Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

মণিপুরি থিয়েটারের নাট্যমেলা: নগর মিলেছে গ্রামের মঞ্চে

Written by পাভেল রহমান.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

নতুন বছর ২০১৭ এর আগমনী বার্তা যখন কড়া নাড়ছে দরজায় তখন নাট্যাঙ্গনে লেগেছে উৎসবের ঢেউ। নানা শিরোনামের ভিন্ন ভিন্ন উৎসব হচ্ছে শহর থেকে গ্রামে। এসব উৎসবগুলোতে নামের ভিন্নতা চোখে পড়লেও আয়োজনের ভিন্নতা খুব একটা চোখে পড়ে না। স্মৃতির পাতায় মনে রাখার মতো জমা হচ্ছে কয়টা উৎসব? পুঁজিবাদী বিশ্বায়নে প্রায় সব উৎসবই তো এখন কর্পোরেট মাড়কে বন্দি। প্রায় সব উৎসবেই তো লেগেছে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের স্টিকার। পুঁজিবাদী অর্থনীতির এই সময়ে দাঁড়িয়ে পুঁজির বিপরীতে শুধু মানবিক ও সামাজিক শক্তির সংগঠিতরূপকে পুঁজি করে উৎসব আয়োজন তো এখন অলীক কল্পনা। এই কর্পোরেট সংস্কৃতির আগ্রাসনের স্রোতে ভাসছে নাট্যাঙ্গনও।

প্রাণহীন এই বৈশ্বিক সময়ে নাট্য উৎসবগুলো এখন গ্ল্যামারাস। বাইরে থেকে চাকচিক্য চোখে পড়লেও প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়ার মতো উৎসব কি খুব বেশি হচ্ছে? রাত জেগে উৎসবের সাজ-সজ্জার কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে ডিজিটাল ব্যানার ও অন্যান্য প্রযুক্তি। প্রচারণার জন্য রাত জেগে এখন আর পোস্টার লিখতে হয় না। স্যোসাল মিডিয়া এখন সেই দায়িত্ব পালন করছে। এই কর্পোরেট নাট্য উৎসবের আগ্রাসী সময়ে প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়া এক নাট্যমেলা আয়োজন করেছিল ঢাকা থেকে আড়াইশ কিলোমিটার দূরের ঘোড়ামারা গ্রামের ‘মণিপুরি থিয়েটার’। ডিজিটাল সময়ের ছোঁয়া ছিল সেই উৎসবেও। তবুও মাটির মঞ্চে অগ্রাণের পাকা ধানের গন্ধে ভিন্ন রকম প্রকৃতির মায়াবী বাতাস লেগেছিল উৎসবের পালে।


মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ঘোড়ামারা গ্রাম। ভানুগাছ রেলস্টেশন থেকে আদমপুর সড়কে সিএনজিতে পথ চলতে চলতে হঠাৎ চোখে পড়বে ছোট্ট সাইনবোর্ড ‘মণিপুরি থিয়েটার সরণী’। এই পথ দিয়ে ধানক্ষেতের আইল ধরে মিনিট পাঁচেক হেঁটে গেলেই দেখা মিলবে টিনের চাল, বাঁশের বেড়া এবং মাটির মঞ্চের অদ্ভুত সুন্দর একটি মিলনায়তন। এই মিলনায়তনটিই মণিপুরি থিয়েটারের স্টুডিও ‘নটমণ্ডপ’। ধানক্ষেতের পাশে মিলনায়তনটি পুরো নভেম্বর মাসজুড়ে মেতেছিল উৎসবে। মণিপুরি থিয়েটার আয়োজন করেছিল মাসব্যাপি নাট্যমেলা। প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিশ্ব তোমায় বাঁধবো এবার আপন অঞ্চলে’। অগ্রাণের পাকা ধানের ঘ্রাণ আর মঞ্চে বাংলাদেশের বিখ্যাত নাটকের প্রদর্শনী। সব মিলিয়ে ঘোড়ামারা গ্রাম জেগেছিলো প্রাণের সম্মিলনে। ঢাকার আলোচিত নাটক ‘বিনোদিনী’, ‘গোলাপজান’, ‘মুক্তি’, ‘সার্কাস সার্কাস’, ‘নাম গোত্রহীন’র প্রদর্শনী হয়েছে ঘোড়ামারা গ্রামের এই নটমণ্ডপে। একই সঙ্গে ছিল মণিপুরি থিয়েটারের ৫টি দর্শক নন্দিত নাটকের প্রদর্শনী। নগরকে গ্রামে টেনে এনেছিল এই নাট্যমেলা। সময়ের কড়াল গ্রাসে সব কিছুই যখন রাজধানীমুখি, ভালো কোনো নাটক দেখতে সবাইকে যখন ছুটতে হয় ঢাকার দিকে, মণিপুরি থিয়েটার তখন রাজধানীকে এনেছে ঘোড়ামারা গ্রামে। ঢাকার মঞ্চের আলোচিত ৬টি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে গ্রামের দর্শকের সামনে। প্রকৃতির ছায়াতলে মিলেছিল নগর আর গ্রাম। রাজধানী ও প্রান্তের এই সাংস্কৃতিক সম্মিলন বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই নাট্যমেলাকে ঘিরে প্রায় দুই শতাধিক নাট্যকর্মী-দর্শক প্রথমবার গিয়েছিলেন ঘোড়ামারা গ্রামে। ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে এসেছিল নাট্যকলার শিক্ষার্থীরা। সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গলের নাট্যকর্মীরা তো ছিল প্রতিটি প্রদর্শনীতে। আর ঢাকা থেকে শুধুমাত্র নটমণ্ডপে নাটক দেখতেই গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন দর্শক। ঘোড়ামারা গ্রামের নিয়মিত নাট্যমোদি দর্শক তো ছিলেনই। সব মিলিয়ে নাট্যকর্মী-দর্শকের প্রাণের সম্মিলন ঘটেছিল ঘোড়ামারা গ্রামের প্রকৃতিলগ্ন নটমণ্ডপে।


দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ গত ২৭ অক্টোবর এই নাট্যমেলা উদ্বোধন করেন। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে মিলনায়তনে পৌঁছান নাসির উদ্দিন ইউসুফ। রাতের আঁধারে মণিপুরি থিয়েটারের ‘নটমণ্ডপ’ দেখার পর যেন প্রাণের ছোঁয়া পান তিনি। আগেই জানিয়েছিলেন অনুষ্ঠানের পর সে রাতেই মৌলভীবাজার যাবেন অন্য একটি কাজে। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরবেন। কিন্তু মণিপুরি থিয়েটারের আতিথিয়তা আর মাটির মঞ্চে যেন প্রাণের যাদু। পর দিন (২৮ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের কাজ শেষ করে ঢাকায় না ফিরে আবারো এলেন নাট্যমেলায়। এদিন তারই নির্দেশিত নাটক ‘বিনোদিনী’ মঞ্চস্থ হয় নটমণ্ডপে। দর্শক সারির পেছনের দিকে বসে দেখলেন নিজের নির্দেশিত নাটক ‘বিনোদিনী’।  প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর অনেকটা সময় বসে থাকলেন মাটির মঞ্চের উপর। এ যেন প্রাণের টান। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘মণিপুরি থিয়েটার তাদের মতো করে চমৎকার একটি মঞ্চ বানিয়েছে। মাটির মঞ্চ, বাঁশের বেড়া। এটি বাংলা থিয়েটারের উদাহারণ হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে।’

এর আগে ২৭ অক্টোবর উৎসবের উদ্বোধনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় মণিপুরি থিয়েটারের সাড়া জাগানো নাটক ‘কহে বীরাঙ্গনা’। মাইকেল মধুসূদন দত্তের বীরাঙ্গনা কাব্যের মঞ্চভ্রমণ তো নগরের নাট্যমোদিদের জন্যই দুর্বোধ্য। এমন একটি ক্লাসিক নাট্যপ্রযোজনা ঘোড়ামারা গ্রামের নাট্যদর্শক একাধিকবার দেখেছেন। মাটির মেঝেতে বসে মাইকেলের বীরাঙ্গনা কাব্যের মঞ্চভ্রমণ পিনপতন নীরবতায় আবারো দেখলেন ঘোড়ামারা গ্রামের দর্শক। এ যেন বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের বিরল ঘটনা।

উৎসবের দ্বিতীয় সপ্তাহে (৪ নভেম্বর) নাটক মঞ্চস্থ করে ঢাকার অন্যতম নাট্যসংগঠন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়। এদিন কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে গল্প’ অবলম্বনে আনন জামানের লেখা ‘নীলাখ্যান’ নাটকটি মঞ্চস্থ করে মহাকাল। এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান অর্ক। নটম-পে নাটক দেখতেই এদিন ঢাকা থেকে গিয়েছিলেন পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস। একই সন্ধ্যায় ঢাকার আরো দুই সাংবাদিককে পাওয়া গেলো নাট্যমেলায়। সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক দীপন নন্দী এবং অনলাইন পোর্টাল দ্য রিপোর্টের সাংবাদিক মুহম্মদ আকবর ঢাকা থেকে নাটক দেখতে গিয়েছিলেন নটমণ্ডপে। পরদিন (৫ নভেম্বর) মঞ্চস্থ হয় মণিপুরি থিয়েটারের নাটক ‘লেইমা’। ফেদারিকো গারসিয়া লোরকার কাব্যনাটক ‘ইয়ের্মা’ থেকে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষায় ‘লেইমা’ শিরোনামে রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা। এক বন্ধ্যা নারীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটকে কেন্দ্র করে ‘লেইমা’র কাহিনী গড়ে উঠেছে। দেড় ঘণ্টার সময়ব্যাপ্তির নাটক ‘লেইমা’। এতে লেইমার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জ্যোতি সিনহা। আরও অভিনয় করেছেন, সুরজিৎ সিংহ, বিধান সিংহ, সুশান্ত সিংহ, স্মৃতি সিনহা, শ্যামলী সিনহা, সুজলা সিনহা, শ্রাবণী সিনহা, অরুণা সিনহা, উজ্জ্বল সিংহ, দীপু সিংহ, সমরজিৎ সিংহ, অনিমেষ সিংহ। সঙ্গীতে রয়েছেন শর্মিলা সিনহা। বাদ্যে বাবুচান সিংহ, সুশান্ত সিংহ ও অঞ্জনা সিনহা।

থিয়েটার (নাটক স্মরণী) ১১ নভেম্বর মঞ্চস্থ করে ‘মুক্তি’। আমেরিকান নাট্যকার লি ব্লেসিংয়ের ‘দি ইনডিপেন্ডেন্স’ অবলম্বনে নাটকটির ভাষান্তর করেছেন মিজারুল কায়েস। নির্দেশনা দিয়েছেন ত্রপা মজুমদার। নাটকটির মূল চরিত্র মা। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন তামান্না ইসলাম, তানজুম আরা পল্লী ও তানভিন সুইটি। বরেণ্য নাট্যব্যাক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এদিন সন্ধ্যায় দর্শক সারিতে বসে নাটক দেখেন।  রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘গ্রামে এমন সুন্দর মিলনায়তন আর অসাধারণ দর্শক! অসাধারণ! মণিপুরি থিয়েটার এখন দেশের নাট্যাঙ্গনের বড় সম্পদ। এভাবে পুরো গ্রাম, থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত এটা দেখতে হলে ঘোড়ামারা গ্রামে আসতে হবে।’

পরদিন (১২ নভেম্বর) মণিপুরি থিয়েটার মঞ্চস্থ করে ‘শ্রী কৃষ্ণকীর্তন’। মূল রচনা বড়ু চণ্ডীদাস, রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা। এতে রাধা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতি সিনহা, কৃষ্ণ চরিত্রে স্মৃৃতি সিনহা, বড়াই চরিত্রে অরুণা সিনহা। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুজলা সিনহা, শুক্লা রানী সিনহা, শ্রাবণী সিনহা, প্রিয়াংকা সিনহা ও শ্যামলী সিনহা। নেপথ্য কুশিলবদের মধ্যে রয়েছেন- সঙ্গীতে শর্মিলা সিনহা, বাদ্যে বিধান চন্দ্র সিংহ, উজ্জ্বল সিংহ, সুশান্ত সিংহ ও অঞ্জনা সিনহা।

থিয়েটার আর্ট ইউনিট ১৮ নভেম্বর মঞ্চস্থ করে নাটক ‘গোলাপজান’। মোহাম্মদ আবু তাহেরের ছোটগল্প ‘গোলাপজানের অশ্বারোহন’ অবলম্বনে এর নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব এস এম সোলায়মান। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন রোকেয়া রফিক বেবী। আরও অভিনয় করেন- সেলিম মাহবুব, প্রশান্ত হালদার, চন্দন রেজা, সাইফ সুমন, কামরুজ্জামান মিল্লাত, রেজাউল আমীন সুজন, সাথী রঞ্জন দে, স্বাধীন শাহ, হাসনাত প্রদীপ, আনিকা মাহিন, অরুণা সিনহা প্রমুখ। ‘গোলাপজান’ আদি ঢাকার জীবন-জীবিকার স্মৃতিময় উচ্চারণ। ৬৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আদি ঢাকার এক সাধারণ নারী গোলাপজান পরম মমতার সঙ্গে বর্ণনা করেছেন তার শৈশব-কৈশোর, যৌবন থেকে পৌঢ়ত্বে পৌঁছার সংগ্রামী কাহিনি। বিশ শতকের মধ্যভাগে রাজধানী ঢাকা শহরের শ্রমজীবী একজন নারীর ধনবাদী সমাজ ব্যবস্থা বিকাশের ধারায় ক্রমাগত সংগ্রামী হয়ে ওঠার কাহিনি ‘গোলাপজান’। নাটকটির মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন কামালউদ্দিন কবির, আলোক পরিকল্পনায় ঠাণ্ডু রায়হান, সঙ্গীত তত্ত্বাবধানে সেলিম মাহবুব এবং নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন এস এম সোলায়মান, মোহাম্মদ বারী, নুরুজ্জামান বাবু, মাহফুজ সুমন। আলোক নিয়ন্ত্রণে আবু সুফিয়ান বিপ্লব।

পরদিন (১৯ নভেম্বর) মণিপুরি থিয়েটার মঞ্চস্থ করে ‘ইঙাল আঁধার পালা’। প্রেম সিংহ নামের এক মণিপুরি মৃদঙ্গ-বাদকের করুণ গল্প নিয়ে নাটকটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। মণিপুরি থিয়েটারের একমাত্র দ্বিভাষিক নাটক এটি (বাংলা ও মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষায়)। রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা। অভিনয় করেন-জ্যোতি সিনহা, স্মৃতি সিনহা, শুকলা সিনহা, রাখী সিনহা, সুনীল সিংহ, সুশান্ত সিংহ, উজ্জ্বল সিংহ, বিধান সিংহ, দিপু সিংহ ও সমরজিৎ সিংহ। সঙ্গীতে রয়েছেন শর্মিলা সিনহা। বাদ্যে রয়েছেন বাবুচাঁন সিংহ।

নাট্যমেলার শেষ সপ্তাহে ছিল তিনটি নাটক। এর মধ্যে ২৪ নভেম্বর মঞ্চস্থ হয় মণিপুরি থিয়েটার প্রযোজনা ‘দেবতার গ্রাস’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে মণিপুরি থিয়েটারের এই প্রযোজনাটির সুর সংযোজনা, দৃশ্য পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা। নাটকটিতে অভিনয় করেন- জ্যোতি সিনহা, স্মৃতি সিনহা, শুক্লা রানী সিনহা, সুশান্ত সিংহ টুটুল, উজ্জ্বল সিংহ, প্রিয়াংকা সিনহা, শ্রাবণী সিনহা, সুজলা সিনহা, অরুণা সিনহা, সমরজিৎ সিংহ। সঙ্গীতে ছিলেন- শর্মিলা সিনহা। বাদ্যে সুশান্ত সিংহ, মুক্তিনাথ কৈরী, অঞ্জনা সিনহা, আলোক পরিকল্পনা সুদীপ চক্রবর্তী, পোশাক পরিকল্পনা জ্যোতি সিনহা, সেট পরিকল্পনা আলী আহমেদ মুকুল ও সজল কান্তি সিংহ।

পরদিন ২৫ নভেম্বর ঢাকার অন্যতম নাট্যদল প্রাচ্যনাট মঞ্চস্থ করে ‘সার্কাস সার্কাস’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম। অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম,  রাহুল আনন্দ, সাখাওয়াত হোসেন রিজভী, শাহেদ আলী সুজন, শতাব্দী ওয়াদুদ, ঋতু সাত্তার, জাহাঙ্গীর আলম, সানজিদা প্রীতি, পারভীন কলি, মিজানুর রহমান মিতুল প্রমুখ। এই নাটকের নেপথ্য শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন- মঞ্চ, আলো, মুখোশ পরিকল্পনা মো. সাইফুল ইসলাম, মঞ্চ সহযোগী ও সহকারী নির্দেশনা- জাহাঙ্গীর আলম, শতাব্দী ওয়াদুদ, সঞ্জীবন শিকদার। পোশাক পরিকল্পনা তৌফিকুল ইসলাম ইমন। সংগীত পরিকল্পনা- রাহুল আনন্দ।

উৎসবের সমাপনী (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় মঞ্চস্থ করে নাটক ‘নাম গোত্রহীন’। পাকিস্তানি লেখক সাদাত হাসান মান্টো’র তিনটি ছোটগল্প নিয়ে পাণ্ডুলিপি তৈরির পাশাপাশি নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন কলকাতার প্রখ্যাত নাট্যজন ঊষা গাঙ্গুলী। অভিনয় করেছেন- সারা যাকের, রুনা খান, পান্থ শাহরিয়ার, শ্রিয়া সর্বজয়া, মুস্তাফিজ শাহিন, সাইমা করিম প্রমুখ।


কুড়ি বছর আগে হৃৎপারানির ঘাটে স্বপ্নতরী ভাসিয়েছিল ‘মণিপুরি থিয়েটার’। হেমন্তের সন্ধ্যায় কুপি জ্বালিয়ে একদিন নাটকের দুঃসাহসিক অভিযাত্রায় নেমেছিল ঘোড়ামারা গ্রামের কিছু তরুণ। যার নেতৃত্বে ছিলেন কলেজ পড়ুয়া কবি শুভাশিস সিনহা।  এরপর নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সৃজনে-নন্দনে পেরিয়ে এসেছে দুই দশকের পথ। নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠার ২০ বছর উদযাপন করছে ‘মণিপুরি থিয়েটার’। ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০ বছরের পথচলা পূর্ণ করেছে দলটি। এই আনন্দকে সঙ্গী করেই গত ২৭ অক্টোবর থেকে ২৬ নভেম্বর মাসব্যাপি নাট্যমেলা আয়োজন করেছিল দেশের অন্যতম নাট্যদল ‘মণিপুরি থিয়েটার’। কুড়ি বছরের সৃজনকর্মে ঘোড়ামারা গ্রামের এই নাট্যদলটি দেশের নাট্যাঙ্গনে তার কর্মচিহ্ন এঁকে দিতে সক্ষম হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের প্রথম সারির নাট্যদল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে নিয়েছে। কুড়ি বছরের পথ পেরিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন তো এখন দেখছেই শুভাশিস সিনহা ও তার সহযাত্রীরা। পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের প্রভাবে সবকিছু যখন রাজধানীর খোলসে আটকে যাচ্ছে, তখন রাজধানীর বৃত্ত ভেঙে সুদূর ঘোড়ামারা গ্রামে বসে বিশ্বকে আপন অঞ্চলে বাঁধার স্বপ্ন তো দুঃসাহসিক অভিযাত্রাই। সেই অভিযাত্রা অব্যাহত রেখেছে মণিপুরি থিয়েটার তার সৃজনকর্মে। দুই দশক পেরিয়ে এসে এই নাট্যমেলা ছিল আগামিতে আরো নতুন সৃজনযাত্রার শক্তি সঞ্চয়। ঘোড়ামারা গ্রাম থেকে রাজধানী জয়ের কাব্য তো লেখা হয়েছে অনেক আগেই। এবার বিশ্বজয়ের মহাকাব্য লিখতে শুরু করেছে ‘মণিপুরি থিয়েটার’। কুড়ি বছরের সৃজনযাত্রায় তার সূচনাও কিন্তু হয়ে গেছে।

পাভেল রহমান: সদস্য- থিয়েটার আর্ট ইউনিট