সাম্প্রতিক মঞ্চনাটকের বিষয়-আশয়

Written by হাসান শাহরিয়ার.

স ম্পা দ কী য়

‘সাম্প্রতিক সময়’ আসলে কোন সময় থেকে ধরা যেতে পারে!
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মঞ্চনাটক যখন নিয়মিত চর্চার একটা শিল্প-মাধ্যম হয়ে ওঠে- তখন বছরান্তেই মনে হতো যেনো তীব্রগতিতে ছুটে চলেছে মঞ্চনাট্যচর্চা। সত্তরের দশকেই প্রবলভাবে ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোতে নিজের শক্ত-স্বচ্ছ অবস্থানের জানান দেয় মঞ্চনাটক। পরবর্তী সময়ে, অন্তত নব্বই দশকের শুরু পর্যন্ত, যেসব নাট্যকার মঞ্চ-অধিপতি ছিলেন, তাঁরা সবাই সত্তর বা আশির দশকের শুরুতেই নাট্যরচনায় নিজেদের অবস্থান সফলভাবে পাকাপোক্ত করেছিলেন। সৈয়দ শামসুল হক, আবদুল্লাহ আল-মামুন, মমতাজউদদীন আহমদ, মামুনুর রশীদ, সেলিম আল দীন, এস এম সোলায়মান, আব্দুল্লাহেল মাহমুদ, মান্নান হীরাসহ অনেকের নামই এখানে উল্লেখ করা যায়। এছাড়াও স্বাধীনতা-পূর্বের কয়েকজন নাট্যকার ও অনেক বিদেশি নাট্যকারও পরিচিত হন ঐ সময় থেকেই।

আমাদের সৈয়দ হক

Written by আহমাদ মোস্তফা কামাল.

প্রায় দেড়যুগ আগে সৈয়দ শামসুল হকের জন্মদিবসকে সামনে রেখে একটা গদ্য লিখেছিলাম ‘এক উজ্জ্বল যতিচিহ্ন’ শিরোনামে, মনে পড়ে। তার অনেক আগে থেকেই আমি তাঁর মুগ্ধ পাঠক, আর তখন আমি তরুণ এক লেখক, তাঁকে উজ্জ্বল যতিচিহ্ন বলে অভিহিত করতে পেরে সুখী বোধ করেছিলাম। এ এমন এক যতিচিহ্ন যার সামনে সাহিত্যের পাঠকদের মুগ্ধ বিস্ময়ে একবার হলেও দাঁড়াতে হয়।  আজ নতুন করে লিখতে বসে অনুভব করছি, এতদিন পরও তাঁর সম্পর্কে আমার মতামত একইরকম রয়ে গেছে। মতামত বদলায়নি বটে, তবে এরপরও আমি তাঁকে আবিষ্কার করতে চেয়েছি বারবার এবং তাঁর রচনাগুলো আমাকে বিমুখ করেনি কখনো, একেক সময় একেক অর্থ নিয়ে ধরা দিয়েছে- নতুনতর অর্থ, ভিন্নরকম ব্যাখ্যা নিয়ে।

তোমাকে অভিবাদন

Written by সাক্ষাৎকার- আলফ্রেড খোকন.

[প্রথমে স্বেচ্ছা নির্বাসনে বিদেশ-বিভূঁইয়ে, তারপর দেশে ফেরার তীব্র আকুলতা থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরতে না পারার এক বুক বেদনা নিয়ে সুদীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর প্রবাস জীবন পাড়ি দিয়েছেন তিনি!  নাম তাঁর শহীদ কাদরী। আশির দশকে বন্ধুদের প্রতি অভিমান করে (তাঁর ভাষায়) দেশ ছেড়ে ছিলেন। আমেরিকার জ্যামাইকায় তাঁর বাসভবনে বসে কবি আলফ্রেড খোকনের সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতার এই বিশেষ অংশ তাঁরই স্মরণে কবি বন্ধু আলফ্রেড খোকনের অনুমতি নিয়ে প্রকাশিত হলো, থিয়েটারওয়ালা’র বর্তমান সংখ্যায়। কবি শহীদ কাদরীকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন- সম্পাদক]

ঋত্বিকের দেশ বিদেশের নাট্যমেলা

Written by বিদ্যুৎ মৈত্র.

ডিসেম্বর ২০১৬।
এই মাসের ৯ তারিখ থেকে ৩৭ বছরের নাট্যদল ‘ঋত্বিক’-এর ১৬ বছর বয়সী ‘দেশ বিদেশের নাট্যমেলা’ শুরু হয় সাড়ম্বরে। উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের নাট্যকর্মী গোলাম কুদ্দুস। ভুল বললাম- আমাদের গোলাম কুদ্দুস। ভারতের গোলাম কুদ্দুস। কাঁটাতারের বেড়া তুলে দিলে অখণ্ড পৃথিবীতে একটাই উঠোন। এটাই সত্যি। রাজনৈতিক বেড়া তুলে দিলে অখণ্ড পৃথিবীতে একটাই সংস্কৃতির উঠোন। ‘রাজনৈতিক বিভেদ থাকলেও সংস্কৃৃতির বিভেদ যেনো না থাকে’- এ কথা শিখিয়ে যান আমাদের গোলাম সাহেব। উদ্বোধক হিসেবে তিনি বলে যান বাংলাদেশ ও ভারতের নাট্যদলগুলোর নাট্যচর্চার পার্থক্য ও মিল নিয়েই এগিয়ে চলেছে নাট্যচর্চা।

ঢাকার থিয়েটারে উপেক্ষিত: বাইরের প্রাজ্ঞ নাট্যজনও

Written by বিপ্লব বালা.

‘সাহিত্যে হয়তো সাহিত্য আছে, কিন্তু যে মানুষ তা সৃষ্টি করে সে সত্যিই প্রায়ই মানুষ নয়’ (জীবনানন্দের চিঠি)
‘তার আগে বলো তুমি কোন্ দলে’-শঙ্খ ঘোষ

শিল্প-সাহিত্যের নানা মাধ্যমে উপেক্ষিতজন হলেন সমালোচক-বিশ্লেষকগণ। বাংলা নাগরিক সংস্কৃতিতেই যেন বিতর্ক-বাহাস-বিবেচনা সন্দেহের চোখে দেখা হয়: যারা নিজেরা কিছু পারে না করতে তারাই কেবল পরের দোষ ধরে বেড়ায়। স্বয়ং জীবনানন্দ অক্ষম সমালোচকদের সাফ সাফ জানিয়ে দেন- ‘বরং নিজেই তুমি লেখ নাকো একটি কবিতা’- বলে। সেতো অক্ষমদের বেলা অথচ তিনিই যোগ্য সমালোচকদের যেচে বলে বেড়াতেন- যেন তাঁরা লেখেন, বিশ্লেষণ করেন কবিতা। আর সেটাই তো স্বাভাবিক।

মাজেদ রানা: জন্ম যদিও উত্তরবঙ্গে তুমি নট বাংলার

Written by মামুনুর রশীদ.

সব সময়ই মনে হতো তিনি আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। কিন্তু হিসাব করে দেখছি তিনি আমার সমানই, ৬৮ পেরিয়ে ৬৯ এ পা দিয়েছেন। কিন্তু আরেক হিসাবে শান্ত, স্থিতধী, কল্পনায় ডুবে থাকা স্বল্পভাষী মানুষটি সত্যিই আমাদের চেয়ে বড়। অভিনয় দিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গ থেকে সারা দেশে একটা ঝড় তুলেছিলেন। চলচ্চিত্র, টেলিভিশনের মায়ামৃগতে কখনো আকৃষ্ট হননি। মাটি আঁকড়ে পড়ে থেকেছেন দিনাজপুরে। ছোটখাটো একটা চাকরি করে ছুটে যেতেন ‘নবরূপী’র মহড়ায় বা আড্ডায়।

পশুবাদ

Written by অপু শহীদ.

[ভাবনা উৎস জর্জ অরওয়েলের ‘এনিমেল ফার্ম’ উপন্যাস]
চরিত্রলিপি
মানুষ: ভুট্টা, উর্দি, হেমলার। শুয়োর: গর্বর, মুস্তান, তোজো, লোফা, নসু। কুকুর: জার্নেল। ঘোড়া: ফিদা, জিনান। মুরগি, পায়রা, গাধা, কাক, গরু, বিড়াল, ক্যাঙ্গারু, শিয়াল, ছাগল, ভেড়া।

দৃশ্য- এক

[খামারের একদিকের অংশবিশেষ দেখা যায়। শুয়োর, ঘোড়া, গরু, ভেড়া-জাতের পশুসকলকে আলাদা আলাদা খোয়াড়ে রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খড়ের গাদা গাছপালা মাচা ইত্যাদি পশুখামারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেখা যাচ্ছে। খামারটা লোকালয় থেকে বেশ দূরে। বনভূমির কাছাকাছি। গাছে গাছে নানাবিধ পাখি এবং মাঝে মাঝেই হৃষ্টপুষ্ট বিড়াল ঘোরাফেরা করে। খামারের উপর দিকে নাম লেখা ‘চাঁদ তারা খামার’।

পশুসকল কয়েকটা কোরাস দলে ভাগ হবে। কোরাসদল কোরিওগ্রাফিসহ গান করবে।]

রূপকথার প্রত্যাবর্তন: যাদুর বোকা-বাক্সেও

Written by বিপ্লব বালা.

[আসাদুজ্জামান নূর-এর ৭০ তম জন্মবার্ষিকীতে আমাদের সবার উষ্ণ শুভেচ্ছা-সম্পাদক]

‘ব্যক্তির বিকাশ’ বলে একটা কথা আছে। আমাদের এই দেশ-সমাজ-রাষ্ট্রে সেটা তো তেমন ঘটে না। অথচ তাই দিয়েই নাকি পরিমাপ করা যায়-কতখানি ব্যক্তির বিকাশের অনুকূল কি প্রতিকূল সে দেশ-সমাজ-রাষ্ট্র। তবু তারমধ্যেও ব্যক্তির বিকাশ দেখা যায়। আলাদা করে চোখে পড়ে তখন তাকে। দশের ভিড়ে তখন তিনি যেন হয়ে ওঠেন একাদশ। সমাজের নানা পেশার মানুষের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে চলে। তাঁকে তখন সকলে বিশেষ বলে, প্রতিভাবান বলে চিনে নেয়। সাধারণের মধ্যে অসাধারণ হয়ে ওঠেন তিনি। পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, আরে তাঁকে তো আলাদা করে চোখে পড়েনি কখনো তেমন! তিনি কীকরে আর-সকলের মধ্যে থেকেও হয়ে ওঠেন এহেন ক্রমব্যক্তিমান। যাকে আগে আলাদা তেমন লাগেনি তো! কীকরে তবে ব্যক্তির এমতো ‘হওয়ার’, ‘হয়ে ওঠার’ যাদু সংঘটিত হয়? সেবুঝি এক বিস্ময়- ব্যক্তির সত্তাবিকাশের- ‘যে সত্তার স্বপ্ন দেখে/ মানবসভ্যতা চিরকাল।’

ঢাকা ঢাকা ডাক পাড়ি।। ঢাকা গেছে কার বাড়ি [৪]

Written by বিপ্লব বালা.

ফরিদপুর টাউন থিয়েটার: কিশোরবেলার মহারঙ্গশালা

বছরে অন্তত একবার দিনকয়েকের মহোচ্ছব ছিল আমাদের। সেই সে কিশোরবেলায়। আমি আর মাহাবুব- পকেট খালি দুই হাভাতে বালক-বন্ধু, সন্ধে থেকে ঘুরঘুর করি টাউন থিয়েটারের সিনেমা হলে কী পরের দিকে জসীমউদদীন মঞ্চের বাইরে। টানা তিনদিনে তিন নাটক। ‘প্রফুল্ল’, ‘দায়ী কে’, ‘কিন্তু কেন’- হাতে লেখা নাকি ছাপানো পোস্টার দেখি দেয়ালে দেয়ালে। কী যে যাদুর বাঁশির কুহক হাতছানি তাতে। ফরিদপুরের মহানটবর যামিনী লাহিড়ী, অনিল কুণ্ড, সুধীর চক্রবর্তী, দ্বিজেনবাবু, কালীপদ কম্পাউন্ডার, মহীউদ্দিন আহমেদ কেবল নন- ঢাকা থেকে আসবে এবার খলিল, চন্দনা, আনোয়ারা। নাটকের নাম ‘সাগর সেঁচা মানিক’। ‘সিরাজোদ্দৌলা’র আলেয়া আর ‘রূপবান’-এর তাজেল- কোন সে মায়া ছায়ালোক থেকে অবতীর্ণ হবে আমাদের এই শহরে। তবে রূপকথার কল্পলোক চাক্ষুস হবে কী করে? নাটকের কার্ড বা টিকিটের নাগাল মেলে কী করে যে! তবু সন্ধে হতে ঘুর ঘুর দুই ফটিক-তারাপদ মঞ্চ মিলনায়তনের দরজায়-জানালায়। যদি কারো দয়ায় মেলে ভেতরে ঢোকার সুযোগ। যতই নাটক শুরুর ঘন্টা বাজে ততই মত্ত মরিয়া নাছোড় রোখ ছুটিয়ে মারে- কোনোমতে কী করে ঢুকি সে রঙ্গনাট্যশালায়! ধন্য আশা কুহকিনী।

মণিপুরি থিয়েটারের নাট্যমেলা: নগর মিলেছে গ্রামের মঞ্চে

Written by পাভেল রহমান.

নতুন বছর ২০১৭ এর আগমনী বার্তা যখন কড়া নাড়ছে দরজায় তখন নাট্যাঙ্গনে লেগেছে উৎসবের ঢেউ। নানা শিরোনামের ভিন্ন ভিন্ন উৎসব হচ্ছে শহর থেকে গ্রামে। এসব উৎসবগুলোতে নামের ভিন্নতা চোখে পড়লেও আয়োজনের ভিন্নতা খুব একটা চোখে পড়ে না। স্মৃতির পাতায় মনে রাখার মতো জমা হচ্ছে কয়টা উৎসব? পুঁজিবাদী বিশ্বায়নে প্রায় সব উৎসবই তো এখন কর্পোরেট মাড়কে বন্দি। প্রায় সব উৎসবেই তো লেগেছে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের স্টিকার। পুঁজিবাদী অর্থনীতির এই সময়ে দাঁড়িয়ে পুঁজির বিপরীতে শুধু মানবিক ও সামাজিক শক্তির সংগঠিতরূপকে পুঁজি করে উৎসব আয়োজন তো এখন অলীক কল্পনা। এই কর্পোরেট সংস্কৃতির আগ্রাসনের স্রোতে ভাসছে নাট্যাঙ্গনও।

জন্মদিনের আলাপনে আজাদ আবুল কালাম

Written by সাক্ষাৎকার- বিপুল শাহ, আহমাদ মোস্তফা কামাল ও হাসান শাহরিয়ার.

[২৬ অক্টোবর, বুধবার, ২০১৬। আজাদ আবুল কালামের ৫০তম জন্মবার্ষিকী। এটিকে উপলক্ষ্য করে তার বন্ধুসকল, যারা রাজনীতি-নারী আন্দোলন-সাহিত্য-চিত্রকলা-টিভি মিডিয়া-চলচ্চিত্র-সাংবাদিকতা-থিয়েটারে জড়িয়ে আছে নানাভাবে- উদযাপন করেছে ‘তারুণ্য ও তাড়নার ৫০।। আজাদ আবুল কালাম’ শীর্ষক নাট্য ও মিলনমেলা। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর তার মঞ্চ-নির্দেশনার নাটক মঞ্চায়ন ও আড্ডা-বৈঠক নিয়ে সাজানো হয়েছিল এই উদযাপন পর্ব। আজাদ আবুল কালামের ৫০ পূর্তিতে ছোট্ট একটি সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়েছিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছে- বিপুল শাহ, আহমাদ মোস্তফা কামাল ও হাসান শাহরিয়ার। সাক্ষাৎকারটি অনুলিখন করেছে- প্রাচ্যনাট সদস্য প্রদ্যুৎ কুমার ঘোষ, বিন-ই-আমিন (টুটুল), তানজিম ইমরান মাহমুদ]

দ্য মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং [লো মালওঁতুদু]

Written by আলব্যের কামু.

অনুবাদ - তানভীর নাহিদ খান

প্রথম অঙ্ক

প্রথম দৃশ্য

(বিকেল, একটি ছোট সরাইখানার অভ্যর্থনা কক্ষ, ছিমছাম ও পরিচ্ছন্ন।)

মা
সে ফিরে আসছে। সে থাকতে চায়।

মার্থা
তুমি কি নিশ্চিত?

মা
সে তাই বললো। তুই চলে যাওয়ার পর বললো।

মার্থা
একাই?

মা
তাতো বলেনি।

মার্থা
তাকে কি খুব মালদার মনে হয়েছে? সাথে কি প্রচুর টাকা এনেছে?

সাঈদ আহমদের নাট্য নিরীক্ষা: অ্যাবসার্ড রূপকল্প, বাংলার মেটাফর, উদারনৈতিক মানবতাবাদ ও জাতীয়তাবাদের অন্বয়

Written by শাহমান মৈশান.

যদি একটি লেখা/কথনের সামাজিক, ভাবাদর্শিক ও অজ্ঞানের নিয়ন্ত্রণসহ নানা শর্তের ফলাফল হয়, তাহলে এই কথনেরও কোনো একক কর্তা নেই। আপনারাও এর ভাগিদার, টীকাকার, রচনাকার। অতএব, আমার অহং নয়, বরং আমাকে নির্মাণের শর্তাবলী, আমারই এক সচেতন বিন্যাসে, পলিমিক বা তার্কিক উপায়ে বিরাজমান বাহাসের অনেক উপাদানের সাথে বিরোধিতার মাধ্যমে, নাকচ করার ভেতর দিয়ে, আবার সমর্থন ও সংশ্লেষের আঁকশি নিয়ে এই লেখা সাঈদ আহমদের বহুমাত্রিক চর্চার আধার নয়। এমনকি তাঁর সাতরঙা জীবনের মহিমাকীর্তনও নয়, একান্তই তাঁর নাটকের বিশ্লেষণ ও মূল্য নিরূপণের উদ্দেশ্যে মিশ্র প্রণালীতে রচিত এ লেখা। ডিসকোর্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এও পরিশেষে এক টুকরা অভিমত মাত্র, যদিও মতামত প্রতিষ্ঠাই এই লেখার লক্ষ্য নয়, বরং অন্য মত বা চিন্তা সৃষ্টিতে অনুঘটকালি করাও এর উদ্দেশ্য হতে পারে। এমনকি, নাট্যকার সাঈদ আহমদকে নিয়ে তর্কে জড়ানোর মাধ্যমে অন্য তর্ক দিয়ে প্রভাবান্বিত ও রূপান্তরিত মতামতের ভেতরে, বসতি স্থাপনের তৎপরতা হিসেবেও এই লেখাকে বিবেচনা করা যেতে পারে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চণ্ডালিকা’, ‘চিত্রাঙ্গদা’ ও ‘ডাকঘর’র বুনন খুলে শাহমান মৈশানের নয়া বুনন ‘প্রকৃতি চিত্রা ও অমলের চাড়ালনামা’ মোকাবিলা

Written by শান্তনু হালদার.

‘প্রকৃতি চিত্রা ও অমলের চাড়ালনামা’ প্রযোজনাটি রবীন্দ্রনাথকে ভর করে আবার রবীন্দ্রনাথ থেকে মুক্ত হয়ে, শূন্য আয়তন থেকে উৎসারিত অভিনেতার দেহভঙ্গি,স্বরভঙ্গি,শব্দের উচ্চারণ, ইমেজ, রং, রেখা, আলোর মধ্যে থাকা অর্থের একটি নৈর্ব্যক্তিক কাঠামো। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের একটি প্রযোজনা। এটি ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা এবং ভারতের কলকাতা ও শান্তিনিকেতনে মঞ্চস্থ হয়েছে। প্রযোজনাটি স্পষ্ট করে, এটি নির্দেশক ও অভিনেতার অবচেতনের সত্তা সন্ধানী নিমগ্ন ধ্যান। একই সাথে প্রযোজনাটি সময় সনাক্তকারী হুলও (পিন্স) বটে।