Bookmaker Bet365.com Bonus The best odds.

Full premium theme for CMS

রাজশাহীর নাট্যচর্চা ও বর্তমান হালচাল

Written by আরিফ হায়দার.

Блогът Web EKM Blog очаквайте скоро..

রাজশাহীর নাট্যচর্চা নিয়ে এখানকার সংস্কৃতিমনা মানুষেরা অবশ্যই গর্ব করতে পারে। বর্তমানের নাট্যাঙ্গনের কথা বলতে গেলে অতীতে একবার ঘুরে আসতেই হয়। অতীত সবসময় বর্তমানকে শক্তি জোগায়, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। ভারতবর্ষের নাট্যচর্চা এবং তৎপরবর্তী পাকিস্তান পর্বের নাট্যচর্চার পর স্বাধীন বাংলাদেশের নাট্যচর্চা রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অন্য এক রূপ ধারণ করে। যাঁরা এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই আজ বেঁচে নেই। কিন্তু বেঁচে আছে তাঁদের সৃষ্টি।

রাজশাহী নাট্যাঙ্গনের শরীরে যখন নানা রোগের বাসা বাঁধতে আরম্ভ করলো, তখন কয়েকজন মানুষ অসীম-সাহসে হাল ধরলো এবং একটি নামের জন্ম দিলো ‘রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘ’। এই সংঘে জড়িত ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম, মো. আমানুল্লাহ আহম্মদ, আনল বন্ধু রায় (লাড়ু বাবু), মাস্টার তফাজ্জেল হোসেন, অজিত ভট্টাচার্য, মো. শফি উদ্দিন, গোলাম রাব্বানী, মোসলেম উদ্দিন, তালেবর আলী, পূর্ণী মির্জা, হারুনর রশিদ ছানা, আব্দুর রশিদ, নূর আহাম্মদ ও বদিউল আলম ভুলু। আর বর্তমানে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা হলেন- প্রফেসর রহমত আলী, প্রফেসর ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আমিরুজ্জামান, ডা. আফজালুর রহমান সিদ্দিকী, রফিকুল হাসান ফিরোজ, মৃন্ময়কান্ত দাস, ডা. চিন্ময় কান্তি দাস, আনিসুর রহমান, মামুনু-উর-রশিদ মুকুল, আব্দুর রউফসহ আরো অনেকে।

রাজশাহী শহরভিত্তিক নাট্যচর্চার মধ্যে ‘রাজশাহী থিয়েটার’ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ১৯৯৮ সালে এই দলটির জন্ম। এখন পর্যন্ত ২০ টির মতো মঞ্চনাটক ও ১৫ টির মতো পথনাটক প্রযোজনা করেছে। রাজশাহী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে নাট্যচর্চা শুরু হয়েছিল। সেসব নাট্যচর্চার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িত ছিলেন। তারই সূত্র ধরে বর্তমানে কয়েকটি নাট্য-সংগঠন কাজ করছে। এর মধ্যে ‘অনুশীলন নাট্যদল’, ‘সমকাল নাট্যচক্র’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ড্রামা এসোসিয়েশন’ (রুডা), ‘উদীচী’ (বিশ্ববিদ্যালয় শাখা), ‘বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার, রাজশাহী’, ‘তির্যক নাট্যদল’-ও নিয়মিত-অনিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। রাজশাহীর নাট্যাঙ্গনের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নাট্যকলা বিভাগ’ সৃষ্টি।

‘নাট্য আন্দোলন সমাজ পরিবর্তন আন্দোলনের একটি অংশ’ স্লোগান নিয়ে ৮ অক্টোবর ১৯৭৯ সালে জন্ম হয় ‘অনুশীলন ঊনাশি’। পরবর্তী সময়ে ‘অনুশীলন নাট্যদল’ নাম নিয়ে এর কাজ আজও অব্যাহত আছে। গত ৩৯ বছর নিরন্তর আলো খোঁজা আর আলো হয়ে ওঠার এক অবিরাম প্রচেষ্টায় ব্রত ‘অনুশীলন নাট্যদল’। পঞ্চাশধিক প্রযোজনায় সমৃদ্ধ দলটির সাম্প্রতিক প্রযোজনা ‘ম্যাওসংকেত্তন’, রচনা-নির্দেশনা মলয় ভৌমিক। প্রতিবছর নতুন নতুন ছেলে-মেয়ে আসে, অভিনয় করে, দলের কর্ণধার মলয় ভৌমিক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অভিনয়টা শেখান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকে গেলো তো, নাট্যচর্চাও শেষ হলো। আবার নতুন ছাত্র-ছাত্রী, আবার নতুন করে চেষ্টা। এভাবেই এগিয়ে চলছে ‘অনুশীলন নাট্যদল’। তবে আশার কথা এই, এদের সবাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকে যাওয়ার পর নাট্যচর্চায় ইতি টেনেছে তা নয়। এদের অনেকেই এখন সৃজনশীল অভিনেতা-নির্দেশক-নাট্যকার-ডিজাইনার হিসেবে নানান দলে কাজ করে চলেছে।

‘অনুশীলন নাট্যদল’ কেবল মঞ্চের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পথনাটকও তাদের প্রাণের-রক্তের কোষে কোষে প্রবাহিত। রাষ্ট্রের সংকটকালে এই দল সবার আগে পথে নেমে এসেছে সত্যভাষণ নিয়ে। তার জন্য পোহাতে হয়েছে অনেক যন্ত্রণাও। দলটির পথনাটকের সংখ্যা ৪০ টারও বেশি। নিখিল কুণ্ডু রচিত ‘যদি আমরা সবাই’ নাটকটি দিয়ে শুরু হয় এর পথনাটকের যাত্রা। তারপর একের পর এক নাটক করতে থাকে পথে পথে। ‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল’, ‘বাসন’, ‘খেলা’, ‘হট্টমালার ওপারে’, ‘নীলা’, ‘ঐ আসে’, ‘সুনাগরিকের সন্ধানে’, ‘এন্তার নেট’, ‘ভূতের গল্পো’, ‘মনিমুক্তা’ ইত্যাদি পথনাটকের বহু প্রদর্শনী করেছে দলটি।

‘অনুশীলন নাট্যদল’ যেসব মঞ্চনাটক সফলতার সাথে প্রযোজনা করেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-  ‘ওরা কদম আলী’, ‘ইবলিশ’, ‘মিছিল’, ‘বিরসা কাব্য’, ‘ভূঁই’, ‘শত গ্রন্থি’, ‘ম্যাওসংকেত্তন’, ‘বহে প্রান্তজন’, ‘ভূমিকন্যা’। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নাট্যদলের এতবড় কাজের তালিকা সত্যিই গর্বের বিষয়।

১৯৮১ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ‘সমকাল নাট্যচক্র’। ১৯৮১ সালের ২৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্ত্বরে ‘নাটক শাণিত হচ্ছে, শোষকেরা সাবধান’- স্লোগান নিয়ে এর যাত্রা শুরু। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ টির বেশি নাটক মঞ্চস্থ করেছে ‘সমকাল নাট্যচক্র’। উল্লেখযোগ্য নাটক হচ্ছে- ‘অবরুদ্ধ ইতিহাস’, ‘ক্ষাপা পাগলার প্যাঁচাল’, ‘দেবতার ভয়’ ‘রক্তবীজের বংশধর’, ‘হারানের নাত জামাই’, ‘স্ফিংস’, ‘দড়ির খেলা’ ইত্যাদি। মঞ্চনাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘তথাপি সূর্য আসে’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘চক্রব্যূহ’, ‘শুরু করি ভূমির নামে’- ইত্যাদি।

‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ড্রামা এসোসিয়েশন’ (রুডা) আত্মপ্রকাশ করে ১৯৮৩ সালের ৬ জুন। নাটকের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সন্ত্রাস, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা নিয়ে রুডার পথ চলা। রুড়া পথ নাটক, মঞ্চ নাটক ছাড়াও রেডিও নাটকও করে আসছে নিয়মিত-অনিয়িমতভাবে। পথ-মঞ্চ-রেডিও নাটকের সংখ্যা প্রায় ৪০ টি। পথনাটকের মধ্যে- ‘ক্ষুদিরামের দেশে’, ‘ফেরারী নিশান’, ‘বিবিসাব’, ‘বর্ণচোরা’, ‘আমাদের জন্ম হলো’, ‘চোখে আঙ্গুল দাদা’, ‘পান্তা আকালী’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও ‘বাসন’, ‘আয়নায় বন্ধুর মুখ’, ‘বিচ্ছু’, ‘দর্পণ’, ‘কোর্ট মার্শাল’-এর মতো নাটক যেকোনো দলের জন্যই ঈর্ষা জাগানিয়া মঞ্চ-প্রযোজনা। রেডিও নাটক হিসেবে করেছে ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’। দুঃখজনকভাবে সম্প্রতি রুডার মঞ্চপ্রযোজনা নেই বললেই চলে।

‘বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার, রাজশাহী’র আগমন ঘটে ১৯৯০ সালে ৩ জুন। এই দলের কর্ণধার হিসেবে শাহ আলম শান্তনু এখন পর্যন্ত হাল ধরে আছেন। দলটি নিয়মিতভাবে কাজ করেছে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। তারপর কিছুটা ঢিমেতালে চললেও বর্তমানে নতুন প্রযোজনা নিয়ে এসেছে মঞ্চে- ‘খোয়াব’। দলটির অন্যান্য প্রযোজনার মধ্যে আছে- ‘ইংগিত’, ‘চিলেকোঠা’, ‘রথের রশি’- ইত্যাদি।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় নাট্যদলের মধ্যে ‘তির্যক নাট্যদল’, ‘উদীচী’ নাট্যচর্চা করছে নিয়মিত-অনিয়মিতভাবে। অন্যদিকে নিয়মিতভাবে আবৃত্তিচর্চা করে চলেছে ‘স্বনন’। রাজশাহীতে বর্তমানে নাট্যচর্চা করা রীতিমতো একটা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে- একদিকে একরোখা পরিবেশ, অন্যদিকে চাপা রাজনৈতিক অস্থিরতা। তারপরও, এই অস্থিরতাকে উপেক্ষা করেই কাজ করে যাচ্ছে রাজশাহীর নাট্যদলগুলো।

২০১৭ সালের শেষ দিকে ‘রাজশাহী থিয়েটার’ শত বাধার মধ্যেও নাট্যোৎসব করলো। এক’পা দু’পা করে এখন অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছে দলটি। রাজশাহী শহরে দু’একটি দলের মধ্যে এখনো এই দলটিই কিছু কাজ করার চেষ্টা করছে। এই দলের মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে- ‘তেঁতুল খেয়া’, ‘ঘটনা ও কাহিনী’, ‘বিদ্যালংকার’, ‘সেনের খিলের তালুকদার’, ‘সাত পুরুষের ঋণ’,‘গৈ গেরামের পালা’- ইত্যাদি। পথনাটকের মধ্যে- ‘ইঁদুর’, ‘আমরা বাঁচতে চাই’,‘এখনো বাতাসে লাশের গন্ধ’, ‘আওরঙ্গজেব’- ইত্যাদি।

এ পর্যন্ত নানান দলের অনেক প্রযোজনার কথা উল্লেখ করা হলো। সময়ের সাথে যুদ্ধ করে নাট্যকর্মীরা মঞ্চে নাটক নিয়ে এসেছিল। এখনো থিয়েটার নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে রাজশাহীর নাট্যকর্মী ও নাট্যদলগুলো। রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এই শহরের অনেক ঐতিহ্য এখন নিছক গল্প বলে মনে হবে। ভেবে বিস্মিত হই, এই শহরে থিয়েটার করার জন্য কোনো মঞ্চ নেই। যে মঞ্চ আছে তা শুধু নামে মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন’, যেখানে থিয়েটারটা ঠিকভাবে করা যায় না। সেখানে হতে পারে ছাত্র-ছাত্রী সমাবেশ। মিছিল শেষে বক্তৃতা দেয়ার জায়গা। তবুও চোখ কান বন্ধ করে, সব সহ্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যদলগুলো নাটক করে যাচ্ছে।

সাংস্কৃতিক দলগুলো বহুবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছে, অন্তত টি.এস.সিতে একটা উপযুক্ত মঞ্চ তৈরি করে এর অবসান ঘটানো হোক। অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সিতে একটা মিলনায়তন করা হয়েছে বটে কিন্তু নাটক করার মতো মঞ্চ সেটা হয় নি। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নাট্যকলা বিভাগ মাথা উঁচু করে নাটকের লেখাপড়া করিয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী শহরে মঞ্চ বলতে ‘পদ্মা মঞ্চ’ বলেই সবাই জানে। কিন্তু সেখানে নাটক মঞ্চায়ন দূরের কথা, বসে আড্ডা মারাও দায় হয়ে যায়। মঞ্চ ভেঙ্গে গেছে, স্যাঁত-স্যাঁতে অবস্থা, ছাদটা কখন খুলে পড়ে- মনে এই আশঙ্কা সদা-জাগ্রত। এর মধ্যেও নাট্যদলগুলো কালেভদ্রে নাটক করছে, ধরে নিচ্ছে- ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’। অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে একটি অডিটরিয়াম আছে, সেখানে নাট্যদলগুলো নাটক করে ঠিকই, কিন্তু সেটিও অর্থনৈতিকভাবে অনুকূল নয়- আকাশ ছোঁয়া ভাড়া।

রাজশাহীর নাট্যকর্মী-সাংস্কৃতিককর্মীদের মূল আক্ষেপ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির উপর। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে মঞ্চ যেনো থেকেও নেই। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চের পুনর্নির্মাণ কাজ চলছে। এর শেষ কবে হবে, তার কোনো সঠিক সময়সীমা নেই। বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তা নাটক করার মতো নয়। রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে কোনো উত্তর মেলে না। সত্যি বলতে এই মঞ্চটাকে যদি সঠিকভাবে নির্মাণ করে নাটক মঞ্চায়নের উপযোগী করা হয়, তাহলে রাজশাহীর সাংস্কৃতিকচর্চার মান সত্যিই অনন্য রূপ নেবে বলে সবার বিশ্বাস।

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের টানাপেড়েনের মধ্যেও রাজশাহীর নাট্যকর্মীরা তাদের দল নিয়ে নাট্যচর্চা করে চলেছে। সেই চলার পথ ধরে যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে নাট্যকলা বিভাগ থাকে, তখন রাষ্ট্রের দায়ভার কি আরো বেড়ে যায় না? তাই রাজশাহীর সংস্কৃতিচর্চার দিকে সরকারের দৃষ্টি দেয়া অপরিহার্য বলে মনে হয়। আশা করি সরকারও সেটা বোঝে। আর বোঝে বলেই, শত বাধার মধ্যেও নাটক-নাট্যোৎসব করছে রাজশাহীর নাটকের মানুষেরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ ১৮ বছর পার করতে চলেছে। এই ১৮ বছরের মধ্যে বিভাগীয় একটি নাট্যোৎসব আর দুইবার বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী নাট্যোৎসব করলো। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো  বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগসহ বেশ কয়েকটি গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানভুক্ত নাট্যদল এবং ভারতের কয়েকটি নাট্যদল। তারপর, এবার, ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ থেকে বের হওয়া যে-সকল নির্দেশক বর্তমানে বিভিন্ন নাট্যদলের সাথে নির্দেশনা দিচ্ছে তাদের কাজসহ ভারতের কয়েকটি নাট্যদলের প্রযোজনা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের আয়োজন এবং ভারতীয় হাই কমিশনের আর্থিক সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজন হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ‘মিলি মৈত্রীবন্ধনে গড়ি সংস্কৃতির সেতু’ এই শিরোনামে প্রথম উৎসবে অংশগ্রহণ করে- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ প্রযোজনা ‘টিনের তলোয়ার’, কলকাতার (ভারত) সুন্দরম প্রযোজনা ‘জাদুবংশ’, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগের প্রযোজনা ‘তাসের দেশ’, ঢাকার নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর প্রযোজনা ‘আওরঙ্গজেব’, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগ প্রযোজনা ‘শ্যাম বাঙালি’ (যাত্রাপালা), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রযোজনা ‘আমি মাধবী’, ঢাকার নাট্যদল দৃশ্যপট প্রযোজনা ‘সক্রেটিসের জবানবন্দী’, কলকাতা-ভারতের নাট্যদল কালিন্দী ব্রাত্যজন প্রযোজনা ‘রুদ্ধসংগীত’। দ্বিতীয়বারের অর্থাৎ ২০১৮ সালের উৎসবে অংশগ্রহণ করে- কলকাতা ভারতের শ্রুতি পারফরমিং ট্রুপের প্রযোজনা ‘জয় জয় ভানু জয় জয়দেব’, ঢাকার নাট্যদল বটতলা প্রযোজনা ‘খনা’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক বিভাগের প্রযোজনা ‘গণনায়ক’, বাংলাদেশের পুতুল নাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযোজনা ‘পুতুল নাট্য’, চট্টগ্রামের নাট্যদল উত্তরাধিকার প্রযোজনা ‘সাম্পান নাইয়া’, ঢাকার নাট্যদল সুবচন নাট্য সংসদ  প্রযোজনা ‘মহাজনের নাও’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যদল অনুশীলন নাট্যদল প্রযোজনা ‘ম্যাওসংকেত্তন’, কলকাতা ভারতের নাট্যদল অশোক নগর নাট্যমুখ প্রযোজনা ‘রাত বিরেতের রক্ত পিশাচ’, ঢাকার নাট্যদল ঢাকা থিয়েটার প্রযোজনা ‘বিনোদিনী’, ঢাকার নাট্যদল লোক নাট্যদল (সিদ্ধেশ্বরী) প্রযোজনা ‘কুঞ্জুস’, ঢাকার নাট্যদল প্রাচ্যনাট প্রযোজনা ‘সার্কাস সাকার্স’, সিলেটের নাট্যদল মণিপুরি থিয়েটার প্রযোজনা ‘কহে বীরাঙ্গনা’ এবং কলকাতা ভারতের লোককৃষ্টি নাট্যদল প্রযোজনা ‘মিসফিট’।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’দুবারের মতো এমন উৎসব করা সম্ভব হয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সহযোগিতার কারণেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে। আর এই উৎসবে ভূমিকা রেখেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। সাধুবাদ নাট্যকলা বিভাগকে এমন উৎসব আয়োজন করার জন্য। আমার জানামতে, বাংলাদেশে যে ক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগ আছে, তাদের কোনোটিতেই এমন উৎসবের উদ্যোগ দেখা যায় নি।

সুখ-দুঃখ, আলো-আঁধার, সব বন্ধু হয়ে পাশাপাশি থেকে সাহস হয়ে উঠুক রাজশাহীর নাট্যদুয়ারে। আলোকিত হোক নাটকের টানে, বাজুক মাদল তালে তালে।

আরিফ হায়দার ( This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. ): নাট্যকার-নির্দেশক। সহকারী অধ্যাপক, নাট্যকলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।