আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে...

Written by হাসান শাহরিয়ার.

স ম্পা দ কী য়

: স্লামুলাইকুম।
: ওয়ালাইকুম... আরে তুমি! কী খবর কেমন আছো?
: কেমন আর থাকবো বলেন। একে একে তো সবাই চলে যাচ্ছে। এত ঘন ঘন শহীদ মিনারে আসতে হচ্ছে যে, বেশ ভয় করে।
: হুম। আমাদেরও তো বয়স হয়ে গেল...
: এভাবে বলবেন না। তাতে ভয় আরও বেড়ে যাবে। মাঝে মাঝে যে আপনাদের সাথে একটু আধটু দেখা হয়, তাতো এই শহীদ মিনারেই। এটুকুও অন্তত হউক।
: তোমার ভয়ের কারণে কি সত্য বসে থাকবে? কেউ বিদায় না নিলে শহীদ মিনারেই-বা দেখা হবে কিভাবে? এরপর যখন শহীদ মিনারে আসবে, হয়তো আমার মৃতদেহেই ফুল দিতে আসবে।...  ইত্যাদি ইত্যাদি...

জপেন দা’র প্রত্যাবর্তন : শহীদ মিনার

Written by মামুনুর রশীদ.

[জপেন দা’ উৎপল দত্তের লেখা ‘জপেন দা জপেন যা’ নামে এক রসিক আখ্যানের চরিত্র। জপেন দা’ শিল্প সাহিত্য থেকে রাজনীতি সব বিষয়েই এক নিষ্ঠুর সমালোচক। সেই চরিত্রটির আদলেই জপেন দা’-কে ফিরিয়ে আনা।- লেখক]

একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এটা তাঁর স্বভাব। ভিড়ভাট্টা পছন্দ করেন না। ভিড়ের মধ্যে, লোকের মধ্যে নানান মানুষের নানান রকম আচরণের প্রতিক্রিয়ায় আমিও খেয়াল করতে পারি নি। কবির কফিনটি যখন শহীদ মিনার থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন খেয়াল করি দাঁড়িয়ে আছেন দূরে, জপেন দা’। জপেন দা’র সাথে অনেকদিন দেখা নেই। শুনেছিলাম তিনি ভারত গেছেন, বেঙ্গালুরু থেকে যাবেন হিমাচল, তারপর কন্যাকুমারী ঘুরে আসবেন। আমার মতোই এক ভক্ত, যিনি বিত্তবানও বটে, তিনিই পুরো ব্যবস্থাটা স্পন্সর করেছেন।

কবিতার মৌলবীর সঙ্গে কয়েকটি সন্ধ্যার গুঞ্জন

Written by আলফ্রেড খোকন.

তাঁর সঙ্গে প্রথম সরাসরি কথা হয় বাংলা একাডেমিতে। সেটা ১৯৯৬ সাল। তারপর দীর্ঘ বিরতি। মাঝে মাঝে দেখা হতো লেখায়, পত্রিকার পাতায়। ২০০২ বা ৩ সালের আসন্ন শীতে তিনি একদিন আমাকে ফোন করলেন, সেল ফোনে- কবি তোমার কী খবর? লেখা ছাড়া আর কী করছো? মানে ভাত-টাত খাও কিভাবে? সে সময় কবিতা ও ফিচার আমার একমাত্র জীবিকা। অবশ্য তা দিয়ে ঘরভাড়া ও ভাত খাওয়া সম্ভবপর ছিল না। বাড়িভাড়া একমাস বাকি পড়ল। এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে বাড়িভাড়া পরিশোধ করি। আর কবিতা ও ফিচার লেখার বিল দিয়ে, কোনো কোনো সময় পত্রিকা অফিস থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে ভাত-ভর্তা খাই।

২০১৫ সালের বহরমপুরের নাট্য-আঙ্গিনা

Written by বিদ্যুৎ মৈত্র.

২০১৩ সালের জুন মাস নাগাদ সংস্কারের জন্য প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ হয় বহরমপুরের রবীন্দ্রসদন। ফলে মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহরের সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের কাছে নাট্যসহ সংস্কৃতিচর্চা এক প্রকার ব্যহত হয়। শহরের এ-প্রান্তে ও-প্রান্তে দৌঁড়ে দৌঁড়ে কোথাও মঞ্চ বেঁধে, কোথাও মুক্তমঞ্চে, যে যার মতো করে নাট্য প্রদর্শন করেছেন। এই আঘাত সেই সময় নাটকের দলগুলোর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। কারণ কাজের শুরু-শেষ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল না।

নাট্যগ্রন্থ সমালোচনা- ‘চরিত্র সৃষ্টি এবং অভিনয়’

Written by আব্দুল্লাহেল মাহমুদ.

মঞ্চে দাঁড়ালেই অভিনয় করা যায়, এরকম একটা ধারণা যখন প্রায় সর্বত্র বিরাজমান, তখন রাহমান চৌধুরীর ‘চরিত্রসৃষ্টি এবং অভিনয়’ একটু বিস্ময় জাগায় বৈকি। বইটি পড়তে পড়তে আরো বিস্মিত হতে হয় লেখকের পরিশ্রমের কথা ভেবে। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো বাংলাভাষায় এমন একটি গ্রন্থ যদি ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগে থাকতো, তাহলে আমাদের অভিনয় শিল্পীদের অভিনয়ের কাজটা আরো অনেক সহজ হতো! গ্রন্থটির নামকরণেই লুকিয়ে আছে গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য। অভিনয় এবং চরিত্রসৃষ্টি দুটি শব্দকেই অনেক নবীন অভিনেতৃ, এমনকি প্রবীণ অভিনেতৃগণও এক করে ফেলেন। মহড়ায় বসে থেকে মহড়া দেখতে দেখতে এ-দুটোর ফারাক বুঝতেই আমাদের কেটে গেছে অনেক সময়।

নাট্যগ্রন্থ সমালোচনা- ‘বাংলাদেশের নাটক ও নাট্যদ্বন্দ্বের ইতিহাস’

Written by বিপ্লব বালা.

‘বাংলাদেশের নাটক ও নাট্যদ্বন্দ্বের ইতিহাস’ প্রণেতা শান্তনু কায়সার বিশিষ্ট নাট্যভাবুক- ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক; দীর্ঘকাল যাবৎ সমাজ-সংস্কৃতি-নন্দনের অক্লান্ত ভাষ্যকার। তাঁর মতে, বাংলাদেশের নাটকের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য- অখণ্ড বঙ্গ, অবিভক্ত ভারতবর্ষ ও সারা বিশ্বের। বাংলাদেশের জন্ম, তার পূর্বাপর শিল্প হিসেবে নাট্যের প্রয়োজন ও সার্থকতা- দেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটেই বুঝতে চান তিনি। যেহেতু এই রাষ্ট্র ও তার মানুষের সত্তা বিশ্ব বাস্তবতা ও পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়- সেভাবেই অভিব্যক্ত নাট্য ইতিহাস ও তার দ্বন্দ্ব। প্রাক-কথনে স্পষ্ট করেন তার এই ব্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ-পট।

নাট্যগ্রন্থ সমালোচনা- ‘থিয়েটার পত্রিকার চল্লিশ বছর’

Written by শফি আহমেদ.

পৃথিবীর বিভিন্ন শহরের মত আমাদের এই অভাজন ঢাকাতেও শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ছোট সাময়িকী বা যা জনপ্রিয় প্রকরণে ‘লিটল ম্যাগ’ হিসেবে বেশি পরিচিত, তার প্রকাশনার একটা পুরনো ঐতিহ্য আছে। এমন সব ছোট কাগজের একটা স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য হল, এগুলির জন্মকথা এবং প্রাথমিক বিকাশ ও প্রসারের মধ্যে একটা প্রায় বুনো উত্তেজনা থাকে, কখনও কখনও আত্মরতিরও চর্চা থাকে, কিন্তু সাধারণত এসব কাগজের ললাট লিখনে দীর্ঘায়ুর কোনো চিহ্ন থাকে না।

‘আমি ও রবীন্দ্রনাথ’: স্মৃতিবিধুরতার শিল্পরূপ

Written by হাসান শাহরিয়ার.

কয়েক-সুতো অগ্রজ নাট্যবন্ধু মোহাম্মদ বারী’র সুযোগ হয়েছিল গ্রিস পরিভ্রমণ করার। তা-ও অনেক বছর আগের কথা। গ্রিসে সে অনেক কিছু দেখেছে। বর্ণনা শুনছিলাম ডেলফির সেই এ্যাপোলোর মন্দিরের, পুরাণে আছে, সেখান থেকে ভবিষ্যৎবাণী উচ্চারিত হতো। সে দেখেছে সেই ‘তেমাথা’, যেখানে ইডিপাস নিজ হাতে হত্যা করেছিল পিতা লেয়াসকে। সক্রেটিসকে বিশেষভাবে আপন করে নিয়েছিলাম ‘সক্রেটিসের জবানবন্দী’ নাটক করার সুবাদে। শুনলাম সক্রেটিস যেখানে তাঁর শিষ্যদের নিয়ে আড্ডা দিতেন, সেই জায়গাটিও দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল নাট্যবন্ধুর। এমন অনেক কিছু নিয়ে কথা চলছিল তার সাথে, ‘কথা’ তো নয় যেনো স্মৃতিবিধুরতায় ডুব দিয়েছিলাম।

‘নদ্দিউ নতিম’: প্রসেনিয়ামের আলোয় হুমায়ূন পাঠ

Written by হুমায়ূন আজম রেওয়াজ.

শিল্পান্তর যেকোনো সৃষ্টির নতুন পাঠ তৈরির দুরূহ মাধ্যম। পাঠকের জন্য প্রস্তুতকৃত মাঠে দর্শককে আবিষ্ট করতে বাড়তি প্রস্তুতি, সাহস ও প্রজ্ঞা জরুরি। ‘ম্যাড থেটার’- এর প্রথম মঞ্চ প্রযোজনা ‘নদ্দিউ নতিম’ এই চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে নান্দনিকভাবে। দর্শক সারি থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় এ প্রচেষ্টার আপাত মূল্যায়নের চেষ্টা রইল নিম্নোক্ত বয়ানে।

নাট্যগ্রন্থ সমালোচনা- ‘দুই বাংলার নাটকে প্রতিবাদী চেতনা (১৯৪৩-১৯৯০)’

Written by তপন বাগচী.

hello

দুই বাংলার নাটক ও নাট্যচর্চা নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে আমাদের দেশে। বাংলাদেশের নাটকের কথা বলতে গেলে আমরা পশ্চিমবঙ্গের নাটকের কথাও বলি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নাট্যগবেষণায় বাংলাদেশের নাটকের প্রসঙ্গ কতটা আন্তরিকভাবে উঠে আসে, তা নিয়ে প্রশ্ন রাখা যেতে পারে। আমাদের জানামতে- অরুণ সেন, আশিস গোস্বামী এবং প্রভাতকুমার দাস যথাক্রমে বাংলাাদেশের নাট্যকার সেলিম আল দীন, বাংলাদেশের সংগঠন আরণ্যক নাট্যদল এবং বাংলাদেশের নাট্যপত্রিকা ‘থিয়েটার’ নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ রচনা করেছেন। এর বাইরে বাংলাদেশের থিয়েটার নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

রেখ মা দাসেরে মনে

Written by আব্দুল্লাহেল মাহমুদ.

ভূমিকা
মানুষ কেনা-বেচা নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘মানুষের মুখ’ নামে একটা নাটক লিখেছিলাম ১৯৯০ সালে। নাটকটি বেশ দর্শকনন্দিত ও আলোচিত হয়েছিল। তখন থেকেই মানুষ কেনা-বেচা নিয়ে একটা মঞ্চনাটক লেখার ভাবনা মাথায় কাজ করছিল। ২০০৭ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গসন্তানের হৃদয়স্পর্শী কাহিনী একটি দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হলে সেই ভাবনা আরো গভীরতা পায়। পরবর্তীকালে নাট্যকার গোলাম শফিকের লেখা ‘ভূমধ্যসাগর’ নাটকটি আমাকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। তার কিছুদিন পর নাটকটি লিখতে শুরু করি। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে নাটকটি লেখা শেষ করি। গোলাম শফিককে ধন্যবাদ। নাটকটি এখনো মঞ্চে আসেনি। মঞ্চে এলে হয়তো কিছু পরিবর্তন হতে পারে।- নাট্যকার

রবীন্দ্রনাথের ‘বিসর্জন’ পাঠ: বিশ্বাসের রাজনীতি বনাম বিশ্বাসের আধ্যাত্মিক নীতি

Written by শাহমান মৈশান.

‘বিসর্জন’ নাটকের পূর্বপাঠ ও বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগের সমস্যাজনক গ্রন্থপরিচয়

“[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’] নাটকে বরাবর এই দুটি ভাবের বিরোধ বেধেছে- প্রেম আর প্রতাপ। রঘুপতির প্রভুত্বের ইচ্ছার সঙ্গে গোবিন্দমাণিক্যের প্রেমের শক্তির দ্বন্দ্ব বেধেছিল। রাজা প্রেমকে জয়যুক্ত করতে চান, রাজপুরোহিত নিজের প্রভুত্বকে। নাটকের শেষে রঘুপতিকে হার মানতে হয়েছিল। তাঁর চৈতন্য হল, বোঝবার বাধা দূর হল, প্রেম হল জয়যুক্ত।”১- বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ এইভাবেই ‘বিসর্জন’ নাটকের পরিচয় তুলে ধরেছে।

‘মণিপুরি থিয়েটার’: হৃৎপারানির ঘাটে কুড়ি বছরের পারাপার

Written by শুভাশিস সিনহা.

Love art in yourself, and not yourself in art. -Konstantin Stantislavski
আমরা যে ঠিক খোয়াবের মধ্যে ছিলাম, তা নয়। অথবা বাস্তবকে খুব ভালোমতো বুঝতে পেরেছিলাম, তাও বলা যাবে না। আমরা আসলে একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম, একটা আনন্দ আর উত্তেজনার মধ্যে ছিলাম। কারণ গ্রামের খেলার মাঠ, তার উচ্ছ্বাস, প্রতিযোগিতা, পলিকাদামাখা পথ, আল বেয়ে বেয়ে চলা, পাখির ডাক শুনে শুনে শিস বাজানো, হৈ-হুল্লোড় সবকিছুর থেকে একটু আলাদা হয়ে গিয়েছিল সেই অভিজ্ঞতা- মানুষ আমাদের দেখতে আসছে, আমাদের কথা শুনতে আসছে, আমরা কী করি তা-ই মনোযোগ দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছে এবং শেষ কথা হলো, মানুষ আমাদের বিশ্বাস করছে।

পিঁয়াজ কাটার ইতিহাস

Written by বদরুজ্জামান আলমগীর.

 

 
কী সন্ধান করিতে ঘর হইনু বাহির
কী মধুর হাস্য আনিতে যাই অহর্নিশ
কী সংকেতে ছায়াতরুমন নাহি রয় থির
পরম সখা ওগো সখি রহিয়া রহিয়া বীর॥

অহন্যহনি ভুতামি গচ্ছন্তি যমমন্দিরম
শেষা স্থিরত্বমিচ্ছিন্তি কিমাশ্চর্যমতঃ পরম॥

যা কিছু কর তুমি, যাহা কিছুই কর! ধরো যে তোমার মুখ জেঠ মাসের ঠাডা রোইদে মুখ ছারখার হয়- তোমার মুখ, আহারে এমন সুন্দর মুখখানি! মুখের বুঝি বয়স হয় না! একখানে স্থির! এই যেমন শৈজালির বয়স বাড়ে কিন্তু মুখখানি এক আদলে বসা। আগে যা, এখনো তা, ভবিষ্যতেও সেই একই আদল!