ভাবনা

Written by আব্দুল্লাহেল মাহমুদ.

প্রায় বিজ্ঞাপন ছাড়া প্রকাশ করে, প্রায় বিনামূল্যে বিতরণ করে, একটি পত্রিকা কী করে এতদূর এলো, সে এক বিস্ময়! অবশ্য এ-সময়ের মাঝে একটা পরিবর্তনও এসেছে, তা হলো, মূদ্রিতরূপ ফেলে অন্তর্জালে প্রবেশ।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : রচনা-নির্দেশনায় উত্তর-প্রজন্ম

Written by প্রশান্ত হালদার.

নির্দ্বিধায় বলা যায়, গত ২০/২২ বছরে ঢাকা তথা বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় নতুন একটি প্রজন্ম, যাকে উত্তর-প্রজন্ম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়- আত্মপ্রকাশ ও বিকাশের পর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বাংলাদেশে নিয়মিতমঞ্চনাট্যচর্চা যাঁদের হাত ধরে শুরু- উল্লেখিত ‘উত্তর-প্রজন্ম’ ঠিক তার পরের নাট্যজনেরা। তারা তাদের কাজ দিয়েই দৃশ্যমান ও বিকাশমান। বর্তমানে এরাই বাংলাদেশের নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। এই উত্তর-প্রজন্মের যারা ইতোমধ্যে নাটক রচনা ও নির্দেশনায় উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন, উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন, তাদের সনাক্তযোগ্য কিছু প্রযোজনা ও পাণ্ডুলিপির নাম উল্লেখ করা এবং কোথায় কোন নাট্যদলের প্রযোজনায় সেগুলো মঞ্চে বা দর্শকসমুখে এসেছে তার খোঁজ-খবর নেয়াই বক্ষমান লেখার মূল উদ্দেশ্য। মনে রাখা দরকার- এ প্রয়াস মূলত গত ২০/২২ বছরের থিয়েটারচর্চাকেন্দ্রিক এবং তা কেবল নাট্যকার ও নির্দেশকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : পাখির চোখে দেখা

Written by এম. এ. সবুর.

গত ২০ বছরে আমাদের মঞ্চনাটককে একটা অ্যাবস্ট্রাকট আর্টের ক্যানভাসের সাথে তুলনা করা যায়। অ্যাবস্ট্রাকট আর্ট বা বিমূর্ত শিল্পটা তবে কী? এটি এমন একটি রহস্যময় শিল্প, যার কিছু বুঝি এবং কিছু বুঝি না, যার ভেতরে রঙের খেলা প্রচুর, রেখার খেলা, আলোর খেলা প্রচুর, কিছু কিছু স্ট্রাকচার স্পষ্ট অথবা অস্পষ্ট। তবে এই শিল্প মানুষকে খুব আকৃষ্ট করে বা কাছে টানে অবিরত। আসলে বাস্তবিক অর্থে অ্যাবস্ট্রাকট আর্টকে মনে হয় মূর্ত-বিমূর্তের মিশেলে এমন একটি চিত্রকলা যাকে ডিফাইন করা যায় অথবা যায় না। অথচ এর আগের সময়টায় অর্থাৎ ১৯৭২ থেকে নব্বই দশকের শেষ দিক পর্যন্ত আমাদের নাটককে অনেকটাই স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ চিত্রকলা বলা যায়। এই সময়ে যেমন দুর্ভিক্ষ বোঝা যেতো স্পষ্ট, তেমনি কাশফুলও বোঝা যেতো স্পষ্ট।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : থিয়েটারওয়ালা'র কুড়ি

Written by আজাদ আবুল কালাম.

কুড়িতে বুড়ি, নাকি মাত্রই যৌবনপ্রাপ্তি?

ধরে নিই দ্বিতীয়টি বা দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা এবং প্রথম অধ্যায়ের সমাপ্তি। প্রথম অধ্যায়ের মাল-মশলার বিন্যাস বিস্তারেও নানান বাঁক আছে- মগজ থেকে কাগজে, কাগজ থেকে অন্তর্জাল বা পর্দায়।

গত ২০ বছরে আমাদের থিয়েটার : আড্ডা-আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা

Written by মোহাম্মদ বারী.

বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলন স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রায় সমান বয়সী। নানা বাঁক পরিবর্তন করে এই নবনাট্য চর্চা কী রূপ ধারণ করল, তার সরজমিনপ্রতিবেদন তৈরি কঠিন নয় বৈকি। মাত্র ৪৫/৪৬ বছরের এই পথ পরিক্রমণে বাঁকগুলো স্পষ্ট করার যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত সকলের চোখের সামনেই আছে। এরই মধ্যে কখন যে সময় গড়িয়ে আমরা,  মানে আমাদের প্রজন্মও এই যাত্রায় অনেকখানি পথ পাড়ি দিলাম, তা ভেবে অবাকই হতে হয়। আমাদের প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ থিয়েটারকেন্দ্রিক পত্রিকা ‘থিয়েটারওয়ালা’ এক কুড়ি বছর পার করেছে, এ সংবাদ জানিয়ে পত্রিকার সম্পাদক হাসান শাহরিয়ার যখন একটি লেখা আহ্বান করলেন, তখন অন্তরে ডাক দিল প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘কুড়ি বছর পরে’। ‘.... জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার’।